Published : 03 Aug 2026, 01:10 PM
প্রিয় আঙিনা থেকে বিদায়টা ছিল অপ্রত্যাশিত। আঘাতটাও তাই ছিল তীব্র। তবে সময়ের সঙ্গে হৃদয়ের সেই ক্ষত সেরে গেছে বলেই জানালেন শাবি আলোন্সো। নতুন উদ্যমে উজ্জীবিত হয়ে তিনি এখন তার স্বপ্নগুলো ডালপালা মেলছে চেলসিকে ঘিরে।
বায়ার লেভারকুজেনের কোচের দায়িত্বে চমকপ্রদ সাফল্যের পর গত মৌসুমের আগে আলোন্সোকে কোচ করে নিয়ে আসে রেয়াল মাদ্রিদ। এই ক্লাবে তিনি খেলেছেন ৫ বছর। ১৮ বছরের খেলোয়াড়ি জীবনে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছেন এই ক্লাবের হয়েই। কোচের দায়িত্বটি তাই পেশার পাশাপাশি তার জন্য ছিল আবেগের।
তবে বাস্তবতার জমিনে মুখ থুবড়ে পড়তেও সময় লাগেনি। রেয়ালে পথচলা শুরুর কিছুদিন পর থেকেই দলের সিনিয়র ফুটবলারদের অনেকের সঙ্গে তার মনোমালিন্যের খবর ছড়াতে থাকে। বিশেষ করে ক্লাবের ‘পোস্টার বয়’ ভিনিসিউস জুনিয়রের সঙ্গে তার বিভেদ দিয়ে আলোচনা ছিল প্রবল।
মাঠের ফুটবলেও মেলেনি প্রত্যাশিত সাফল্য। তাই সাত মাসেই শেষ হয় তার অভিযান। গত জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনার কাছে হারার পর পারস্পরিক সমঝোতায় ক্লাব ছাড়েন তিনি। আসলে ছাড়তে বাধ্য হন।
সেই তিনি এখন দায়িত্ব নিয়েছেন চেলসির। বেশ কজন ফুটবলারকে দলে নিয়েছেন তিনি। পশ্চিম লন্ডনের ক্লাবটির গৌরব ফিরিয়ে আনার চ্যালেঞ্জে এখন তিনি উজ্জীবিত।
অস্ট্রেলিয়ায় চেলসির প্রাক-মৌসুম সফরের শুরুতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ৪৪ বছর বয়সী কোচ বললেন, রেয়াল মাদ্রিদ অধ্যায়ের ধাক্কা তিনি সামলে নিয়েছেন।
“সৌভাগ্যবশত আমার ক্যারিয়ারে খুব বেশি ক্ষত নেই। সুতরাং, ঠিক আছে…আমার একটি ক্ষত ছিল, কিন্তু এসব তো সেরেই যায়। এটিও এখন সেরে গেছে। মাদ্রিদে শুরুর সময়ে যেমন ছিলাম, এখানেও উপভোগ করার জন্য খুবই উজ্জীবিত ও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
পেছনে ফিরে তাকালে, ইতিবাচক দিকগুলো দেখি এবং যে বিষয়গুলো কাজ করেনি, সেগুলো থেকে শিক্ষা নিই। যেহেতু সবকিছু প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি, তাই আরও ভালোভাবে কী কী করতে পারতাম, তা নিয়ে ভেবে নিজের সমালোচনা করি ও সমাধান খুঁজি।”
রেয়ালে দৃশ্যমান ইতিবাচক দিক খুব বেশি ছিল না তার সময়টাতে। তবু তিনি শোনালেন তার প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তিগুলো।
(ইতিবাচক দিকগুলোর কথা বলতে গেলে), অনেক অভিজ্ঞতা আছে, আমাকে যে মানিয়ে নিতে হয়েছিল, খেলার দিক থেকে এবং খেলোয়াড় ব্যবস্থাপনার দিক থেকে কিছু বিষয়, যা কাজে লেগেছে এবং কিছু যা লাগেনি। এটা সবকিছুরই একটা মিশ্রণ।
গত মৌসুমে তিনজন কোচ বদলে শেষ পর্যন্ত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে দশম স্থানে থেকে শেষ করে চেলসি। ইউরোপের কোনো আসরে এবার তারা খেলতে পারবে না। সেই ক্লাবকে টেনে তোলার দায়িত্ব এখন আলোন্সোর।
লিভারপুল, রেয়াল মাদ্রিদ ও বায়ার্ন মিউনিখে ১৪টি ট্রফিজয়ী ও স্পেনের হয়ে ২০১০ বিশ্বকাপ, ২০০৮ ও ২০১২ ইউরোজয়ী এই তারকা বললেন, জেনেবুঝেই চেলসির চ্যালেঞ্জটি নিতে নিয়েছেন।
“(মস্তিষ্ক এবং অন্তরাত্মার দিকে ইঙ্গিত করে) এখান থেকেও অনেক কিছু বোঝার ছিল। আমি দেখলাম, এই ক্লাবের জন্য এটাই সঠিক সময়, আমার জন্যও সঠিক সময়, একটি ভালো সুযোগ।
এটি এমন একটি দল, যারা সম্প্রতি খুব ভালো খেলছে এবং গত মৌসুমের শেষে পরিস্থিতি যতটা খারাপ মনে হয়েছিল, ততটা খারাপ ছিল না। উন্নতির অনেক সম্ভাবনা আছে এবং দেখা যাক এতে কত সময় লাগে।”
পশ্চিম লন্ডনের প্রতিদ্বন্দ্বী ফুলহ্যামের মাঠে ম্যাচ দিয়ে আগামী ২৪ অগাস্ট চেলসি শুরু করবে প্রিমিয়ার লিগ মৌসুম।