২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

অবশেষে টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক, ফিরল জ্বলজ্বলে লোগো

ম্যাকবুকে টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি সফলভাবে যোগের জন্য অ্যাপলকে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার উভয় ক্ষেত্রেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

অবশেষে টাচস্ক্রিন ম্যাকবুক, ফিরল জ্বলজ্বলে লোগো

ল্যাপটপটিতে রয়েছে ম্যাকওএস সফটওয়্যারের নতুন ডিজাইন, যাতে আরও সহজ ও সাবলীলভাবে স্ক্রিন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করা যায়। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Oct 2026, 04:09 PM

Updated : 29 Oct 2026, 04:09 PM

দীর্ঘদিনের অনীহা ও কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে অবশেষে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম টাচস্ক্রিনওয়ালা ম্যাকবুক প্রো উন্মোচন করেছে অ্যাপল।

অ্যাপলের দাবি ছিল, তারা কখনো টাচস্ক্রিন ম্যাক তৈরি করবে না। তবে সেই ধারায় বড় পরিবর্তন এনে সম্পূর্ণ নতুন সংস্করণের ল্যাপটপ বাজারে আনল আইফোন নির্মাতা কোম্পানিটি।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্ট প্রতিবেদনে লিখেছে, নতুন কম্পিউটারটিতে প্রথমবারের মতো স্ক্রিন ছোঁয়ার সুবিধার পাশাপাশি এটাকে আগের চেয়ে হালকা করেছে।

পাশাপাশি, ডিসপ্লের পেছনে অংশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে আইকনিক জ্বলজ্বলে অ্যাপল লোগোটি।

অ্যাপল বলেছে, এসব নতুন ফিচার ও পরিবর্তন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে নতুন স্ক্রিন প্রযুক্তির বদৌলতে, যার নাম ‘প্রোলিড এক্সডিআর’।

Image

ডিসপ্লের পেছনে ফিরিয়ে আনা হয়েছে আইকনিক জ্বলজ্বলে অ্যাপল লোগোটি। ছবি: রয়টার্স

এটা অ্যাপলের নিজস্ব ব্র্যান্ডিংওয়ালা ওএলইডি ডিসপ্লে, যা এর আগে আইপ্যাড ও আইফোনে সফলভাবে ব্যবহৃত হলেও এই প্রথমবার ম্যাকবুকে যোগ হল।

অ্যাপল বলেছে, এ ডিসপ্লে ‘আরও বেশি প্রাণবন্ত রং, নিখুঁত কালো রং ও উন্নত কনট্রাস্ট দেবে’। নতুন ওএলইডি প্রযুক্তির কারণে ল্যাপটপটির ওজন কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

নতুন এ সংস্করণের ওজন সাড়ে তিন পাউন্ড থেকে, নেমে এসেছে তিন পাউন্ডে। পাশাপাশি ল্যাপটপের পেছনে সেই জ্বলজ্বলে লোগো ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রেও এই প্রযুক্তি বিশেষ ভূমিকা রেখেছে।

নতুন এ সংস্করণে আইফোনের জনপ্রিয় ‘ডায়নামিক আইল্যান্ড’ ফিচারটিও যোগ করেছে অ্যাপল, যার ভেতরে ক্যামেরা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেন্সরগুলো বসানো হয়েছে।

এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক ম্যাকগুলোর ডিসপ্লের উপরিভাগে থাকা প্রচলিত নচটিকে প্রতিস্থাপন করেছে। নচের পরিবর্তে এখন যোগ হয়েছে অপেক্ষাকৃত ছোট, পিল-আকৃতির কাটআউট, যা বিভিন্ন তথ্য দেখাতে ব্যবহার করা যাবে।

বাজারে আসার আগে টাচস্ক্রিন ম্যাক নিয়ে নানা গুঞ্জন ও প্রতিবেদন প্রকাশ পেলেও অ্যাপল টাচস্ক্রিন ফিচারের চেয়ে তাদের নতুন ওএলইডি ডিসপ্লের অসাধারণ উজ্জ্বলতা, কনট্রাস্ট ও রঙের বৈচিত্র্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

টাচস্ক্রিন প্রযুক্তি সফলভাবে যোগের জন্য অ্যাপলকে সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার উভয় ক্ষেত্রেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে ম্যাকওএস সফটওয়্যারের নতুন ডিজাইন, যাতে ব্যবহারকারীরা আরও সহজে ও সাবলীলভাবে স্ক্রিন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।

