এবার ইংল্যান্ড, ওয়েলসের আদালতে নিষিদ্ধ মেটার স্মার্ট চশমা
এর আগে, গেল মাসে নিউ ইয়র্কের আদালতে ভিডিও রেকর্ড করার সুবিধাওয়ালা মেটার এই চশমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
নিরাপত্তা ও প্রাইভেসি লঙ্ঘনের আশঙ্কায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সব আদালতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে মেটার স্মার্ট চশমা। বিচারিক ভবনে প্রবেশের সময়ই এই চশমা বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান প্রতিবেদনে লিখেছে, গোপনে তথ্য বা ভিডিও চুরির স্পাইওয়্যার হিসেবে চিহ্নিত হওয়ার পর মেটা স্মার্ট চশমার বিরুদ্ধে বিশ্বজুড়ে ক্ষোভ বাড়ছে। রেস্তোরাঁ, থিয়েটার ও পাবের পথ ধরে এবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের আদালতেও নিষিদ্ধ হল মেটার বিতর্কিত এই স্মার্ট চশমা।
এর আগে, গেল মাসে নিউ ইয়র্কের আদালতে ভিডিও রেকর্ড করার সুবিধাওয়ালা মেটার এই চশমা ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সব ধরনের আদালত পরিচালনাকারী সংস্থা ‘হিজ ম্যাজেস্টিস কোর্টস অ্যান্ড ট্রাইব্যুনালস সার্ভিস’ বা এইচএমসিটিএস বলেছে, তাদের কোনো আদালত ভবনে প্রবেশের সময়ই বিচারপ্রার্থী বা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে মেটা গ্লাস বাজেয়াপ্ত করা হবে।
সংস্থাটির একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ভেতরে ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে স্পষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ঠিক এ কারণে মেটা গ্লাস ব্যবহারের ওপর এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ হল।”
যুক্তরাজ্যের আইন অনুসারে, সরকারের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ছাড়া আদালত চত্বরে ছবি তোলা বা ভিডিও রেকর্ড করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই আইন অমান্য করলে তা ‘আদালত অবমাননা’ বলে বিবেচিত এবং তা দণ্ডনীয় অপরাধ।
এরপরও আইনজীবী ও দর্শনার্থীদের স্মার্টফোন নিয়ে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে, যা দিয়ে অডিও এবং ভিডিও দুটোই রেকর্ড করা সম্ভব। তবে স্মার্ট চশমার ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ব্যতিক্রম মানতে নারাজ এইচএমসিটিএস।
এইচএমসিটিএস-এর এক সূত্র বলেছে, “যেসব ব্যক্তি মেটা গ্লাস নিয়ে আদালত বা ট্রাইব্যুনাল ভবনে আসবেন প্রবেশের সময়ই নিরাপত্তার স্বার্থে তা বাজেয়াপ্ত করা হবে। পরবর্তীতে ভবন ত্যাগের সময় চশমাটি তাদের কাছে আবার ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেছেন, আদালতের বিচারিক কার্যক্রম রেকর্ড করা হবে না, কেবল এই শর্ত মেনেই ভেতরে স্মার্টফোন বহনের অনুমতি দেওয়া হয়ে থাকে।
এ বছরের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্যের হাই কোর্টে একটি মামলার শুনানিকালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় স্মার্ট চশমা পরার কারণে বিচারকের তোপের মুখে পড়েন এক বাদী।
বিচারক সন্দেহ প্রকাশ করে অভিযোগ তুলেছিলেন, চশমার মাধ্যমে ওই ব্যক্তি গোপন নির্দেশনা পাচ্ছিলেন।
একটি আবাসন কোম্পানির মালিকানা সংক্রান্ত মামলার শুনানিকালে লাইমোনাস জাকশতিস নামের এক ব্যক্তি স্মার্ট চশমা পরে আদালতে হাজির হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে তা খুলে ফেলার নির্দেশ দেন বিচারক।
ওই সময় হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী র্যাকুয়েল আগনেলো কেসি অভিযোগ করে বলেছিলেন, “জেরা চলাকালীন জাকশতিসকে তার করা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য চশমার মাধ্যমে বাইরে থেকে সহায়তা নিচ্ছিলেন।”
তবে চশমার মাধ্যমে কোনো ধরনের উত্তর পাওয়ার কথা অস্বীকার করেন জাকশতিস। চশমাটি তার ফোনের সঙ্গে যুক্ত ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।
আদালতের ভেতর স্মার্ট চশমা ব্যবহারের বা চশমা বাজেয়াপ্ত করার মোট কতটি ঘটনা ঘটেছে, সে সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই বলে জানিয়েছে এইচএমসিটিএস।
এদিকে, এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গের নিজস্ব নিরাপত্তা দলের সদস্যদেরও মেটা গ্লাস পরে আদালতে উপস্থিত হতে দেখা যায়।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আসক্তি বিষয়ক এক হাই-প্রোফাইল মামলার বিচারে ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতে হাজিরা দেওয়ার সময় এই ঘটনা ঘটে।
ওই মামলার বিচারক ক্যারোলিন বি কুল জাকারবার্গের নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করে বলেছিলেন, স্মার্ট চশমা দিয়ে আদালতের বিচারিক কার্যক্রমের কোনো অংশ রেকর্ড করা হলে তাদের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
