০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

এআই কনটেন্টে জলছাপ মোছার সুবিধা আনছে গুগল

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা কোনো কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি কি না তা যেন মানুষ দেখে সহজে ও দ্রুত চিনে নিতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই জলছাপ ব্যবহৃত হয়।

এআই কনটেন্টে জলছাপ মোছার সুবিধা আনছে গুগল
এ সুবিধা  উঠে গেলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এআই কনটেন্ট চেনা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়বে। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 17 Aug 2026, 06:06 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:26 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি ছবি ও ভিডিওতে যেসব দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক ব্যবহার করা হয় তা সরানোর সুযোগ আনতে যাচ্ছে মার্কিন সার্চ জায়ান্ট গুগল।

এক ঘোষণায় কোম্পানিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জশ উডওয়ার্ড বলেছেন, গুগলের এআই কনটেন্ট চিহ্নিত করতে সাধারণত যে পরিচিত স্পার্কল বা উজ্জ্বল তারা চিহ্ন ব্যবহার হয়, নতুন সিদ্ধান্তের ফলে তা বন্ধ বা চালুর সুবিধা পাবেন ব্যবহারকারীরা।

প্রাথমিকভাবে ‘ন্যানো বানানা’, ‘ওমনি’ ও ‘লিরিয়া’ মডেলগুলোর জন্য এই টগল বা বাটন সুবিধা যোগ হচ্ছে। পরবর্তীতে গুগলের এআই প্ল্যাটফর্ম জেমিনাই ও ভিডিও এডিটিং টুল ‘ফ্লো’তেও টগলটি আসবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গুগলের এ সিদ্ধান্ত দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক বাৈ জলছাপের আসল উদ্দেশ্যকেই ভেস্তে দিচ্ছে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে থাকা কোনো কনটেন্ট এআই দিয়ে তৈরি কি না তা যেন সাধারণ মানুষ দেখে সহজে ও দ্রুত চিনে নিতে পারে সেই উদ্দেশ্যেই ওয়াটারমার্ক ব্যবহৃত হয়। এ সুবিধা  উঠে গেলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এআই কনটেন্ট চেনা কিছুটা কঠিন হয়ে পড়বে।

গুগল বলেছে, এ সিদ্ধান্তের ফলে কনটেন্টের ভেতরে থাকা অদৃশ্য ‘সিন্থআইডি’ ওয়াটারমার্ক ও ‘সিটুপিএ’ মেটাডেটার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না। এগুলো বন্ধের জন্য ব্যবহারকারীদের কোনো টগল বা বিকল্প সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না।

তবে কোনো ভিডিও বা ছবি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি তা জানার জন্য ব্যবহারকারীকে আলাদাভাবে বাড়তি কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। যেমন, কনটেন্টটি কোনো পোর্টালে আপলোড করে পরীক্ষা করা বা এআই চ্যাটবটের সহায়তা নিয়ে সত্যতা যাচাই করা।

নতুন এ ফিচারের বৈশ্বিক ব্যাপ্তি সম্পর্কে উডওয়ার্ড বলেছেন, ওয়াটারমার্ক সরানোর সুবিধা প্রায় সব দেশেই চালু হচ্ছে, ‘কেবল যেসব দেশের আইনে ওয়াটারমার্ক রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে সেসব দেশ ছাড়া’।

যেমন ইউরোপীয় ইউনিয়নে এ সুবিধা চালু হচ্ছে না। কারণ সম্প্রতি তারা এআই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন আইন করেছে।

ইউরোপের দেশগুলোতে বাস্তবধর্মী বা আসল বলে মনে হওয়া যে কোনো ‘ডিপফেইক’ কনটেন্টে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক রাখা বাধ্যতামূলক। এ বছরের শুরুতে দক্ষিণ কোরিয়াও একই ধরনের আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে।

এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্টে চিহ্নিতকরণ বা লেবেল যোগের ক্ষেত্রে গোটা প্রযুক্তি শিল্পের নিয়মকানুন যে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে, গুগলের সাম্প্রতিক এ সিদ্ধান্ত তারই বড় প্রতিফলন।

ইন্টারনেটে সাধারণ মানুষ যেন সহজেই ভুয়া বা ডিপফেইক ছবি-ভিডিও চিনে নিতে পারে এবং বাস্তব ও কৃত্রিমতার বৈষম্য স্পষ্ট থাকে সে ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ওয়াটারমার্ক কার্যকর। তবে যারা সৃজনশীল কাজের জন্য নিয়মিত এআই টুল ব্যবহার করেন তাদের জন্য চিহ্নটি নান্দনিক ব্যাঘাত ঘটায়।

উডওয়ার্ড বলেছেন, “আমরা এখানে সৃজনশীল স্বাধীনতা ও সুরক্ষার মধ্যে একটি সঠিক ভারসাম্য ধরে রাখার চেষ্টা করছি।”

এআই জগতে ওয়াটারমার্ক ও স্বচ্ছতা সংক্রান্ত এটাই অবশ্য শেষ খবর নয়। সম্প্রতি জনপ্রিয় সংগীত তৈরির এআই প্ল্যাটফর্ম ‘সুনো’ নতুন কিছু ‘স্বচ্ছতা টুল’ চালুর কথা জানিয়েছে।

এর মধ্যে এমন এক লেবেলিং ব্যবস্থা থাকছে, যার মাধ্যমে কোনো গান অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে প্রচারিত হলেও তা এআই দিয়ে তৈরি কি না চিহ্নিত করা যাবে।

অন্যদিকে, আরেক শীর্ষ এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক’ও বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা বলেছে, কোম্পানিটির চ্যাটবট ‘ক্লড’ দিয়ে তৈরি সব ধরনের টেক্সট ও ফাইলের মধ্যে এখন থেকে অদৃশ্য ‘সিটুপিএ’ভিত্তিক ওয়াটারমার্ক যোগ হবে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের এআই সংক্রান্ত নতুন কঠোর স্বচ্ছতা নীতি ও আইন মেনে চলতেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে অ্যানথ্রপিক।