শীর্ষ প্রযুক্তি জায়ান্টদের বিরুদ্ধে ‘হুশিয়ারি’ বাইডেনের
প্রাইভেসি প্রশ্নে প্রশাসনের সদিচ্ছার প্রতিফিলন হিসেবে বাইডেনের এই বক্তৃতায় ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফ্রান্সেস হাউগেন।
নিজের দ্বিতীয় স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন বক্তৃতায় সিলিকন ভ্যালির বিভিন্ন শীর্ষ কোম্পানিকে নিয়ন্ত্রণে আনতে তুলনামূলক কঠোর নীতিমালা জারির কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।
প্রযুক্তি খাতের বেশ কিছু সংখ্যক দীর্ঘস্থায়ী প্রাইভেসি, সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা বিষয়ক সমস্যা সমাধানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট দুই দলেরই সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে উঠে এসেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জের প্রতিবেদনে।
এক ঘণ্টারও বেশি দীর্ঘ এই বক্তৃতায়, প্রযুক্তি খাতে ব্যবহারকারীদের ডেটা সুরক্ষা ও প্রতিযোগিতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন আইন পাশ করতে মার্কিন কংগ্রেসকে আহ্বান জানিয়েছেন বাইডেন।
“অ্যান্টিট্রাস্ট নিয়ন্ত্রকদের ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি নিজেদের পণ্যে শীর্ষ অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর অন্যায্য সুবিধা নেওয়ার ব্যবস্থা বন্ধ করতে ‘দ্বিদলীয়’ আইন পাশ করুন।” --বলেন বাইডেন।
“শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে অনলাইনে শিশু ও তরুণদের ব্যক্তিগত ডেটা সংগ্রহ থেকে বিরত রাখতে, শিশুদের টার্গেট করে এমন বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করতে ও আমাদের সবার কাছ থেকে সংগ্রহ করা ব্যক্তিগত ডেটায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে দ্বিদলীয় আইন পাশের এটিই উপযুক্ত সময়।”
ভার্জ বলছে, এই আহ্বানে গত বছর বাইডেনের প্রথম ইউনিয়ন বক্তৃতার প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায়। শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তার বিষয়টি দীর্ঘ সময় ধরেই কংগ্রেস ও বাইডেন প্রশাসনকে সমস্যায় ফেলেছে।
২০২১ সালে এটি চরম আকার ধারণ করে যখন ফেইসবুক মালিকানাধীন ইনস্টাগ্রাম ব্যবসার বিপরীতে তরুণ ব্যবহারকারীদের মানসিক স্বাস্থ্যের ঝুঁকি অগ্রাহ্য করার বিবরণসহ কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথি ফাঁস করেন ফেইসবুকের সাবেক কর্মী ফ্রান্সিস হাউগেন। এই বিষয়ে মার্কিন প্রশাসনের সদিচ্ছার প্রতিফিলন হিসেবে বাইডেনের এই বক্তৃতায় ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেনের অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাউগেন।
বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্মে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার উন্নতি নিয়ে গত দুই বছরে খুব কমই কাজ হয়েছে। মার্কিন আইন প্রণেতারা বেশ কিছু বিল উত্থাপন করলেও হাউজ বা সিনেটে ভোট প্রদানের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
এইসব বিলের মধ্যে অনেকগুলোতেই বাইডেনের মঙ্গলবারের দাবির মতো অপ্রাপ্তবয়স্কদের লক্ষ্য করে বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোতে নিষেধাজ্ঞার কথা বলা হয়েছে। এর উদাহরণ হিসেবে ধরা যায়, ম্যাসাচুসেটস রাজ্য থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট দলের সিনেটর এডওয়ার্ড মার্কি ও মিসৌরি রাজ্য থেকে নির্বাচিত রিপাবলিকান দলের সিনেটর জশ হাউলির প্রস্তাবিত অনলাইন শিশু নিরাপত্তা আইন আপডেটের বিষয়টি।
চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা বাড়াতে নিজস্ব প্রশাসনের কার্যক্রম বাড়ানোর দিকে জোর দিয়েছেন বাইডেন। এর মধ্যে আছে সেমিকন্ডাক্টর খাতে উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে দেশটির পাঁচ হাজার দুইশ কোটি ডলারের বরাদ্দ।
বাইডেনের বক্তৃতায় চীনের দিকে বেশি মনযোগ থাকলেও, তার প্রশাসন টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেবে কি না, ওই বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
“আমরা যুক্তরাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে বিনিয়োগ করছি- এমন কথা বলে আমি ক্ষমা চাইব না।” --বলেন বাইডেন।
“মার্কিন উদ্ভাবনে বিনিয়োগ এমন এক শিল্পের ভবিষ্যতকে সংজ্ঞায়িত করবে, যেখানে চীন সরকার আধিপত্য বিস্তার করতে চায়।”
