Published : 10 Aug 2026, 07:15 PM
চারিদিক থেকে তীব্র সমালোচনার মুখে ‘বিশ্বকাপের স্বত্ব’ বিক্রির পরিকল্পনা থেকে সরে আসলেও, যেন নিস্তার নেই ফিফা ও সংস্থাটির প্রধান জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর। উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এএফসির অভিযোগ, ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা বিতর্কিত ওই পরিকল্পনা করে ‘বিশ্বাস ভেঙেছে এবং প্রতারণা করেছে।‘
বাইরের বিনিয়োগকারীদের কাছে বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনার কথা ফিফা জানানোর পর থেকে, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন ইভেন্ট পরিচালনার জন্য একটি নতুন সংস্থার প্রায় ২০ শতাংশ অংশীদারিত্ব বিক্রি করে ৪.২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত তহবিল সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি।
প্রস্তাবটি সামনে আসার পরই ব্যাপক বিরোধিতার মুখে পড়ে। প্রায় সব সমালোচনার নিশানা ছিলেন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো। সবার আগে কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানায় ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থা উয়েফা। একইরকম অবস্থান নেয় উয়েফা, উত্তর আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা (কনক্যাকাফ) ও এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি)।
উয়েফা তো বিশ্বকাপসহ ফিফার সব আসর বর্জনের হুমকিও দেয়।
পরে পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে, নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে ফিফা। প্রস্তাবটি ঘিরে নিজেদের ভুলের জন্য তারা তাদের সদস্যদের কাছে ক্ষমাও চায়। তবুও, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। বরং সভাপতির পদ থেকে ইনফান্তিনোর সরে দাঁড়ানোর দাবিও উঠছে।
ভীষণ উত্তপ্ত এই অবস্থার মাঝে ইনফান্তিনোকে লক্ষ্য করে, ফুটবল পরিবারের উদ্দেশ্যে উয়েফা, কনক্যাকাফ ও এএফসির লেখা একটি খোলা চিঠি সোমবার প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে লেখা হয়েছে, যে উপায়ে বিশ্বকাপসহ ফিফার সকল ইভেন্টের অংশীদারিত্ব বিক্রির পরিকল্পনা করা হয়, তাতে ‘বিচক্ষণতার চরম অভাব’ ফুটে ওঠে। সেই সঙ্গে ইনফান্তিনোকে কাঠগড়ায় তুলে বলা হয়েছে, তিনি যেন বিশ্বাস করেন যে, খেলাটির সবকিছু কেবল তার কাছেই দায়বদ্ধ।
“পুরো ব্যাপারটি (ফুটবলের) মৌলিক বিষয়: খেলাটির বিশুদ্ধতা এবং এর নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য যারা নির্বাচিত হয়েছেন তাদের সততার বিষয়। ফুটবলের নেতৃত্ব কোনোভাবে দখল নেওয়ার ব্যাপার নয়। এটা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বা ক্ষমতা ধরে রাখারও ব্যাপার নয়। এটা ফুটবল পরিবারের প্রতি দায়িত্ব পালনের ব্যাপার, যে দায়িত্ব (একজনের প্রতি) অর্পিত হয়েছে।
“প্রতারণা করার ফলে যখন বিশ্বাস ভেঙে যায়, যখন কোনো ব্যক্তি কর্তৃত্ব সহকারে নিজেকে সবকিছুর উর্ধে ভাবতে শুরু করে, তখন (তার ওপর অর্পিত) মূল দায়িত্বটাই অবহেলিত রয়ে যায়।”
একটি সংবাদ সংস্থার বরাত দিয়ে ইএসপিএন লিখেছে, ওই তিন সংস্থা নিজেদের মধ্যে টুর্নামেন্ট আয়োজনের ব্যাপারে প্রাথমিক আলোচনাও করেছে। কারণ তারা চায়, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে যেন এই সংস্থাগুলোর অধীনে থাকা খেলোয়াড়রা মানসম্পন্ন টুর্নামেন্টে লড়াইয়ের সুযোগ পান।
একই সঙ্গে এই ধারণাও মিলেছে যে, তারা ইনফান্তিনোকে পদত্যাগ করার এবং স্ব-সম্মানে সরে যাওয়ার সুযোগ দিতে চায় এবং যেন তিনি আগামী মার্চের নির্বাচনে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার চেষ্টা না করেন।