এআই নয়, আমরা এখন এলএলএম ‘বুদ্বুদে’ আছি: হাগিং ফেইস প্রধান
“এখন সব মনোযোগ, টাকা এবং জোর গিয়ে পড়ছে একটি ধারণায় যে বড় কম্পিউটিং শক্তিতে একটি বড় মডেল বানালে সেটা সব মানুষ ও কোম্পানির সব সমস্যার সমাধান করবে।”
প্রযুক্তি দুনিয়ায় যে ‘বুদ্বুদ’ নিয়ে আলোচনা চলছে তা গোটা এআই শিল্প নিয়ে নয় বরং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেলকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এবং এই বুদ্বুদ শিগগিরই ফেটে যেতে পারে বলে মনে করেন এআই কোম্পানি হাগিং ফেইসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও ক্লেম দেলাং।
মঙ্গলবার অ্যাক্সিওসের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “বুদ্বুদ প্রসঙ্গটি এখন ‘ট্রিলিয়ন-ডলারের প্রশ্ন’ তবে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা এলএলএম বুদ্বুদ ভাঙলেও এআইয়ের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে না।”
প্রযুক্তি সাইট টেকক্রাঞ্চ লিখেছে, চ্যাটজিপিটি, জেমিনাইসহ বিভিন্ন চ্যাটবটের পেছনে থাকা এলএলএম প্রযুক্তিই এখন অতিরিক্ত মনোযোগ পাচ্ছে আর এই মনোযোগ দীর্ঘস্থায়ী নাও হতে পারে বলে যুক্তি দিয়েছেন দেলাং।
তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আমরা এলএলএম বুদ্বুদের ভেতর আছি এবং এটি হয়ত আগামী বছরই ফেটে যাবে। তবে এলএলএম তো কেবল এআইয়ের একটি অংশ মাত্র। জীববিজ্ঞান, রসায়ন, ছবি, অডিও, ভিডিও এসব ক্ষেত্রে এআই এর ব্যবহার এখনো শুরুর পর্যায়ে এবং সামনে আরও বিস্তৃত হবে।”
দেলাংয়ের মতে, এলএলএমকে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে দেখা একটি ভুল ধারণা। ভবিষ্যতে ছোট বা যে কোনো বিষয়ে বিশেষায়িত এআই মডেলের ব্যবহার বাড়বে।
তিনি বলেন, “এখন সব মনোযোগ, টাকা এবং জোর গিয়ে পড়ছে একটি ধারণায় যে বড় কম্পিউটিং শক্তিতে একটি বড় মডেল বানালে সেটা সব মানুষ ও কোম্পানির সব সমস্যার সমাধান করবে।
“তবে বাস্তবে কয়েক মাস বা বছর পর দেখবেন বিভিন্ন কাস্টমাইজড, স্পেশালাইজড ছোট মডেল যেগুলো নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান দিচ্ছে।”
হাগিং ফেইস প্রধান স্বীকার করেন, এলএলএম বুদ্বুদ ফেটে গেলে তার কোম্পানিও কিছুটা প্রভাবিত হতে পারে। তবে তিনি মনে করেন পুরো এআই শিল্প এত বিশাল ও বৈচিত্র্যময় যে এক অংশ বেশি মূল্যায়িত হলেও বড় ক্ষতি হবে না।
