মার্কিন প্রযুক্তিতে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর কথা ভাবছেন ট্রাম্প
এআই প্রযুক্তির ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ আনলেও তা যে খুব সতর্কতার সঙ্গে করা হবে সে বিষয়েও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সাম্প্রতিক কিছু সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত জটিলতার পর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি টুলের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে মার্কিন প্রশাসন।
বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
অন্যান্য প্রযুক্তি কোম্পানির ব্যক্তিগত তথ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ওপেনএআইয়ের এআই টুলের মাধ্যমে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা এআই তদারকির বিষয়টি খতিয়ে দেখছি, নিয়ন্ত্রণের কৌশল নিয়ে ভাবছি। এর পাশাপাশি এই খাতে বৈশ্বিক নেতৃত্ব যেন আমাদের হাতেই থাকে, আমরা সেটাও নিশ্চিত করছি।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এমন মন্তব্যকে তার প্রশাসনের আগের নীতি থেকে বড় ধরনের বদল হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এতদিন ধরে এআই প্রযুক্তির অবাধ বিকাশে সরকার থেকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করার নীতিই অনুসরণ করে আসছিল হোয়াইট হাউস।
সম্প্রতি জনপ্রিয় এআই টুলগুলোর সম্ভাব্য হ্যাকিং সক্ষমতা বেড়েছে। অন্যদিকে চীনা প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর তৈরি এআই নিয়ে আগেই কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ওয়াশিংটন। এ দুই বাস্তবতার মুখেই ট্রাম্পের কাছ থেকে এমন মন্তব্য এল।
তবে এআই প্রযুক্তির ওপর কোনো ধরনের নিয়ন্ত্রণ আনলেও তা যে খুব সতর্কতার সঙ্গে করা হবে সে বিষয়েও স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, “আমরা এই খাতে এমন কোনো কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করতে চাই না, যার ফলে হুট করে দেখা যাবে আমরা চীনের পেছনে পড়ে গেছি।”
চীনের বর্তমান এআই নীতি নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, “চীনে এআই প্রযুক্তির ওপর কার্যত কোনো সরকারি নিয়ন্ত্রণ নেই। সেখানে যার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই কাজ চলছে।”
এ বিষয়ে বিবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি হোয়াইট হাউস।
অন্যদিকে মন্তব্যের জন্য ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীন দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেও সাড়া পায়নি বিবিসি।
সম্প্রতি চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের নিজস্ব এআই টুল নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে আলাদা দুটি হ্যাকিংয়ের ঘটনায় জড়িয়ে পড়ার কথা স্বীকার করেছে।
বুধবার ওয়াশিংটন সফরকালে এক সাংবাদিক ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের কাছে জানতে চান, তাদের টুলের মাধ্যমে অন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবস্থায় অনধিকার প্রবেশ বা হ্যাকিংয়ের ঘটনা ঘটেছে কি না।
জবাবে অল্টম্যান বলেছেন, “হ্যাঁ, এমনটা হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়।”
এদিকে, ওপেনএআইয়ের মূল মার্কিন প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি অ্যানথ্রপিক তাদের এমন এক বিশেষ এআই মডেল সর্বসাধারণের জন্য চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা ঝুঁকির কারণে আগে চালু না করার ঘোষণা দিয়েছিল কোম্পানিটি।
এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ঝুঁকি এড়াতে বাধ্য হয়ে মার্কিন সরকার নিজেই মাঝপথে হস্তক্ষেপ করেছিল।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের এপ্রিলের অভ্যন্তরীণ এক মেমোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ প্রযুক্তি উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাটসিওস চীনের বিভিন্ন এআই কোম্পানির বিরুদ্ধে মার্কিন এআই প্রযুক্তি ‘শিল্প-পর্যায়ে’ চুরির গুরুতর অভিযোগ তোলেন।
গেল সপ্তাহেও তিনি একই অভিযোগ পুনর্ব্যক্ত করে দাবি করেছন, চীনের ‘মুনশট এআই’-এর তৈরি জনপ্রিয় ‘কিমি ৩’ নামের এআই মডেলটি অ্যানথ্রপিকের তথ্য ও প্রযুক্তি চুরি করেই তৈরি হয়েছে। তবে চীন সরকার শুরু থেকেই এসব অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মিললে চীনা এআই কোম্পানিগুলোকে কঠিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে।
নিরাপত্তার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন’ বা এফসিসি এ সপ্তাহেই বিদেশ থেকে তৈরি যে কোনো নতুন ধরনের হিউম্যানয়েড রোবট আমদানির ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে।
চীনে উন্নত অধিকাংশ এআই মডেলই ওপেন সোর্স বা মুক্ত উৎসের, যার অর্থ এগুলো তৈরির পর অনলাইনে বিনামূল্যে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়, যাতে উপযোগী কম্পিউটার সরঞ্জাম রয়েছে এমন যে কোনো ব্যক্তি তা ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারে।
সম্প্রতি এই ওপেন সোর্স বা মুক্ত এআই মডেলের পক্ষে এক যৌথ বিবৃতিতে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রধান নির্বাহীরাও।
