স্পেসএক্স, টেসলার শেয়ারে উত্থান, ফের ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি মাস্ক
দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের আনুমানিক সম্পদ ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। দুজনের সম্পদের ব্যবধান ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
স্পেসএক্স ও টেসলার শেয়ারের দাম বাড়ায় এক দিনেই ৬১ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে ইলন মাস্কের আনুমানিক সম্পদ। এর ফলে ফের ট্রিলিয়নেয়ার হওয়ার দিকে এগুচ্ছেন বিশ্বের শীর্ষ এই ধনী।
শুক্রবার মার্কিন পুঁজিবাজারে লেনদেনের একপর্যায়ে তার সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭৯ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
ফোর্বসের রিয়েল-টাইম বিলিয়নেয়ার্স ইনডেক্স অনুযায়ী, আগের দিনের তুলনায় মাস্কের সম্পদ বেড়েছে ৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ। ২ অক্টোবর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের হিসাব এটি।
স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম এদিন ৭ শতাংশের বেশি বেড়ে ১৫৮ দশমিক ৮৪ ডলারে ওঠে। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় কয়েকটি সফল উৎক্ষেপণের পর কোম্পানিটির শেয়ারে এই উত্থান দেখা যায়।
একই সময়ে টেসলার শেয়ারের দামও প্রায় ৫ শতাংশ বেড়ে ৩৭১ দশমিক ৩২ ডলারে ওঠে। এর আগে কোম্পানিটি তৃতীয় প্রান্তিকের গাড়ি সরবরাহের তথ্য প্রকাশ করেছে।
জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর—এই তিন মাসে টেসলা ৪ লাখ ৮৬ হাজার ৫৩২টি গাড়ি সরবরাহ করেছে। বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস ছিল ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৮৯৬টি। অর্থাৎ পূর্বাভাসের চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার গাড়ি বেশি সরবরাহ করেছে কোম্পানিটি।
এই ফলাফলের পর টেসলার শেয়ারদরে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। এর আগে এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলেছে, দুই বছর ধরে বার্ষিক গাড়ি সরবরাহ সংখ্যা কমার পর চলতি বছর সেই ধারার পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন বিনিয়োগকারীরা।
কোম্পানিটি আগামী ২১ অক্টোবর তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক ফল প্রকাশ করবে।
ফোর্বসের তালিকায় মাস্ক এখনও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসের আনুমানিক সম্পদ ৩৭০ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। দুজনের সম্পদের ব্যবধান ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি।
আগেও ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল সম্পদ
চলতি বছরের জুনে স্পেসএক্সের শেয়ারের মূল্যবৃদ্ধির পর মাস্কের সম্পদ প্রথমবার ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়ায়। ১২ জুন একপর্যায়ে তাঁর আনুমানিক সম্পদ ১ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় বলে ফোর্বস লিখেছে।
জুনে স্পেসএক্সের শেয়ার ১৫০ ডলারে লেনদেন শুরু করার পর কোম্পানিটির বাজারমূল্য প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। এর প্রভাবে মাস্কের সম্পদের আকারও দ্রুত বেড়ে যায়।
তবে ওই অবস্থান স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী সময়ে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম কমে যাওয়ায় মাস্কের সম্পদের হিসাবও নেমে আসে। জুলাইয়ে একপর্যায়ে তা ৭০০ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমেছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
শুক্রবারের বাজারদরের পর আবারও তার সম্পদের হিসাব ১ ট্রিলিয়ন ডলারের সীমার কাছাকাছি এসেছে।
তবে এটি নগদ অর্থের হিসাবে মাস্কের হাতে যোগ হওয়া ৬১ বিলিয়ন ডলার নয়। তার সম্পদের বড় অংশ কোম্পানির শেয়ার ও অন্যান্য সম্পদের মূল্যায়নের সঙ্গে যুক্ত। ফলে শেয়ারবাজারের দামের পরিবর্তনের সঙ্গে এই হিসাবও দ্রুত বদলাতে পারে।
