২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

রোমাঞ্চ নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী ফরোয়ার্ড মাহি

১৮ বছর বয়সি এই তরুণ ফরোয়ার্ড আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে মুখিয়ে আছেন।

রোমাঞ্চ নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী ফরোয়ার্ড মাহি

মাহি খান। ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Oct 2026, 05:48 PM

Updated : 26 Oct 2026, 05:48 PM

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জাতীয় দলে ডাক পাওয়া যে কারো জন্যই রোমাঞ্চকর। সেখানে মাহি খানের রোমাঞ্চটা যেন একটু বেশিই। মাত্র ১৮ বছর বয়সি ইংল্যান্ড প্রবাসী এই তরুণ ফরোয়ার্ড এখন মুখিয়ে আছেন আসছে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে প্রত্যাশার প্রতিদান দিতে।

আগামী ৫ নভেম্বর পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুরু হবে এবারের সাফ। এ মাঠেই সোমবার প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ। তপু-মিতুলদের সাথে অনুশীলন সেরেছেন মাহিও।

মাহির ফুটবল শুরু কেটারিং টাউনের যুব দলে। সেখানে সাত বছর কাটানোর পর, ২০২৪ সালে রাশডেন অ্যান্ড হাইয়াম ইউনাইটেডের সিনিয়র দলে খেলা শুরু করেন। বর্তমানে এই তরুণ খেলছেন ইংল্যান্ডের নবম স্তরের লিগ প্রিমিয়ার ডিভিশন সাউথের দল মল্টন এফসিতে।

বাংলাদেশ দলে প্রথাগত ‘৯ নম্বর’ এর ঘাটতি পূরণের লক্ষেই রোনান বেঞ্জামিন সুলিভানের সঙ্গে মাহিকেও নিয়েছেন কোচ টমাস ডুলি। মল্টনের হয়ে ৭ ম্যাচে ৯ গোল করে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়েছেন ইতোমধ্যে। এখন তিনি সাফে নিজেকে মেল ধরার অপেক্ষায়।

“আমি অত্যন্ত গর্বিত ও আনন্দিত (দলে জায়গা পেয়ে)। মাত্র ১৮ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো জাতীয় সিনিয়র দলের ক্যাম্পে ডাক পেয়েছি। এতে আমি নিজে যেমন গর্ববোধ করছি, তেমনি আমার পরিবারের সবাইও ভীষণ খুশি। এখন আমাদের কঠোর পরিশ্রম করার সময় এবং ইনশাআল্লাহ আমরা সাফ শিরোপাও জিতব।

“আমি পুরোপুরি আত্মবিশ্বাসী। এখানে ক্যাম্পে আসার আগেও ব্যক্তিগতভাবে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছি। তাই ইনশাআল্লাহ আমি গোল করতে পারব। কোচ আমার কাছে কী প্রত্যাশা করছেন তা আমি স্পষ্ট জানি। মাঠে কোচের পরিকল্পনা শতভাগ বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করব এবং আশা করি গোল পাব।”

গোল করার পাশাপাশি আক্রমণের সুর বেঁধে দেওয়া, প্রতিপক্ষের রক্ষণকে ব্যস্ত রাখাসহ অনেক দায়িত্বের বোঝা উঠতে পারে মাহির কাঁধে। ইংল্যান্ড প্রবাসী এই তরুণ চাপ অনুভব করলেও দায়িত্ব নিতে ভয় পাচ্ছেন না একটুও।

“কিছুটা চাপ তো থাকবেই। তবে আমার একমাত্র লক্ষ্য মাঠে নেমে নিজের সেরাটা দেওয়া। নিজের ওপর এবং নিজের সামর্থ্যের ওপর আমার পুরো আস্থা আছে, তাই খুব একটা নার্ভাস নই। একাদশে সুযোগ পেলে সেরা পারফরম্যান্সটাই উপহার দিতে চাই।”

মাহির বাবা-মা সিলেটের। অবশ্য তার জন্ম এবং বেড়ে ওঠা ইংল্যান্ডে। জাতীয় দলে অবশ্য তিনি সতীর্থ হিসেবে পাচ্ছেন হামজা চৌধুরীকে। অভিজ্ঞ হামজার কাছ থেকে শিখতেও মুখিয়ে আছেন মাহি।

“আমি ভীষণ রোমাঞ্চিত। ছোটবেলা থেকেই লেস্টার সিটিতে হামজার খেলা দেখে আসছি, কারণ লেস্টার আমাদের বাসার কাছেই। সেই ছোটবেলা থেকে যাকে দেখে বড় হয়েছি, এখন তার সঙ্গে একই দলে খেলার সুযোগ এসেছে-এটি আমার জন্য বিশাল এক সম্মানের ব্যাপার। তিনি শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে খেলেছেন এবং তিনি অভিজ্ঞ। তার কাছ থেকে অনেক কিছু শেখার সুযোগ পাব, তাই আমি দারুণ রোমাঞ্চিত।”