আয়ারল্যান্ড কোচের সংবাদ সম্মেলনে ইসরায়েলি সাংবাদিকের প্রশ্নে উত্তপ্ত পরিস্থিতি
ওই সাংবাদিক আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর, হুট করেই শেষ করে দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলন।
ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ১১ মিনিটের বেশি সময় ধরে ম্যাচ নিয়ে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন রিপাবলিক অব আয়ারল্যান্ডের কোচ হেমির হালগ্রিমসন। এরপরই এক ইসরায়েলি সাংবাদিক আয়ারল্যান্ডের খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তোলার পর উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। হুট করেই শেষ করে দেওয়া হয় সংবাদ সম্মেলন।
সার্বিয়ায় রোববার ফিরতি দেখায় ইসরায়েলের মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড। হালগ্রিমসন জানান, চোটে থাকা ন্যাথান কলিন্সের পরিবর্তে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া ডারা ও’শে দলের সঙ্গে নেই। সন্তান জন্মের সময় স্ত্রীর পাশে থাকতে তিনি দল ছেড়ে গেছেন এবং ম্যাচ শুরুর আগেই তার ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
আয়ারল্যান্ড কোচ চলতি আন্তর্জাতিক বিরতির এই চার ম্যাচের সূচির ধকল নিয়েও নিজের অভিমত তুলে ধরেন এবং বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচটি নিয়ে পর্যালোচনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনের প্রথম পর্ব-যা সরাসরি সম্প্রচারের অনুমতি ছিল এবং এটি শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এক ইসরায়েলি সাংবাদিক হালগ্রিমসনকে বুধবারের একটি ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি ছিল দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আবিবগামী একটি উড়োজাহাজের ককপিটে প্রধান পাইলটের ওপর কো-পাইলটের হামলা; অবশ্য যাত্রীরা শেষ পর্যন্ত আক্রমণকারীকে কাবু করে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে সক্ষম হয়।
সংবাদ সম্মেলনটি হঠাৎ করেই শেষ হয়ে যায়, যখন আরেক ইসরায়েলি সাংবাদিক একটি অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন; অভিযোগটি ছিল, গত রোববারের ম্যাচের সময় একজন আইরিশ খেলোয়াড় এক ইসরায়েলি খেলোয়াড়কে ‘বানর’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। আইরিশ প্রেস অফিসার কিয়েরান ক্রাউলি দৃঢ়ভাবে এই অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং দ্রুত সংবাদ সম্মেলন সমাপ্ত ঘোষণা করেন।
হাঙ্গেরির ডেব্রাসেনের ওই ম্যাচে আয়ারল্যান্ডের স্ট্রাইকার অ্যাডাম আইডা ইসরায়েলি দর্শকদের বর্ণবাদী আচরণের শিকার হয়েছেন-এমন অভিযোগের বিষয়ে ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন অব আয়ারল্যান্ড (এফএআই) যখন তদন্ত করছে, তখন আইরিশ খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে বর্ণবাদের অভিযোগটি সামনে এলো।
সংবাদ সম্মেলন আকস্মিকভাবে শেষ হওয়ার কয়েক মিনিট আগে হালগ্রিমসন জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি এই দুটি ঘটনার কোনোটি নিয়েই কথা বলবেন না এবং ‘এসব বিষয়ে জড়াবেন না, কারণ অন্যরা বিষয়টি দেখভাল করবে।’
ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ দুটি আইরিশ ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকায় আয়ারল্যান্ডের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবলের এই সময়টি বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত ফেব্রুয়ারিতে নেশন্স লিগের ড্রয়ে এই দুই দলের মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর থেকেই তাদের ম্যাচ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়; কারণ গাজায় ইসরায়েলের যুদ্ধের বিষয়ে ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সোচ্চার সমালোচকদের একটি আয়ারল্যান্ড। ইসরায়েলের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার দাবিতে আয়ারল্যান্ডে বহুবার বিক্ষোভ হয়েছে।
এ বিষয়ে এতটাই বিরোধিতা ছিল যে, ইসরায়েলের বিপক্ষে হোম ম্যাচ ডাবলিনের পরিবর্তে সার্বিয়ার প্রায় ১২ হাজার জনসংখ্যার ছোট শহরে দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় এফএআই।
ইসরায়েলের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচের দলে থাকতে অস্বীকৃতি জানানো রিজার্ভ গোলরক্ষক গ্যাভিন বাজুনু ফিরতি ম্যাচেও দলের বাইরে থাকবেন।
প্রথম ম্যাচটির আগে এফএআই-এর প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোরেল জানান, খেলোয়াড়দের মধ্যে ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে ম্যাচগুলো খেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ডাবলিনে বৃহস্পতিবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের সময়ও বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। সে সময় মাঠে টেনিস বল ছুড়ে মারা হয় এবং একজন বিক্ষোভকারী ফিলিস্তিনের পতাকা হাতে মাঠে ঢুকে পড়লে খেলাটি সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়।
হালগ্রিমসন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে “কোনো বড় ধরনের ক্ষতি ছাড়া এই পর্ব শেষ করতে পারাটা হবে এই দল ও অ্যাসোসিয়েশনের জন্য অনেক বড় জয়।”