এ ছাড়া, ল্যাপটপের কব্জা বা হিঞ্জকে বিশেষভাবে শক্তিশালী করা হয়েছে, যাতে ব্যবহারকারী স্ক্রিন স্পর্শ করে কাজ করার সময় ল্যাপটপের পর্দা কেঁপে বা নড়ে না ওঠে।

টাচস্ক্রিন সুবিধা যোগ হওয়ার ফলে ব্যবহারকারীরা উইন্ডো সরানো, স্ক্রল করা বা কনটেন্ট সঠিক স্থানে বসানোর মতো কাজগুলো আরও সহজে করতে পারবেন বলে জানিয়েছে অ্যাপল।

তবে কোম্পানিটি ইঙ্গিত দিয়েছে, এই প্রযুক্তি ম্যাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন কিছু দুয়ারও খুলবে।

যেমন, শিল্পীরা সরাসরি স্ক্রিনে ছবি আঁকতে পারবেন, সংগীতশিল্পীরা স্ক্রিনের মাধ্যমে সফটওয়্যারের মাধ্যমে বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারবেন ও ডেভেলপাররা এমনভাবে তাদের অ্যাপ পরীক্ষা করতে পারবেন, যেন সেগুলো আইফোন বা আইপ্যাডে ব্যবহৃত হচ্ছে।

অ্যাপল দীর্ঘদিন ধরে টাচস্ক্রিন সংস্করণের ম্যাক নিয়ে কাজ করছে বলে গুঞ্জন ছিল। তবে নতুন প্রধান নির্বাহী জন টার্নাসসহ কোম্পানিটির একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা অতীতে এই ধারণাকে সরাসরি খারিজ করে দিয়েছিলেন।

কিবোর্ড পেরিয়ে বারবার স্ক্রিন ছোঁয়ার ক্ষেত্রে যে শারীরিক অস্বস্তি বা শারীরিক সমস্যার তৈরি হয় সেই কারণেই এটা নাকচ করা হয়েছিল।

তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে ইঙ্গিত মিলেছে, অ্যাপল শেষ পর্যন্ত এ ধারণার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছে। এর পেছনে বড় কারণ, তাদের ধারণা, টাচস্ক্রিন ম্যাক এলে আইপ্যাডের বিক্রি কমবে না।

এ ছাড়া, নিজেদের ডিভাইসে নতুন ধরনের ফরম্যাট আনার অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নিয়েছে অ্যাপল, যার মধ্যে নতুন ফোল্ডএবল ফোন ও হোম ডিসপ্লে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

অন্যান্য অনেক কোম্পানি দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে টাচস্ক্রিন ল্যাপটপ বিক্রি করে আসছে।

তবে অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রধান জনি স্রৌজি বলেছেন, অ্যাপলের তৈরি প্রসেসর, হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যারের মধ্যে সমন্বয়ের কারণে নতুন ল্যাপটপের সমান আর ‘কিছুই হতে পারে না’।

নতুন টাচস্ক্রিন ল্যাপটপটি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ম্যাকবুক প্রো উইথ প্রোলিড এক্সডিআর ডিসপ্লে’ নামে বাজারে এসেছে। এর ১৪-ইঞ্চি সংস্করণের দাম ২ হাজার ৮৯৯ ডলার ও ১৬-ইঞ্চি সংস্করণের দাম শুরু হচ্ছে ৩ হাজার ৩৯৯ ডলার থেকে।

অন্যদিকে, নন-টাচস্ক্রিন সংস্করণের শুরুর দাম ১ হাজার ৯৯৯ ডলার। তবে সেটাতে তুলনামূলক কম সক্ষমতার চিপ ব্যবহৃত হয়েছে।

এরইমধ্যে নতুন ল্যাপটপের আগাম বুকিং বা প্রি-অর্ডার গ্রহণ শুরু হয়েছে ও শুক্রবার থেকে ম্যাকবুকটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি শুরু হবে।

ব্যস্ত সপ্তাহের শেষে এসে এই বড় ঘোষণা দিল অ্যাপল। এ সপ্তাহেই কোম্পানিটি নতুন আইপ্যাড মিনি, আপগ্রেড করা আইম্যাক ও তুলনামূলক সাশ্রয়ীদামের ম্যাকবুক প্রো মডেল উন্মোচন করেছে।

এর আগে, অক্টোবরে ঘরের জন্য ‘হোমভিউ’ স্মার্ট ডিসপ্লে ও নতুন ‘আইফোন ডুও’ বাজারের এনেছে অ্যাপল।