১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

মৌসুমের প্রথম ম্যাচেই ভিনিসিউসকে ‘উত্যক্ত’, ক্ষুব্ধ মরিনিয়ো

‘ভিনিসিউস অবশ্যই সাধু নয়। কিন্তু ওর সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তা বাড়াবাড়ি’, বললেন রেয়াল মাদ্রিদের কোচ জোসে মরিনিয়ো।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2026, 03:10 PM

Updated : 16 Sep 2026, 05:11 PM

নতুন মৌসুম, নতুন শুরু। কিন্তু সমস্যা পুরোনো। লা লিগায় রেয়াল মাদ্রিদের প্রথম ম্যাচ থেকেই শুরু হয়েছে ভিনিসিউসকে হেনস্থা করার অভিযোগ। শুরু থেকেই প্রতিবাদে সরব নতুন কোচ জোসে মরিনিয়ো। আঙুল তুলছেন তিনি প্রতিপক্ষ ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে। রেয়ালের পর্তুগিজ কোচের মতে, বাড়াবাড়ি করা হচ্ছে ভিনিসিউসের সঙ্গে। 

শিরোপা পুনরুদ্ধারের অভিযানের শুরুটা জয় দিয়েই করতে পেরেছে রেয়াল মাদ্রিদ। পুরোনো দায়িত্বে মরিনিয়োর নতুন অধ্যায়ের শুরুটাও হয়েছে স্বস্তিতে। যদিও জয়টা সহজে আসেনি। এস্পানিওলের মাঠে শেষ সময়ের গোলে ২-১ ব্যবধানে জিতেছে লা লিগার সফলতম দলটি। 

ভিনিসিউস একটু-আধটু ঝলক দেখালেও খুব বেশি আলো ছড়াতে পারেননি গোটা ম্যাচে। তবে ম্যাচের পর তিনি আলোচনায় অন্য কারণে। 

ম্যাচের প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ভিনিসিউসকে পেছন থেকে ফেলে দেন এস্পানিওলের আলেক্স কালাত্রাভা এবং ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় আবারও আঘাত করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন রেয়ালের ফুটবলাররা। তারা লাল কার্ডের দাবি জানালেও রেফারি কোনো ব্যবস্থা নেননি কালাত্রাভার বিরুদ্ধে।

ম্যাচের নবম মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম রেয়ালকে এগিয়ে দেওয়ার পর এই কালাত্রাভাই ৩০তম মিনিটে গোল করে সমতা ফেরান ম্যাচে। ৯০তম মিনিটে রেয়ালের জয়সূচক গোলটি করেন বদলি নামা কার্লোস এস্পি।  

ম্যাচের পর মরিনিয়োর অভিযোগ, ভিনিসিউসের সঙ্গে এই ধরনের আচরণ নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

“ভিনিসিউস অবশ্যই সাধু নয়। কিন্তু ওর সঙ্গে ওরা যা করছে, তা বাড়াবাড়ি। একেবারে প্রথম মিনিট থেকেই। এরকম ঘটনা ওকে নিয়ে বারবারই ঘটছে এবং এক প্রতিপক্ষের কাছ থেকে আরেক প্রতিপক্ষের কাছে ফিরে আসছে।

আমি ওকে একটা দেব, এবার তুমিও ওকে একটা দাও। আমি যদি হলুদ কার্ড পাই, তুমি ওকে একটা দেবে। আমাকে যদি বদলি করা হয় এবং এমন কোনো খেলোয়াড় মাঠে নামে, যাকে এখনও কার্ড দেখানো হয়নি, তাহলে তুমি তাকেও একটা দেবে। এভাবেই চলছে।”

মরিনিয়োর মতে, ভিনিসিউসকে এভাবে প্রায়ই প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার এবং দর্শকদের কাছ থেকে অপমানের শিকার হতে হয়। তবে এত উস্কানি সত্ত্বেও তাকে সংযত থাকতে হবে, বললেন কোচ। 

“তার আবেগের ওপর অনেক নিয়ন্ত্রণ থাকা দরকার। আমি তাকে বলেছি যে, যদি সে গোল করে, তবে গোল উদযাপনের ব্যাপারে তাকে সতর্ক থাকতে হবে।

আমরা এমন এক যুগে আছি, যেখানে দাবি করা হয় সমাজ উৎপীড়নের বিরুদ্ধে, তবুও ভিনির ক্ষেত্রে আমরা এখনও দেখতে পাচ্ছি তাকে উত্যক্ত করতে– প্রতিপক্ষ এবং দর্শকদের কাছ থেকে। তাকে যথাসম্ভব শিক্ষিত ও প্রস্তুত করতে হবে আমাদের। এটুকুই আমরা পারি।”

এই বিতর্কটি গত মৌসুমের কথাও মনে করিয়ে দেয়, মরিনিয়ো যখন ছিলেন বেনফিকার কোচ। রেয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে মুখ ঢেকে রেখে ভিনিসিউসকে বর্ণবাদী গালি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে বেনফিকার জানলুকা প্রেস্তিয়ান্নির বিরুদ্ধে। পরে ছয় ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয় আর্জেন্টিনার ওই তরুণ উইঙ্গারকে। 

পরে প্রেস্তিয়ান্নির পক্ষ নেওয়ায় তীব্র সমালোচিত হয়েছিলেন মরিনিয়ো। তিনি বলেছিলেন, গোল উদযাপনের ধরন দিয়ে দর্শকদের উসকে দিয়েছিলেন ভিনিসিউস এবং বেনফিকা কোনোভাবেই বর্ণবাদী নয়, কারণ পর্তুগিজ ক্লাবটির সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় ইউসেবিও ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ।