২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

এআই চশমা দেবে ‘সুপারহিউম্যান হিয়ারিং’ সুবিধা: গবেষণা

প্রযুক্তিটি দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষদের সাহায্যের জন্য তৈরি হলেও, তেল উত্তোলন যন্ত্র বা জনাকীর্ণ ভেন্যুর মতো শোরগোলপূর্ণ জায়গাতেও ব্যবহার করা যাবে।

এআই চশমা দেবে ‘সুপারহিউম্যান হিয়ারিং’ সুবিধা: গবেষণা
২০২৬ সালের মধ্যে এই চশমা বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 16 Aug 2025, 05:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:35 PM

বিজ্ঞানীরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত এমন এক স্মার্ট চশমা তৈরি করেছেন যা এর ব্যবহারকারীকে ‘সুপারহিউম্যান হিয়ারিং’ বা অতিমানবীয় শ্রবণশক্তির সুযোগ দেবে।  

চশমাটিতে থাকা ক্যামেরা ঠোঁটের নাড়াচাড়া কথায় রূপান্তর করে এবং শব্দ পরিষ্কারভাবে শুনতে সাহায্য করে। এটি বিশেষ করে শ্রবণ সমস্যায় ভোগা মানুষদের বা শোরগোল আছে এমন পরিবেশে থাকা কারও জন্য উপকারী।   

স্কটল্যান্ডের হেরিয়ট-ওয়াট, এডিনবার্গ, নেপিয়ার এবং স্টার্লিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি দল চশমাটি তৈরি করেছে। এর প্রশিক্ষণে ওয়াশিং মেশিনের শব্দ, যানবাহনের শব্দসহ নানা ধরনের শব্দের নমুনা ব্যবহার করা হয়েছে।

রয়াল ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর ডেফ পিপল-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১২ লাখেরও বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের শ্রবণ সমস্যা এতটাই গুরুতর যে মুখোমুখি আলাপ করাও তাদের জন্য কঠিন, তাদের জন্যই মূলত এই প্রযুক্তি তৈরি।

হেরিয়ট-ওয়াট বিশ্ববিদ্যালয়ের মাথিনি সেলাথুরাই বলেন, “আমরা হিয়ারিং এইড নতুন করে আবিষ্কার করতে চাই না, তাদের সুপারপাওয়ার দিতে চাই।

“আপনি শুধু ক্যামেরা তাকান বা যার কথা শুনতে চান তার দিকে তাকান। এমনকি একসঙ্গে দু’জন কথা বললেও, এআই ভিজুয়াল সংকেত ব্যবহার করে শুধু আপনার তাকানো ব্যক্তির কণ্ঠ আলাদা করে শোনাবে।”

এআই দিয়ে চালিত এই স্মার্ট চশমা ব্যবহারে প্রচুর কম্পিউটার প্রসেসিংয়ের প্রয়োজন হয়। শব্দের তথ্য সুইডেনের সার্ভারে পাঠানো হয়। তবে গবেষকদের দাবি, হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড বা ফাইভজি সংযোগ ব্যবহারে এটি প্রায় ‘তাৎক্ষণিক’ মনে হয়।

প্রযুক্তিটি হিয়ারিং এইড ব্যবহারকারী ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষদের সাহায্যের জন্য তৈরি হলেও, তেল উত্তোলন যন্ত্র বা জনাকীর্ণ ভেন্যুর মতো শোরগোলপূর্ণ জায়গাতেও এটি ব্যবহার করা যাবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট।

অধ্যাপক সেলাথুরাই বলেন, “বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি বড় কোম্পানি হিয়ারিং এইড তৈরি করে আর এগুলো শোরগোলপূর্ণ পরিবেশে কম কাজ করে। আমরা এই সীমা ভাঙতে চাই এবং আরও বেশি মানুষকে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের সাশ্রয়ী দামে এআই চালিত শ্রবণ সহায়তা দিতে চাই।”

গবেষকরা এরইমধ্যে হিয়ারিং এইড নির্মাতাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন এবং ২০২৬ সালের মধ্যে এই চশমা বাজারে আনার পরিকল্পনা করছেন। 

এ ছাড়া, প্রযুক্তিটি ক্লাউড-ভিত্তিক মডেল হিসেবে উন্মুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে, যেন যে কেউ উপযুক্ত ডিভাইস ব্যবহার করে এর সুবিধা নিতে পারে।