২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ভুয়া খবর ছড়ানোয় রুশ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল ওপেনএআই

রাশিয়ায় ওপেনএআইয়ের এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ নেই। অবস্থান লুকিয়ে ভিপিএন ব্যবহার করে এসব চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট পরিচালিত হচ্ছিল।

ভুয়া খবর ছড়ানোয় রুশ অ্যাকাউন্ট বন্ধ করল ওপেনএআই
রাশিয়াঘেঁষা চক্রের মাধ্যমে এআই ব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়ানোর ঘটনা এটাই একেবারে সাম্প্রতিক। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Aug 2026, 06:06 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:29 PM

অনলাইনে ভুয়া ও ভুল তথ্য ছড়ানোর গোপন প্রচারণা চালানোর অভিযোগে রাশিয়া থেকে পরিচালিত একগুচ্ছ চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করেছে মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানি ওপেনএআই।

ব্লগ পোস্টে কোম্পানিটি বলেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কিছু পোস্ট পর্যালোচনা করতে গিয়ে তারা এ ‘ব্যাপক প্রভাব বিস্তারের গোপন অপপ্রচারের’ সন্ধান পেয়েছে।

তদন্তের পর ওপেনএআই বলেছে, পুরো প্রচারণামূলক কার্যক্রমটি গড়ে তোলা হয়েছিল এমন এক ওয়েবসাইটকে কেন্দ্র করে, যেখানে অন্যান্য একাডেমিক গবেষণা চুরির পাশাপাশি ভুল তথ্য যোগ ছিল।

এ ওয়েবসাইটে ‘সারভৌমত্ব সূচক’ প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে রাশিয়াকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরা হয়েছে। পুরো কার্যক্রমে নিজেদের রুশ পরিচয় আড়াল করার চেষ্টাও করেছিল চক্রটি।

রাশিয়াঘেঁষা এ চক্রের মাধ্যমে এআই ব্যবহার করে ভুয়া খবর ছড়ানোর ঘটনা এটাই একেবারে সাম্প্রতিক। রাশিয়ায় নিজেদের এআই মডেল ব্যবহারের সুযোগ দেয় না ওপেনএআই।

কোম্পানিটি বলেছে, প্রযুক্তিগত অবস্থান লুকিয়ে ভিপিএন ব্যবহার করে এসব চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করা হচ্ছিল।

এর আগে, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতেও ‘রাইবার’ নামের এক রুশ সমর্থিত সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সম্পৃক্ত চ্যাটজিপিটি অ্যাকাউন্টগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল ওপেনএআই।

যুক্তরাজ্য সরকারের ভাষ্য, রাইবার আংশিকভাবে রাশিয়ার ‘প্রেসিডেন্সিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত, রাষ্ট্রীয় কোম্পানি ‘রস্টেখ’-এর অর্থায়নপ্রাপ্ত এবং রুশ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে কাজ করে থাকে।

অনলাইনে এ প্রভাব বিস্তারের বিষয়ে মন্তব্যের জন্য লন্ডনে অবস্থিত রাশিয়ার দূতাবাস ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সাড়া পায়নি সিএনবিসি।

প্রভাব বিস্তারের বড় পরিকাঠামো গড়ে তুলেছিল রুশ চক্র

তদন্তে পাওয়া তথ্যের বিস্তারিত তুলে ধরে ওপেনএআই বলেছে, এ চক্রের পরিচালকরা সাবস্ট্যাক, টেলিগ্রাম, এক্স, ফেইসবুক ও লিংকডইনে কমেন্ট পোস্টের জন্য রুশ ভাষায় চ্যাটজিপিটিকে প্রম্পট বা নির্দেশনা দিত।

এসব লেখা যে কোনো রুশ নাগরিক তৈরি করছেন তার ভাষাগত কোনো সুত্র বা ছাপ যেন না থাকে চ্যাটজিপিটিকে তা গোপন রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। তৈরি করা কনটেন্টের বড় অংশ ব্যবহৃত হয়েছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল বার্ক ইনস্টিটিউট’ বা আইবিআই নামের এক সংগঠনকে প্রচারের কাজে।

সংগঠনটির ওয়েবসাইটে আসল একাডেমিক গবেষণাপত্র কপি করে প্রকাশ করা হত, যেখানে অনেক সময় ভুল গবেষকের নাম বা ভূয়া তথ্য থাকত।

এ ছাড়া, এ প্রচারণা থেকে ‘সারভৌমত্ব সূচক’ তৈরি হয়, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়ার প্রশংসা করা ও পশ্চিমা দেশগুলোকে খাটো করে দেখানো।

ওপেনএআই বলেছে, তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ মানুষের ওপর এ প্রচারণার প্রভাব সীমিত বলে মনে হলেও অপারেশনটির মূল গুরুত্ব এর শ্রোতা সংখ্যার মধ্যে ছিল না, বরং তারা যেভাবে ন্যারেটিভ তৈরি করেছিল, সেটাই ছিল সবচেয়ে উদ্বেগের।

চ্যাটজিপিটি দিয়ে তৈরি এসব পোস্টের পেছনে ছিল ‘বিশ্বাসযোগ্য এক কোম্পানি, ভুয়া বিশেষজ্ঞ দল, পুনর্মুদ্রিত একাডেমিক গবেষণা ও প্রচলিত এক নিজস্ব ঝুঁকি সূচক’।

এআই কোম্পানিটি সতর্ক করে বলেছে, কীভাবে এ ধরনের অপপ্রচারকারীরা এআইকে সহায়ক এক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে নিজেদের ভুয়া কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে, মূল উৎস লুকিয়ে মনপুত ন্যারেটিভ ছড়াতে ও দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিসরে প্রভাব ফেলার মতো মাধ্যম তৈরি করতে পারে এটা তারই প্রমাণ।

“তবে এর পাশাপাশি স্পষ্ট হয়েছে, এআইয়ের ওপর এ অতি-নির্ভরশীলতাই শেষ পর্যন্ত তাদের পুরো গোপন মিশনকে প্রকাশ্যে ফাঁস করেছে।”