সাইবার হামলায় অচল ছিল উত্তর কোরিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট
‘পিএইচপি’ প্রোগ্রামিং ভাষার ত্রুটি ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে ইন্টারনেট সমস্যা দেখা দিয়েছে এর সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এই বিভ্রাটের কোনো সম্পর্ক নেই।
সাইবার হামলার শিকার হয়েছিল উত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট ব্যবস্থা। এতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি ওয়েবসাইট বন্ধ হয়ে যায়।
মার্কিন নেটওয়ার্ক নজরদারি কোম্পানি ‘কেনটিক’-এর বিশ্লেষণ বলছে, এ সপ্তাহে সাইবার হামলার কারণে উত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট সংযোগে বারবার বড় ধরনের বিভ্রাট ঘটেছে।
এ সাইবার হামলার ফলে দেশটির রাষ্ট্রপরিচালিত বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছিল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
শুক্রবার কেনটিক-এর ইন্টারনেট বিশ্লেষণ বিষয়ক পরিচালক ডৌগ মাডোরি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট ব্যবস্থায় ভিয়েতনাম ও ফিলিপিন্সের মতো জায়গাগুলো থেকে কয়েক দফায় ট্রাফিকের ঢেউ এসেছিল।
একই সময়ে, মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ৩২ ঘণ্টার ব্যবধানে উত্তর কোরিয়ার বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট অকার্যকর হয়ে পড়েছিল।
“এই ট্রাফিক বা নেটওয়ার্ক চাপ একইসঙ্গে শুরু হয়েছিল এবং তা মূলত ভিয়েতনাম ও ভেনেজুয়েলা থেকে আসছিল। এটা নিশ্চিতভাবেই ডিসট্রিবিউটেড ডিনায়াল-অফ-সার্ভিস বা ডিডিওএস সাইবার হামলা।”
কেনটিক-এর সংগৃহীত উপাত্তে দেখা গেছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সকাল ১১টা নাগাদ উত্তর কোরিয়ার নেটওয়ার্ক ট্রাফিকে হঠাৎ এই তীব্র চাপ শুরু হয়।
মাডোরি বলেছেন, এ উপাত্তের মাধ্যমে হামলাকারীদের আসল পরিচয় বা কারা এর পেছনে রয়েছে তা শনাক্ত করা সম্ভব নয়। কারণ, কেনটিক কেবল উত্তর কোরিয়ার দিকে পরিচালিত ট্রাফিকের নির্দিষ্ট অংশই বিশ্লেষণ করতে পেরেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, এ ইন্টারনেট বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে দেশটির নিজস্ব শীর্ষস্তরের ডোমেইন ‘ডটকেপি’ ব্যবহারকারী ৪০টিরও বেশি সরকারি ওয়েবসাইটে।
এর মধ্যে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘কেসিএনএ’-এর ওয়েবসাইটও রয়েছে।
দক্ষিণ কোরীয় সংবাদমাধ্যমে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার অনিশ্চিত বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থাও এ সংযোগ বিচ্ছিন্নতার পেছনে অন্যতম কারণ হতে পারে।
এ সপ্তাহের শেষদিকে ‘পিএইচপি’ প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজের ত্রুটি ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে যে ইন্টারনেট সমস্যা দেখা দিয়েছিল এর সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার এই বিভ্রাটের কোনো সম্পর্ক নেই।
কড়া নজরদারিতে থাকা উত্তর কোরিয়ার ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক অচল হয়ে পড়ার ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়।
এর আগে, ২০১৪ সালের শেষদিকে, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে নিয়ে নির্মিত সনি পিকচার্সের এক কাল্পনিক হত্যা প্রচেষ্টাভিত্তিক হাসির ছবিকে কেন্দ্র করে বিতর্ক দেখা দিলে পুরো দেশটিতে টানা কয়েক ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ ইন্টারনেট পরিষেবা স্তব্ধ হয়ে পড়েছিল।
