২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

ইন্টারনেটের জগৎ কত বড়? এখানে কী পরিমাণ ডেটা আছে?

সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট বা ভিডিও নয়, বরং এ ডেটার বন্যায় অবদান রাখছে স্মার্ট ডিভাইস, পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি, ইন্টারনেট সংযোগওয়ালা গাড়ি ও ক্লাউড প্ল্যাটফর্মও।

ইন্টারনেটের জগৎ কত বড়? এখানে কী পরিমাণ ডেটা আছে?
বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডেটা প্রযোজক কোম্পানি সবসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানি নয়। ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Sep 2025, 08:48 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:21 PM

চালুর পর থেকে আমাদের সময়ের সবচেয়ে বড় ও প্রভাবশালী উদ্ভাবনগুলোর একটি হয়ে উঠেছে ইন্টারনেট। হঠাৎ করেই মানুষ বিশ্বের সবকিছু হাতের মুঠোয় পেয়ে গেল। তবে কখনও ভেবে দেখেছেন ‘ইন্টারনেটের বিশ্ব’ আসলে কত বড়? 

এ বাক্যটি পড়ার সঙ্গে সঙ্গে নেটফ্লিক্সে ১০ লাখেরও বেশি ঘণ্টা ভিডিও দেখা, ইউটিউবে হাজার হাজার ঘণ্টার ভিডিও আপলোড এবং ইনস্টাগ্রামে অসংখ্য ছবিও পোস্ট হয়েছে। ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’-এর মতে, বিষয়টি কেবল এক মিনিটের ইন্টারনেট কার্যকলাপ, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আরও ব্যস্ত হয়ে উঠছে।

কিন্তু ইন্টারনেটের জগৎ আসলে কত বড়? সেখানে কী পরিমাণ ডেটা রয়েছে? 

২০২৪ সালেই প্রায় একশ ৪৯ জেটাবাইট বা জিবি ডেটা তৈরি করেছে বিশ্ব। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ এ পরিমাণ গিয়ে পৌঁছাবে একশ ৮১ জেটাবাইটে। কিছু অনুমান বলছে, এ পরিমাণ একটু কমে প্রায় একশ ৭৫ জেটাবাইট হতে পারে। তবে এ পার্থক্যও খুব বড় নয়। এক জেটাবাইট মানে এক ট্রিলিয়ন গিগাবাইট।

এত বিশাল পরিমাণ মানুষের পক্ষে কল্পনা করাও কঠিন। এ হিসাব হচ্ছে ইন্টারনেটের আসল পরিসর কেমন বিশাল বা কত বড় তা বোঝার একটি উপায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক সাইট স্ল্যাশগিয়ার।

যা মাপা প্রায় অসম্ভব তাকেই পরিমাপের চেষ্টা

ইন্টারনেটের আকার মাপার চেষ্টা করা মানে যেন এক বালতি ব্যবহার করে পুরো মহাসাগরের পানি মাপার চেষ্টা। কারণ বিষয়টি এত সহজ নয়। তবে ‘সারফেস ওয়েব’ বা যেসব ওয়েবসাইট গুগলের মতো সার্চ ইঞ্জিনে দেখা যায় তা দিয়ে ইন্টারনেট ডেটা পরিমাপের বিষয়টি শুরু করা যাক। 

‘ওয়ার্ল্ডওয়াইড ওয়েব সাইজ প্রজেক্ট’-এর তথ্য অনুসারে, এমন পেইজের সংখ্যা প্রায় চারশ কোটি। তবে এ হিসাবে বাদ পড়েছে ‘ডিপ ওয়েব’-এর বিষয়টি। এখানে রয়েছে ব্যক্তিগত ডেটাবেইস, সুরক্ষিত নেটওয়ার্ক, অ্যাপের ভেতরের কনটেন্ট ও এমন অনেক কিছু, যা গুগলে সার্চ দিয়ে খুঁজে পাওয়া যায় না।

আরেকভাবে যেমন– প্রতিদিন কত ডেটা তৈরি হচ্ছে তা দিয়ে ইন্টারনেটের পরিমাপ করা যেতে পারে। ‘এক্সপ্লোডিং টপিকস’-এর তথ্য অনুসারে, প্রতিদিন মানুষ প্রায় চার কোটি দুই লাখ টেরাবাইট ডেটা তৈরি করছে। বছরে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে একশ ৪৭ জেটাবাইটেরও বেশি। এ হার দ্রুতই বাড়ছে।

