এনভিডিয়ার পর এবার ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছুঁয়েছে অ্যাপল
এ মাসের শুরুতে চিপ নির্মাতা জায়ান্ট এনভিডিয়াকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল অ্যাপল।
বিশ্বের দ্বিতীয় কোম্পানি হিসেবে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে অ্যাপল। প্রযুক্তি খাতে শেয়ারের বড় ধরনের দরপতনের মুখে বিনিয়োগকারীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ও চিপ খাতের শেয়ার বিক্রির দিকে ঝোঁকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটির শেয়ার দর মঙ্গলবার লেনদেনের এক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৩৪২.৮৯ ডলারে পৌঁছায়। এতে কোম্পানিটির মোট বাজারমূল্য দাঁড়ায় ৫.০৪ ট্রিলিয়ন ডলার।
দিনের শেষভাগে তা কিছুটা কমে ৩৪০.০৮ ডলারে নেমে এসে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের কাছাকাছি স্থির হয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
এ মাসের শুরুতে চিপ নির্মাতা জায়ান্ট এনভিডিয়াকে টপকে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানিতে পরিণত হয়েছিল অ্যাপল।
২০২৫ সালের জুন থেকে তালিকায় শীর্ষে থাকা এনভিডিয়াই গেল বছরের অক্টোবরে প্রথম কোম্পানি হিসেবে পাঁচ ট্রিলিয়ন ডলারের মাইলফলক পেরোয়।
অ্যাপলের পণ্যের চাঙ্গা চাহিদার পাশাপাশি প্রতিদ্বন্দ্বী বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির মতো এআই খাতে অতিরিক্ত নগদ অর্থ অপচয়ের প্রতিযোগিতায় না নামার সিদ্ধান্তই কোম্পানিটির এ শেয়ার বৃদ্ধিতে মূল ভূমিকা রেখেছে।
বিশ্বজুড়ে ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণের বিপুল খরচ জোগাতে এআই কোম্পানিগুলোর ঋণ নেওয়ার প্রবণতা বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে। এর ফলে এআই খাতের শেয়ার দরপতনের মুখে অ্যাপল এ নতুন রেকর্ড গড়ল।
মঙ্গলবার ওয়াল স্ট্রিট খোলার পরপরই মার্কিন চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ধারাবাহিক দরপতন আরও বেড়েছে। এদিন ইনটেল, ‘অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস’ বা এএমডি, স্যানডিস্ক, ওয়েস্টার্ন ডিজিটাল ও ‘সিগেট টেকনোলজি’র মতো শীর্ষ কোম্পানির শেয়ারের দাম চার শতাংশেরও বেশি কমেছে।
একপর্যায়ে শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সূচক ‘নাসডাক ১০০’ সর্বোচ্চ ১.৮ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। যার মাধ্যমে জুনের শুরুতে রেকর্ড সূচকের তুলনায় তা ১০ শতাংশেরও বেশি নামল। বাজার বিশ্লেষকদের ভাষায় বিষয়টি শেয়ার বাজারের ‘কারেকশন’ বা দরপতন হিসেবে বিবেচিত।
এদিকে, মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার শেয়ার বাজার নেমে এসেছে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ের পর সর্বনিম্ন অবস্থানে। দেশটির অন্যতম শীর্ষ চিপ নির্মাতা কোম্পানি এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাং ইলেকট্রনিক্সের শেয়ারের দাম কমেছে ১০ শতাংশেরও বেশি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ইনফরমেশনের প্রতিবেদন অনুসারে, চীন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ‘ডিপ আল্ট্রাভায়োলেট’ বা ডিইউভি চিপ তৈরির যন্ত্রাংশের গণউৎপাদন শুরু করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চিপ তৈরিতে চীনা বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়াতে এবং এআই খাতে বড় অংকের মূলধন বিনিয়োগ নিয়ে নতুন করে তৈরি হওয়া দুশ্চিন্তাই এ দরপতনের মূল কারণ।
এ ছাড়া, এআই শিল্পের অভ্যন্তরীণ ‘সার্কুলার ফান্ডিং’ বা বৃত্তাকার অর্থায়ন নিয়েও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়ছে, যেখানে বিভিন্ন এআই কোম্পানি পরস্পরকে অর্থ সরবরাহ করে চলেছে।
গত সপ্তাহে গুগলের এক ঘোষণাতেও বাজারে বেশ শঙ্কা তৈরি হয়। এআই খাতের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে এ বছরে তাদের মূলধনী ব্যয় বাড়িয়ে প্রায় ২০৫ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সার্চ জায়ান্টটি।
পাশাপাশি নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ঋণাত্মক ফ্রি ক্যাশ ফ্লো রিপোর্ট প্রকাশ করেছে গুগল, যেখানে জুনের শেষ পর্যন্ত তিন মাসে তাদের হাত থেকে ৫৯০ কোটি ডলার বেরিয়ে গেছে।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় এআই প্রযুক্তির দৌড়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকাটাই এখন অ্যাপলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিজস্ব এআই মডেল তৈরিতে জটিলতা থাকায় ‘সিরি’সহ নতুন নানা সেবা চালুর ক্ষেত্রে গুগলের প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করেছে অ্যাপল। ফলে অবকাঠামোগত বড় খরচের ধাক্কা থেকে বেঁচেছে তারা, যা বর্তমানে টেক খাতের অন্যান্য বড় বিনিয়োগকারীদের চিন্তায় ফেলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গেল মাসে ম্যাকবুক ও আইপ্যাডের দাম বাড়ানো হলেও আইফোনের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তটি অ্যাপল পণ্যের চাহিদা বাড়াতে সাহায্য করেছে। এ বছরের শেষদিকে দাম বাড়ার আশঙ্কায় ক্রেতারা আগেভাগেই অ্যাপলের ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসটি কিনে নিচ্ছেন।
এ বছরে অ্যাপলের শেয়ারের দর এ পর্যন্ত ২৪ শতাংশ বেড়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি জায়ান্ট ‘ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন’-এর বাকি ছয়টি কোম্পানির পারফরম্যান্সকে অনেকটাই পেছনে ফেলেছে।
বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের পর নিজেদের তৃতীয় প্রান্তিকের আয় প্রকাশ করতে যাচ্ছে অ্যাপল। বিশ্লেষকদের অনুমান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার কোম্পানিটির রাজস্ব আয় ১৫ শতাংশেরও বেশি বাড়বে।
আরও পড়ুন…
