রিয়ালের বিপক্ষে পরের লড়াইয়ে ‘স্পেশাল’ কিছুর আশায় ল্যাম্পার্ড
প্রথম লেগে ২-০ গোলে হারলেও ঘুরে দাঁড়ানোর দুয়ার এখনও খোলা, বলছেন চেলসির ভারপ্রাপ্ত কোচ।
টানা চার ম্যাচে গোল নেই, পারফরম্যান্সে ধার নেই। দুঃসময়ের চক্রে ঘুরপাক খাচ্ছে চেলসি। এই আঁধারে ফ্র্যাঙ্ক ল্যাম্পার্ড খুঁজছেন আলোর রেখা। রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হেরে গেলেও আশার দুয়ার এখনও খোলাই দেখতে পাচ্ছেন চেলসির ভারপ্রাপ্ত কোচ। তার আশা, পরের লেগে নিজেদের মাঠে বিশেষ কিছু করে দেখাবে তার দল।
দলবদলের বাজারে কাড়ি কাড়ি অর্থ ঢেলেও সুসময়ের নাগার পাচ্ছে না চেলসি। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে তারা শিরোপার লড়াই তো বহুদূর, শীর্ষ দশেও নেই আপাতত। চ্যাম্পিয়ন্স লিগেও তাদের পথচলা শেষ হতে পারে কোয়ার্টার-ফাইনালে। প্রথম লেগে বুধবার রিয়াল মাদ্রিদের মাঠে তারা হেরে গেছে ২-০ গোলে।
ম্যাচের শুরুটা এ দিন ভালো করেছিল চেলসি। বেশ উজ্জীবিত মনে হচ্ছিল তাদের। কিন্তু দ্রুতই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রিয়াল। ২১তম মিনিটে করিম বেনজেমার গোলের পর থেকে দাপট ছিল রিয়ালেরই। দ্বিতীয়ার্ধের ১৫ মিনিট না যেতেই বেন চিলওয়েল লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দল হয়ে যায় চেলসি। এরপর তারা হজম করে আরেকটি গোল।
ম্যাচের যে বাস্তবতা ছিল, তাতে আরও অন্তত গোটা দুই গোল তারা হজম করতেই পারত। শেষ পর্যন্ত ব্যবধান দুই গোলে রাখতে পারা তাদের জন্য স্বস্তিরই বলতে হবে। পাল্টা আক্রমণে কয়েক দফায় গোল করার সম্ভাবনা জাগিয়েছিল তারাও।
সব মিলিয়ে ম্যাচ থেকে প্রাপ্তি কিছু দেখছেন ল্যাম্পার্ড। তবে প্রতিপক্ষ যখন রিয়াল মাদ্রিদ, ঘুরে দাঁড়ানো তো সহজ নয়। চেলসির ভারপ্রাপ্ত কোচ তাই দলকে তাতিয়ে তোলার চেষ্টা করছেন দারুণ কিছু করতে।
“রিয়াল মাদ্রিদের মতো একটি দলের বিপক্ষে এটা (ঘুরে দাঁড়ানো) অবশ্যই অনেক অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। তবে আমাদের সামনে দুয়ার এখনও খোলা। পরের সপ্তাহে (ফিরতি লেগে) সেই দুয়ার আমরা আরও খুলতে পারি কি না, এটা পুরোপুরিই নির্ভর করছে আমাদের ওপর।”
“এই ম্যাচে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক আছে আমাদের। তবে ফলাফলটাই হলো বাস্তব। মাত্রই আমি ছেলেদের বলে এলাম যে, স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে বিশেষ কিছু হতেই পারে। ওরা অবশ্যই অনেক ভালো দল। তবে আমাদেরও বিশ্বাস রাখতে হবে।”
এই বিশ্বাসের জায়গাতেই মূল ঘাটতি দেখছেন ল্যাম্পার্ড। চেলসির সোনালি সময়ের উজ্জ্বল সেনানী তিনি, ক্লাবের সর্বকালের সেরাদের একজন, মিডফিল্ডার হয়েও ক্লাবের ইতিহাসের সেরা গোলস্কোরার। চেলসির প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ে তিনিই ছিলেন অধিনায়ক। কিন্তু সেই ক্লাব এখন সময়ের থাবায় বিপর্যস্ত। আগামী মঙ্গলবার পরের লেগের লড়াইয়ে আগে তাই দলকে আরও সাহসী করে তোলাই ল্যাম্পার্ডের মূল চ্যালেঞ্জ।
“ওরা যত ভালো দলই হোক না কেন, এই ম্যাচে আমাদের ইতিবাচক অনেক কিছুই ছিল। কিন্তু আমাদের আত্মবিশ্বাসে কিছুটা ঘাটতি আছে। ছেলেদের উপলব্ধি করতে হবে, আসলে ওরা কতটা ভালো, কতটা কী ওরা করতে পারে। মাঠের ফাঁকা জায়গাগুলো আরও কাজে লাগানো, আরও আগ্রাসী হওয়ার সুযোগ ছিল আজ।”
“নিজেদের কাজে আমাদের আরেকটু ইতিবাচক থাকতে হবে। আজকের ফলাফলটা বাস্তব, তবে পরের সপ্তাহে বড় লড়াইয়ের অপেক্ষায় আছি আমরা।”
