২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

চেলসির দুর্দশা বাড়িয়ে আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমাল সিটি

ম্যানচেস্টার সিটির দাপুটে জয়ে শিরোপা লড়াইয়ে যোগ হলো নতুন উন্মাদনা।

চেলসির দুর্দশা বাড়িয়ে আর্সেনালের সঙ্গে ব্যবধান কমাল সিটি
দারুণ এক গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে সতীর্থদের মধ্যমণি মার্ক গেয়ি (বাঁয়ে)। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Apr 2026, 11:42 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:24 PM

বিরতির পর যে আগ্রাসী রূপে ধরা দিল ম্যানচেস্টার সিটি, তার জবাব খুঁজে পেল না চেলসি। অল্প সময়ে তিনবার জালে বল পাঠিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিল পেপ গুয়ার্দিওলার দল।

স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে রোববার প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ৩-০ গোলে জিতেছে সিটি। নিকো ও’রাইলি দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ব্যবধান বাড়ান মার্ক গেয়ি। তৃতীয় গোলটি করেন জেরেমি ডোকু।

চেলসির বিপক্ষে আসরে প্রথম দেখায় জানুয়ারির শুরুতে ঘরের মাঠে ১-১ ড্র করেছিল সিটি। এবার প্রথমার্ধে ভুগতে হলেও, পরে দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দিল তারা।

শিরোপা লড়াইয়েও যোগ হলো নতুন রোমাঞ্চ। ৩১ ম্যাচে ১৯ জয় ও সাত ড্রয়ে ৬৪ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে সিটি। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আর্সেনাল।

বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও, ম্যাচের শুরুর দিকে ভালো কয়েকটি আক্রমণ করে চেলসি। তাদের কোনো আক্রমণের শেষটা অবশ্য ভালো হয়নি। দলটির অভিজ্ঞ লেফট-ব্যাক মার্ক কুকুরেইয়া দারুণ এক শটে বল জালে পাঠালেও, অফসাইডে তা কাটা পড়ে।

প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের জন্য সমান পাঁচটি করে শট নিতে পারে, যদিও উল্লেখযোগ্য তেমন কিছু করতে পারেনি কেউ। দুই গোলরক্ষকের কাউকেই খুব কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়নি।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হতেই যেন সিটির খেলায় নতুন গতি পায়। ৪৭তম মিনিটে ডি-বক্সে অরক্ষিত আর্লিং হলান্ডের শট রক্ষণে প্রতিহত হওয়ার খানিক পর, ডোকু ডি-বক্সেই কোল পামারের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে পড়ে গেলে পেনাল্টির আবেদন করে সফরকারীরা। তবে রেফারির সাড়া মেলেনি।

কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য গোল পেয়ে যায় শিরোপাপ্রত্যাশী দলটি। ৫১তম মিনিটে ডান দিক থেকে হায়ান শেহকির বাড়ানো ক্রসে হেডে গোলটি করেন নিকো ও’রাইলি।

এবারের লিগে এই নিয়ে পাঁচটি গোল করলেন ২১ বছর বয়সী এই লেফট-ব্যাক, এর চারটিই এই নিয়ে পাঁচ ম্যাচে। 

ছয় মিনিট পর আরেক ডিফেন্ডার গেয়ির নৈপুণ্যে গোল উদযাপনে মাতে সিটি। এই গোলেও অবদান রাখেন শেহকি। 

এই ফরাসি অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার বল পায়ে আড়াআড়ি এগিয়ে দুজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে খুঁজে নেন গেয়িকে। আর দারুণ প্রথম ছোঁয়ায় বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে ইংলিশ সেন্টার-ব্যাক। 

৬৮তম মিনিটে নিজেদের ভুলে তৃতীয় গোল হজম করে চেলসি। ডি-বক্সের বাইরে গোলরক্ষকের পাস পেয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি মোইসেস কাইসেদো, তার থেকে বল কেড়ে নিয়ে ক্ষিপ্রতায় বক্সে ঢুকে নিচু শটে জালে পাঠান বেলজিয়ান ফরোয়ার্ড ডোকু।

সিটির বিপক্ষে আরেকটি পরাজয় এড়ানোর চেষ্টায় বাকি সময়ে ন্যুনতম চ্যালেঞ্জও জানাতে পারেনি চেলসি। 

২০২১ সালের মে মাসে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে মুখোমুখি লড়াইয়ে সেই যে ১-০ গোলে জিতেছিল চেলসি, এরপর সিটিকে আর কোনো প্রতিযোগিতাতেই হারাতে পারেনি তারা।

এবারের লিগে টানা তৃতীয় ও এই নিয়ে সবশেষ পাঁচ রাউন্ডের চারটিতে হারল চেলসি। ৩২ ম্যাচে ৪৮ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে তারা।