ইউনাইটেডের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে মার্তিনেসের সমালোচনা ‘অমূলক নয়’
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের সমালোচনাকে ভুল মনে করেন না পিটার স্মাইকেল, তবে এসব কথা প্রকাশ্যে এভাবে বলার পক্ষে তিনি নন।
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের তীব্র সমালোচনাকে অযৌক্তিক মনে করেন না পিটার স্মাইকেল। তবে ক্লাবটির কিংবদন্তি গোলকিপার এটাও যোগ করেছেন যে, কোনো সতীর্থকে জনসমক্ষে এমন কথা বলতে শুনলে তিনি পছন্দ করতেন না।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গত মঙ্গলবার রাতে আতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-০ গোলে পরাজয়ের পর ম্যাচ পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় ক্লাব কর্তৃপক্ষকে ধুয়ে দেন মার্তিনেস। গত মৌসুমে দারুণ পারফরম্যান্সের পরও এই মৌসুমে যথেষ্ট ভালো মানের ফুটবলার দলে না আনায় ক্লাবের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ক্ষোভ উগরে দেন আর্জেন্টাইন এই ডিফেন্ডার এবং ক্লাবের ফুটবল পরিচালক জেসন উইলকক্সের নাম উল্লেখ করেই তীব্র আক্রমণ করেন।
সেসব মন্তব্য নিয়ে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনার পর প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন ২৮ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার। কোচ মাইকেল ক্যারিক, উইলকক্স এবং ক্লাবের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তিনি দেখা করার পর বিষয়টি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে প্রসঙ্গটি নিয়ে আলোচনা থামেনি। দা ওভারল্যাপ ডেইলির সঙ্গে আলোচনায় স্মাইকেল তুলে ধরলেন দুটি দিকই।
“আমি চাইব না আমার কোনো সতীর্থ কখনও বাইরে গিয়ে এভাবে কথা বলুক। ব্রায়ান রবসন না হলে... না, আমি চাইব না। আমি এটা একেবারেই চাইব না। আমি যে ড্রেসিংরুমগুলোতে ছিলাম, সেখানে জবাবদিহি করতে হতো। এমনটা খুব কমই ঘটত যে কেউ সীমা অতিক্রম করেছে এবং অবশ্যই আমাদের একজন কোচ (স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসন) ছিলেন যিনি কাউকে সীমা অতিক্রম করতে দিতেন না। তিনি সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিক্রিয়া দেখাতেন...
“এমন নয় যে (মার্তিনেস) যা বলেছে, তার সঙ্গে আমি পুরোপুরি দ্বিমত পোষণ করি। তবে সেটা অন্য ব্যাপার। সে কী বলেছেন, সেসব নিয়ে খুব বেশি বিস্তারিত না বলেও বলা যায়, তার কিছু কথা একেবারে ভুল নয়। কোনোভাবেই অমূলক নয়।”
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে আট মৌসুমে ১৫টি ট্রফি জিতেছেন স্মাইকেল। এর মধ্যে ছিল পাঁচটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা। ১৯৯৯ সালের ক্লাবের ঐতিহাসিক ট্রেবল জয়ে তিনিই ছিলেন অধিনায়ক।
ডেনমার্কের এই গ্রেটের মতে, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের দলবদলের কৌশলে শুরুতে নজর দেওয়া উচিত ছিল রক্ষণভাগ থেকে।
“সম্ভাবনাময় দলগুলোর দিকে তাকান। অনেক বছর আগেই ম্যানচেস্টার সিটি কী করেছে, গত ছয় বছর ধরে আর্সেনাল, ইয়ুর্গেন ক্লপের সময়ে লিভারপুল — তারা এমন কি করেছিল যা হঠাৎ করে খেলার গতিপ্রকৃতি এবং ভাগ্য বদলে দিয়েছিল? তারা পেছন থেকে শুরু করেছিল। তারা একজন গোলরক্ষক, চারজনের রক্ষণভাগ এবং একজন সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার দলে নিয়েছিল।
তারা সেই ভিত্তি তৈরি করে সেটিকে মজবুত করেছিল এবং তারপর সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়দের দলে আনতে শুরু করেছিল। তারা সবাই এটাই করেছে... পেছন থেকে দল গড়েছে। আমরা এর উল্টোটা করেছি, সামনে থেকে দল গড়েছি।”
