Published : 15 Feb 2026, 10:39 AM
পারমাণবিক শক্তির কথা উঠলেই অনেকের চোখে ভেসে ওঠে শক্তিশালী মারণাস্ত্র বা যুদ্ধের ধ্বংসলীলার ছবি। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ হচ্ছে এ শক্তিই বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে বিদ্যুতের প্রধান উৎস।
তবে প্রশ্ন হল, চীন বা রাশিয়ার মতো দেশগুলো যেখানে দ্রুত এগোচ্ছে সেখানে এই দৌড়ে বিশ্বসেরা কে? কোন দেশ সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন করে?
প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার প্রতিবেদনে লিখেছে, এমন প্রশ্নে অনেক বড় ব্যবধানে সবার আগে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, মানে, এর ধারেকাছেও নেই অন্য কোনো দেশ।
‘ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’-এর তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে ঘণ্টায় প্রায় ৭৮২ গিগাওয়াট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যা দেশটিতে উৎপাদিত মোট বিদ্যুতের প্রায় ১৯ শতাংশ এবং গোটা বিশ্বে উৎপাদিত মোট পারমাণবিক শক্তির প্রায় ৩০ শতাংশ।
এর বিপরীতে, ২০২৩ সালে চীন উৎপাদন করেছে ঘণ্টায় ৪৩৩ গিগাওয়াটের কিছু বেশি, যা তাদের দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাত্র ৫ শতাংশ। রাশিয়ার উৎপাদন আরও কম, ঘণ্টায় কেবল ২৭১ গিগাওয়াট। তবে দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৯ শতাংশ, অনুপাতের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমান।
যুক্তরাষ্ট্রের ৫৪টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট ৯৪টি চুল্লি রয়েছে, যার মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৯৭ গিগাওয়াট। অন্যদিকে, চীনের মোট ৫৭টি চুল্লি রয়েছে, যার ক্ষমতা ৫৫ গিগাওয়াট এবং রাশিয়ার ৩৬টি চুল্লির সক্ষমতা ২৭ গিগাওয়াট। যার মানে, চুল্লির সংখ্যা ও বিদ্যুৎ উৎপাদন উভয় দিক থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের অন্য যে কোনো দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
এ তিনটি দেশের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক অবকাঠামো সবচেয়ে পুরোনো। ১৯৫০-এর দশক থেকেই পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র।
পারমাণবিক শক্তির সুবিধা ও উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের শীর্ষ চারে থাকলেও এ তালিকায় বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স। বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঠিক পরেই ফ্রান্সের অবস্থান।
দেশটি উন্নত পারমাণবিক প্রযুক্তিতেও সবার সামনে রয়েছে। ২০২৫ সালে টানা ২২ মিনিট ধরে এক ‘ফিউশন রিঅ্যাকশন’ সচল রাখতে পেরে রেকর্ড গড়েছে ফ্রান্স।
চীনের মতো ফ্রান্সেরও ৫৬টি চুল্লি রয়েছে। তবে ফ্রান্সের উৎপাদন সক্ষমতা বেশি (৬৩ গিগাওয়াট)। ২০২৩ সালে ফ্রান্স ঘণ্টায় ৩২০ গিগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে, যা দেশটির মোট বিদ্যুতের প্রায় ৬৫ শতাংশ। ফলে ফ্রান্স বিশ্বের এমন দেশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে যারা নিজেদের মোট চাহিদার সবচেয়ে বড় অংশ পারমাণবিক শক্তি থেকে মেটায়, যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
কয়লা বা প্রাকৃতিক গ্যাসের তুলনায় অনেক বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার কারণে বর্তমানে পারমাণবিক শক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। পারমাণবিক চুল্লিগুলোতে অন্যান্য উৎসের তুলনায় রক্ষণাবেক্ষণ বা জ্বালানি ভরার প্রয়োজন কম। ফলে এসব বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘ সময় ধরে একটানা চলতে পারে।
এ ছাড়া পারমাণবিক বিদ্যুৎ তুলনামূলকভাবে পরিবেশবান্ধব এবং ক্ষতিকর গ্যাস নির্গমন কমাতে সাহায্য করে, যা বড় এলাকায় নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্য উৎস।
তবে এর পেছনে গুরুতর পরিবেশগত উদ্বেগও রয়েছে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে অত্যন্ত বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয়, যা কয়েক দশক বা তারও বেশি সময় ধরে স্থানীয় মানুষের জীবনের জন্য ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।