Published : 02 Apr 2026, 05:12 PM
টেসলা স্বীকার করেছে, তাদের রোবোট্যাক্সি কখনও কখনও দূর থেকে মানব অপারেটর চালায়।
মার্কিন সিনেটর এড মার্কির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে টেসলা এ স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে ওয়্যার্ডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
চিঠিতে টেসলার ‘পাবলিক পলিসি ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট’ বিভাগের পরিচালক ক্যারেন স্টেকলি বলেন, “বিরল কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা হিসেবে দূরবর্তী সহায়তা অপারেটরদের সরাসরি গাড়ির নিয়ন্ত্রণ অস্থায়ীভাবে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।
“যখন অন্যান্য সব ধরনের হস্তক্ষেপের চেষ্টা শেষ হয়ে যায়, তখন এটিই চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে অপারেটররা গাড়ির গতি ঘণ্টায় প্রায় দুই মাইল বা তার কম থাকলে নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেন। আর, সফটওয়্যার অনুমতি দিলে তারা সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১০ মাইল গতিতে গাড়ি চালাতে পারেন।
এনগ্যাজেট টেসলার সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করতে চাইলেও এর উত্তর মেলেনি।
ওয়্যার্ডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অন্যান্য স্বচালিত গাড়ি কোম্পানির পদ্ধতির সঙ্গে টেসলার এই পদ্ধতির কিছু পার্থক্য রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে, ওয়েইমোর ড্রাইভার সফটওয়্যার মানব সহায়তা নিতে পারে, যাদের তারা “ফ্লিট রেসপন্স” বলে। এসব কর্মী গাড়ির সেন্সরের মাধ্যমে পরিবেশ দেখে জটিল পরিস্থিতিতে দিকনির্দেশনা দেন, তবে তারা সরাসরি গাড়ি চালান না বলে দাবি কোম্পানিটির।
স্বচালিত গাড়ি কোম্পানিগুলো সাধারণত দূর থেকে গাড়ি চালানো এড়িয়ে চলে, কারণ ল্যাটেন্সি ও সীমিত সেন্সরের মতো প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা নিয়ে দূর থেকে নিরাপদভাবে গাড়ি চালানো কঠিন হয়ে যায়।
টেসলার স্বচালিত প্রযুক্তির পদ্ধতি শুরু থেকেই আলাদা। যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বীরা রেডারসহ বিভিন্ন সেন্সর ব্যবহার করে, সেখানে টেসলা তাদের ফুল সেলফ ড্রাইভিং বা এফএসডি সিস্টেমে কেবল ক্যামেরার ওপর নির্ভর করে।
এই এফএসডি প্রযুক্তি নিয়ে বেশ কিছু আলোচিত দুর্ঘটনার পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল হাইওয়ে ট্রাফিক সেইফটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন একটি তদন্ত শুরু করে।
২০২৫ সালের জুনে টেক্সাসের অস্টিনে সীমিত পরিসরে রোবোট্যাক্সি সেবা চালু করে টেসলা। তখন জরুরি অবস্থার জন্য চালকের আসনে মানব সেইফটি ড্রাইভার রাখা হয়। একই এলাকায় সেইফটি ড্রাইভার ছাড়াই যাত্রা পরীক্ষার খবরও রয়েছে, যা দূর থেকে অপারেটর দিয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার প্রস্তুতির কারণ হতে পারে।