‘নভোচারীর দুর্দশার’ অডিও ক্লিপ ভুলক্রমে ফাঁস
রেকর্ডিংটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আইএসএস-এ বড় কোনো বিপদ ঘটেছে, এমন শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে।
সম্প্রতি এক লাইভ স্ট্রিমে ভুলে নভোচারীদের মেডিকেল প্রশিক্ষণের অডিও ক্লিপ প্রকাশ করেছে নাসা, যেখানে আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে অসুস্থ হয়ে গেলে তারা কী ধরনের আচরণ করতে পারেন, তার নমুনা তুলে ধরা হয়েছে।
নাসার ইউটিউব চ্যানেলে সম্প্রচার করা অডিও ক্লিপটিতে একজন নারীর কণ্ঠ শোনা গেছে, যিনি মিশন ‘কমান্ডারকে আবার স্পেসস্যুট পরানোর’, তার হার্টবিট যাচাই ও তাকে অক্সিজেন সরবরাহ করার নির্দেশ দিচ্ছেন ক্রুর সদস্যদের। তবে, এ ভবিষ্যদ্বাণীকে পরবর্তীতে ‘ক্ষীণ’ বলেও ব্যাখ্যা করেন তিনি।
রেকর্ডিংটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে আইএসএস-এ বড় কোনো বিপদ ঘটেছে, এমন শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে।
“আইএসএস-এর ইউটিউব ফিডে কিছু খুবই অদ্ভুত ও রহস্যময় অডিও প্রকাশ পেয়েছে,” এক ব্যক্তি পোস্ট করেন এক্স-এ।
“এটা ভালো কিছু বলে মনে হচ্ছে না,” লেখেন আরেক ব্যবহারকারী।
এই রোগ ‘ডিকমপ্রেশন সিকনেস’ নামে পরিচিত, যা মূলত বায়ুমণ্ডলের চাপে শরীরের রক্তপ্রবাহে নাইট্রোজেন বা অন্যান্য গ্যাসের বুদবুদ চলাচলের কারণে ঘটে থাকে। এতে করে মানুষের কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক আঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়।
তবে নাসা নিশ্চিত করেছে, আইএসএস এমন কোনো ‘জরুরী পরিস্থিতির’ মুখে পড়েনি। আর সম্প্রচার হওয়া অডিও ক্লিপটি একটি সিমুলেশন, যা থেকে ক্রু’র সদস্যরা ও ভূপৃষ্ঠের গবেষণা দলগুলো মহাকাশে সম্ভাব্য দৃশ্যপটগুলো সম্পর্কে প্রশিক্ষণ পেয়ে থাকেন।
“মহাকাশ স্টেশনে কোনো জরুরী পরিস্থিতি ঘটেনি,” এক্স-এ পোস্ট করেছে নাসার আইএসএস অ্যাকাউন্ট।
পোস্টে বলা হয়, স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটা ২৮ মিনিটে ভূপৃষ্ঠের একটি সিমুলেশন অডিও চ্যানেল থেকে নাসার লাইভস্ট্রিমে অডিওটি সম্প্রচারিত হয়, যেখানে একজন ক্রু সদস্যের ডিকম্প্রেশন সিকনেস বা ‘ডিসিএস’-এর মতো অভিজ্ঞতার মুখে পড়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়েছে।
“অডিওটি অসাবধানতাবশত চলমান একটি সিমুলেশন থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে ক্রু সদস্যরা ও ভূপৃষ্ঠে কাজ করা দলগুলো মহাকাশের বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে। এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই।”
সংস্থাটি বলেছে, ভূপৃষ্ঠে যখন প্রশিক্ষণ চলছিল, তখন আইএসএস-এর সদস্যরা ‘ঘুমন্ত অবস্থায়’ ছিলেন।
নাসা আরও যোগ করে, বৃহস্পতিবার পূর্বাঞ্চলীয় সময় সকাল আটটায় মহাকাশ স্টেশন থেকে স্পেসওয়াকের যে সূচী ছিল, তা পরিকল্পনা মাফিকই চলবে।
এদিকে স্পেসএক্সও নিশ্চিত করেছে, লোকজন যা শুনেছে, তা ‘শুধু একটি পরীক্ষা ছিল’।
কোম্পানিটি আরও যোগ করে, ক্যালিফোর্নিয়ার হথ্রোন শহরে প্রশিক্ষণ নেওয়া ক্রুর সদস্যরাও ‘নিরাপদ ও সুস্থ’ আছেন।
এ খবর শুনে মহাকাশপ্রেমীদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দেখা গেছে।
“আমাদের কাছে এটি ‘অন্য কোনো জগতের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর মুহুর্ত’ মনে হয়েছিল। এটা যে বাস্তব নয়, তা জেনে আমি খুশি। তবে, এর মধ্যে কয়েকটি নির্দেশ খুবই বিশ্বাসযোগ্য ছিল,” এক ব্যবহারকারী লেখেন এক্স-এ।
“আপনারা আমাদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন,” পোস্ট করেন আরেকজন।
“গোটা বিশ্বই কিছু সময়ের জন্য ভীতির মধ্যে ছিল,” বলেন আরেকজন।
