উন্মোচনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বন্ধ হল গুগলের নতুন এআই
গুগল বলেছে, “নতুন ফিচারটি বিভিন্ন দরকারি কাজে ব্যবহৃত হলেও আমরা এমন কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করতে দেখেছি, যা আমাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।”
বিশ্বজুড়ে উন্মোচনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গুগল আর্থে নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ছবি তৈরির ফিচার বন্ধ করে দিয়েছে গুগল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, স্যাটেলাইট ইমেইজে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ছবি যোগ হওয়ার ঝুঁকি এবং ব্যবহার নীতিমালার লঙ্ঘনের কারণে চরম সমালোচনার মুখে উন্মোচনের পরপরই ফিচারটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হয় মার্কিন সার্চ জায়ান্ট।
৩১ জুলাই এক বিবৃতিতে গুগল বলেছে, “ভূ-স্থানিক পেশাদাররা নতুন ফিচার বিভিন্ন দরকারি কাজে ব্যবহার করলেও আমরা এমন কিছু স্ক্রিনশট শেয়ার করতে দেখেছি, যা আমাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে।
“আরও শক্তিশালী সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা কার্যকর না করা পযন্ত আমরা গুগল আর্থ থেকে ফিচারটি সরিয়ে নিচ্ছি।”
এর আগে, ৩০ জুলাই গুগল বলেছিল, টুলটি শিক্ষার্থীদের অতীতের বিভিন্ন বিষয় কল্পনা করতে বা রিয়াল এস্টেটের বিপণন জোরদার করাসহ নানা কাজে সাহায্য করবে।
বিবৃতিতে গুগল আর্থের পণ্য ব্যবস্থাপক ব্রায়ান হোরোভিটজ লিখেছিলেন, “প্রথমবারের মতো আপনারা গুগল আর্থের স্যাটেলাইট, আকাশ থেকে তোলা ও থ্র্রিডি ইমেইজের পাশাপাশি ন্যানো ব্যানানা ব্যবহার করে কাস্টম ছবি তৈরি করতে পারবেন।
“কেবল গুগল আর্থে কোনো জায়গায় জুম করুন, ‘ক্রিয়েট ইমেইজ’ এ ট্যাপ করুন এবং আপনি যা দেখতে চান তা লিখে দিন।”
ফিচারটি চালু হওয়ার পরপরই বিশেষজ্ঞ মহলে উদ্বেগ দেখা দেয়।
তথ্য যাচাই বা ওপেন-সোর্স গবেষণার জন্য সাংবাদিক ও গবেষকরা স্যাটেলাইট ইমেইজের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করেন তারা সতর্ক করে বলেছেন, স্যাটেলাইট ইমেইজে হস্তক্ষেপের এ সুযোগ ভুল তথ্য ছড়ানো বা বিভ্রান্তির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এ উদ্বেগের মধ্যেই দ্রুত ফিচারটি বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় গুগল।
ভিজুয়াল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক ইভান হিল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “এ প্রযুক্তির অপব্যবহার ও অপতথ্য ছড়ানোর সুযোগ ছিল কার্যত সীমাহীন।”
কোনো রকম বাধা বা ফিল্টার ছাড়াই সব ধরনের ভুয়া দৃশ্য তৈরি করা যাচ্ছিল বলে জানান ওপেন-সোর্স গবেষক হেনক ভ্যান এস।
“আমি মেক্সিকো সীমান্তে শরণার্থী, ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্র, আমস্টারডামে বিমান দুর্ঘটনা ও গাজার এক হাসপাতালে বোমা হামলার গর্ত তৈরির চেষ্টা করেছি। গুগল কোনো অনুরোধই বাতিল করেনি!”
এদিকে, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এ টুলের সাহায্যে তৈরি কিছু ভুয়া ছবি প্রকাশ করে এর ভয়াবহতা তুলে ধরেছে।
‘ন্যাশনাল পাবলিক রেডিও’ বা এনপিআর-এর প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ইরানে ভয়াবহ আগুন জ্বলছে ও ওয়াশিংটন ডিসি বন্যায় তলিয়ে গেছে।
অন্যদিকে, বিবিসির প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, আইফেল টাওয়ার ভেঙে পড়েছে ও গিজার পিরামিড এক বড় ধসে বিলীন হয়ে গেছে।
প্রবল সমালোচনার মুখে ৩১ জুলাই দেওয়া বিবৃতিতে গুগল বলেছে, এআই দিয়ে তৈরি এসব ছবি ‘অন্য কেউ দেখার জন্য গুগল আর্থের মূল ইন্টারফেইসে ছিল না’ এবং সেগুলোতে ‘এআইয়ের মাধ্যমে তৈরি হিসেবে জলছাপ ছিল।”
২০০৫ সালে প্রথম চালু হওয়া গুগল আর্থ এমন এক ম্যাপিং অ্যাপ, যা ব্যবহারকারীদের স্যাটেলাইট ইমেইজ, থ্রিডি ভূখণ্ড ও স্ট্রিট ভিউয়ের সাহায্যে পুরো পৃথিবী ঘুরে দেখার সুযোগ দেয়। সাধারণত প্রতি কয়েক বছর পরপর গুগল এ মানচিত্র আপডেট করে।
বিষয়টি নিয়ে ইন্ডিপেনডেন্টের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি গুগল।
আরও পড়ুন…
