০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

সংবিধানেই এআইয়ের বিষয়-আশয় যোগ করছে গ্রিস

এ সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল বিশ্ব নিশ্চিত করতে চায় গ্রিস।

সংবিধানেই এআইয়ের বিষয়-আশয় যোগ করছে গ্রিস
দেশটির শক্তিশালী সরকারি পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম এখন বিবাহবিচ্ছেদ থেকে শুরু করে ঘরোয়া ফুটবল ম্যাচের টিকিট কেনা পর্যন্ত সব ধরনের কাজ পরিচালনা করছে। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 May 2026, 12:04 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:35 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের দ্রুত উত্থান ও এর সম্ভাব্য ঝুঁকি ঠেকাতে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে গ্রিস।

প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই মানবতাকে ছাপিয়ে না যায় এবং ব্যক্তির স্বাধীনতা ও সামাজিক সেবায় নিয়োজিত থাকতে বাধ্য থাকে সেই লক্ষ্যেই দেশটির এ উদ্যোগ।

গণতন্ত্রের সূতিকাগার হিসেবে খ্যাত দেশটি এ সাংবিধানিক সুরক্ষাকবচের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত ডিজিটাল বিশ্ব নিশ্চিত করতে চায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

বৃহস্পতিবার এসব প্রস্তাবিত সংশোধনী উপস্থাপন করেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকোস মিতসোতাকিস।

গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও মানবজাতির প্রতি এআইয়ের ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান উদ্বেগের মধ্যে আগামী প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখার জন্য এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

নিজের ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী দলের আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্যে মিতসোতাকিস বলেছেন, “এ সাংবিধানিক সংশোধন প্রক্রিয়ায় আমরা এমন এক বিশ্বের যত্ন নেব, যা আমাদের সন্তানদের আগামী দিনের ঠিকানা হবে। আর এটি গুরুত্বপূর্ণ।”

প্রস্তাবিত এসব পরিবর্তনের মধ্যে এমন এক ধারা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে, “এআই ব্যক্তির স্বাধীনতা ও সমাজের সমৃদ্ধির সেবায় নিয়োজিত থাকবে। এ ধারা নিশ্চিত করবে, যেন এআইয়ের বিভিন্ন ঝুঁকি প্রশমিত এবং এর সুবিধাগুলো বাস্তবায়িত হয়।”

অন্যান্য আরও ডজনখানেক পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে ডাকযোগে ভোটদানের সুযোগ বাড়ানো, বাধ্যতামূলক স্কুল শিক্ষার মেয়াদ নয় বছর থেকে বাড়িয়ে ১১ বছর করা এবং ভূতাপেক্ষ কর ব্যবস্থা নিষিদ্ধ করা।

ভূতাপেক্ষ কর ব্যবস্থা এমন এক আইনি প্রক্রিয়া, যেখানে সরকার কোনো নতুন কর আইন বা করের হার পরিবর্তন করে অতীতের কোনো নির্দিষ্ট সময় থেকে কার্যকর করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, “জলবায়ু সংকট ও পানিসম্পদ রক্ষা থেকে শুরু করে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও এআই ব্যবহারের মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এরইমধ্যে বর্তমান সময়ে গুরুত্ব পাচ্ছে। এ বিপ্লবকেও সাংবিধানিকভাবে ব্যক্তির স্বাধীনতা ও সামাজিক কল্যাণের সেবায় নিয়োজিত করতে হবে।”

সংবিধান সংশোধনের এ দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় পরপর দুটি সংসদের ধারাবাহিক ভোটের প্রয়োজন হয় এবং সাধারণত এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থনের আবশ্যকতা থাকে।

আট বছর আগে ভয়াবহ এক আর্থিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পর থেকেই গ্রিস এআই ও আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। যার প্রতিফলন ঘটেছে তাদের সীমান্ত নজরদারি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও কর প্রশাসনের পুনর্গঠনের মধ্য দিয়ে।

দেশটির শক্তিশালী সরকারি পরিষেবা প্ল্যাটফর্ম এখন বিয়েবিচ্ছেদ থেকে শুরু করে ঘরোয়া ফুটবল ম্যাচের টিকিট কেনা পর্যন্ত সব ধরনের কাজ পরিচালনা করছে।

গেল মাসে সরকার ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সম্পূর্ণ নিষিদ্ধের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে।

তাদের ভাষ্যমতে, এ পদক্ষেপটি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে অনুরূপ নিয়ম গ্রহণে চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিয়েছে গ্রিস।

দেশটির কিছু সংবিধান বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এআইকে গণতন্ত্রের সেবায় রাখার বিষয়টি আইনত বাধ্যতামূলক হওয়া জরুরি। কারণ বর্তমানে প্রধান প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কাছে অনেক তথ্য ও সক্ষমতা রয়েছে, যা কার্যকরের বিষয়টি জন-তদারকির ঊর্ধ্বে চলে গেছে।

সাংবিধানিক সংশোধনী বিষয়ে সরকারের প্রধান আইনপ্রণেতা এভরিপিডিস স্টাইলিয়ানিডিস বলেছেন, এসব পরিবর্তন এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদী এক সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে।

বর্তমানে নানা ইস্যু বা বিষয় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সংজ্ঞায়িত হচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুরক্ষা ও এর সঠিক ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মানবাধিকারের সঙ্গে জড়িয়ে আছে, যা সাংবিধানিক সংশোধনীর ক্ষেত্রে আমাদের অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।”