‘হেলথ আইটি’ বলেছে, কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট বা ভিডিও নয়, বরং এ ডেটার বন্যায় অবদান রাখছে স্মার্ট ডিভাইস, পরিধানযোগ্য প্রযুক্তি, ইন্টারনেট সংযোগওয়ালা গাড়ি ও ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম, যা আমরা অনেক সময় বুঝতেও পারি না। এসব কারণ আরও স্পষ্ট করে দেয় যে, নিজের ব্যক্তিগত তথ্য কেন ইন্টারনেট থেকে সরানোর উপায় জানা জরুরি।

একটি বিষয় অনেক সময় আমাদের নজর এড়িয়ে যায়। কারণ ইন্টারনেটের ‘আকার’ কেবল এর পরিমাণ বা ভলিউম দিয়ে বোঝা যায় না। ২০২৩ সালের এক অ্যাকাডেমিক গবেষণায় বিগ ডেটার পাঁচটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যেখানে রয়েছে ভলিউম বা পরিমাণ, ভ্যারাইটি বা বিভিন্নতা, ভেলোসিটি বা গতিবেগ, ভ্যালু বা মূল্য ও ভেরাসিটি বা নির্ভরযোগ্যতা।

এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বোঝা যায়, বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডেটা প্রযোজক কোম্পানি সবসময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানি নয়। যেমন– সার্ন-এর পার্টিকল কোলাইডার প্রতিদিন পেটাবাইট পরিমাণ ডেটা তৈরি করে, যা রীতিমতো বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিদের ইন্টারনেট উৎপাদনের সঙ্গে টেক্কা দিতে পারে।

ইন্টারনেটের আকার কেন গুরুত্বপূর্ণ

ডেটা চোখে দেখা না গেলেও আমরা অনেক সময় এটিকে দূরের কোনো বিষয় বলে ধারণা করি। তবে এই বিশাল সংখ্যার বাস্তব প্রভাব রয়েছে। ডেটা প্রসেস ও সংরক্ষণের জন্য তৈরি বিভিন্ন ডেটা সেন্টার বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ও পানি ব্যবহার করে। ধারণা করা হয়, বিশ্বজুড়ে থাকা বিভিন্ন ডেটা সেন্টার মোট বিদ্যুতের প্রায় দুই শতাংশ খরচ করে। আর প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ গ্যালন পানি ব্যবহার করে বড় বড় ডেটা সেন্টার।

তবে ব্যবহৃত পানি পুনর্ব্যবহার করে ঠাণ্ডা রাখার ব্যবস্থা নিচ্ছে অ্যামাজনের মতো কিছু কোম্পানি। এরপরও বিশ্বজুড়ে ডেটার ক্রমাগত চাহিদার কারণে এ পরিবেশগত চাপ আরও বাড়বে। বিস্ময়কর ব্যাপার হচ্ছে, এসব ডেটা সেন্টার সব ডেটাও সংরক্ষণ করে না, বরং এর অনেকটাই সংরক্ষিত হয় ক্লাউড স্টোরেজে।

নিশ্চিতভাবেই ডেটার অনেক ভালো দিক থাকলেও কিছু সমস্যা বা সতর্কতার দিক রয়েছে, যেমন অ্যাপ ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের প্রাইভেসি রক্ষা, কম শক্তি খরচের মাধ্যমে প্রযুক্তি ব্যবহার ও পুরো ইন্টারনেটের অবকাঠামো ভেঙে পড়া থেকে রক্ষা করা।

আসল কথা হচ্ছে, ইন্টারনেটের আকার মাপার কোনো নির্ভুল উপায় কারও কাছে নেই। যতই সংরক্ষিত ফাইল, প্রতিদিনের স্ট্রিমিং বা কনটেন্টের কপি গোনা হোক না কেন ইন্টারনেটের ‘আকার’ সবসময়ই পরিবর্তিত হচ্ছে।

তবে শেষ পর্যন্ত একটি বিষয়ে সবাই একমত হতে পারি, ডিজিটাল দুনিয়া এখনই থামছে না। আমরা যত বেশি প্রযুক্তি আর ডেটার ওপর নির্ভরশীল হচ্ছি এ সংখ্যা ততই বাড়তে থাকবে।