২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫ কার্তিক ১৪৩৩

প্রতারণামূলক চুক্তি ও বিভ্রান্তিকর আর্থিক তথ্য দেওয়ায় দোষী ম্যানচেস্টার সিটি

আইন ভাঙার সব অভিযোগ প্রমাণিত হলেও, সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়ে এখনও কিছু জানানো হয়নি।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 29 Sep 2026, 10:50 PM

Updated : 30 Sep 2026, 12:33 AM

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক আইন ভাঙার চারটি প্রধান ক্যাটাগরির অভিযোগের সবগুলোর প্রমাণ পাওয়ার কথা এবার আনুষ্ঠানিকভাবে জানাল টুর্নামেন্টটির কর্তৃপক্ষ।

ক্লাবটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫টি অভিযোগের বিশদ তদন্তে ২০২৩ সালে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়। তদন্ত ও শুনানি শেষে মঙ্গলবার তাদের পক্ষ থেকে অভিযোগের সতত্য পাওয়ার কথা জানিয়ে বলা হয়, ওই নির্দিষ্ট সময়কালে বিভিন্ন ব্যবসায়িক অংশীদারের সঙ্গে ‘প্রতারণামুলক চুক্তি’ করে সিটি, একই সঙ্গে কৃত্রিমভাবে ক্লাবের আয় বাড়াতে ও খরচ কমিয়ে দেখাতে ওইসব চুক্তির আশ্রয় নেওয়া হয়।

২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে সিটির বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে স্বাধীন কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তদন্তে সাহায্য না করা সম্পর্কিত বিষয়েও ওঠা অভিযোগের অধিকাংশ সত্য প্রমাণিত হয়েছে।

কমিশনের মূল রিপোর্টের একটা সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করে প্রিমিয়ার লিগ। যেখানে বলা হয়, সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের আইন ভঙ্গের চারটি প্রধান ক্যাটাগরির অপরাধে শতাধিকের বেশি অভিযোগ ওঠে।

আরও বলা হয়, ওইসব ক্যাটাগরিতে একটি বাদে ১১৫টি অভিযোগের সবগুলোতেই দোষী প্রমাণিত হয়েছে সিটি।

প্রতারণামূলক বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে ৮৩ কোটি ৬৯ লাখ পাউন্ড ‘লুকায়িত তহবিল সরবরাহ’ করা হয়েছে।

“এই সম্পর্কিত স্পন্সরশিপ চুক্তিগুলো নকল হিসেবে পাওয়া গেছে, কিংবা তাদের আর্থিক কাঠামোয় তা ধরা পড়েনি।”

তাদের বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ হলো, ২০০৯-১০ মৌসুম থেকে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়ে প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিষয়ে আইন লঙ্ঘন। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত সময়ে প্রতিবারই স্পন্সর থেকে আয়সহ মোট বার্ষিক আয় এবং ক্লাব পরিচালনা ব্যয় সংক্রান্ত সঠিক আর্থিক হিসাবের তথ্য দেয়নি ক্লাবটি।

প্রিমিয়ার লিগের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড মাস্টার্স বলেছেন, “এই মূল সিদ্ধান্ত সেটাই প্রমাণ করে, যা ওই সময়কালে ম্যানচেস্টার সিটিতে হয়েছিল। এটা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেছে যে, কীভাবে ক্লাবটি প্রায় এক দশক ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে প্রিমিয়ার লিগের আইন ভেঙেছে।

“ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে মামলাটি চালিয়ে যেতে প্রিমিয়ার লিগের দৃঢ় থাকার বিষয়টিও এতে প্রমাণিত হয়। যেখানে পুরো প্রক্রিয়াটি চলেছে দীর্ঘ সময় নিয়ে এবং সবকিছুই ছিল বেশ কঠিন। পুরো ঘটনা ও সত্য স্বাধীনভাবে উন্মোচিত করার বিষয়ে লিগ ছিল বদ্ধপরিকর।”

মাস্টার্সের মতে, এই মামলা এবং এর রায় ‘প্রিমিয়ার লিগের ইতিহাসের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।’ তবে আরেকটি মূল বিষয় এখনও অসমাপ্ত রয়ে গেছে, বলেন তিনি।

“এখন আমাদের সামনে কমিশনের সিদ্ধান্ত আছে, তাই প্রক্রিয়াটির বাকিটাও আমরা দ্রুত সারতে চাই, লিগ, আমাদের ক্লাব ও সমর্থকদের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে।”