২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ব্যালন দ’র জিতে ‘বাকরুদ্ধ’ কেইন

তরুণ ও উদীয়মান ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে কেইন বলেন, কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব।

ব্যালন দ’র জিতে ‘বাকরুদ্ধ’ কেইন

ব‍্যালন দ’র জয়ের পর প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন হ‍্যারি কেইন। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Oct 2026, 04:12 PM

Updated : 27 Oct 2026, 04:12 PM

মৌসুম জুড়ে সবুজ গালিচায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করে দীর্ঘদিনের এক স্বপ্ন পূরণ হয়েছে হ্যারি কেইনের। ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ব্যালন দ’র জেতার আনন্দে যেন আত্মহারা বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের এই স্ট্রাইকার। এতটাই উচ্ছ্বসিত যে, কিছু বলার ভাষাই হারিয়ে ফেলেছেন তিনি।

লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে সোমবার রাতে জমকালো অনুষ্ঠানে কেইনের হাতে তুলে দেওয়া হয় ফরাসি সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ এর পুরস্কার, ব্যালন দ’র ২০২৬। কিলিয়ান এমবাপে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে বর্ষসেরার স্বীকৃতি পান ৩৩ বছর বয়সি এই ফুটবলার।

পঞ্চম ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ব্যালন দ’র জিতলেন কেইন। দুই যুগ পর মর্যাদাপূর্ণ এই সম্মাননা পেলেন ইংল্যান্ডের কেউ। কেইনের আগে ২০০১ সালে জিতেছিলেন মাইকেল ওয়েন।

ব্যালন দ’র পুরস্কার হাতে নেওয়ার পর যেন আবেগ ছুঁয়ে যায় কেইনকে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করার সময় তাকে ভোট দেওয়ার জন্য সবার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

“ওয়াও, ওয়াও, ওয়াও! আমি প্রায় বাকরুদ্ধ। লন্ডনে থাকাটা এই রাতটিকে আমার জন্য আরও বেশি বিশেষ করে তুলেছে। আজ রাতে আমার জন্য শুভ হয়ে এসেছে। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমার ধারণা, এই বছর সিদ্ধান্ত নেওয়াটা কঠিন ছিল।

“আজ রাতে এই কক্ষে বিশ্বমানের অনেক খেলোয়াড় আছেন। পুরস্কারজয়ী ও মনোনীত সবাইকে অভিনন্দন। কঠোর পরিশ্রম ও দৃঢ়তার মাধ্যমে যে সত্যিই সাফল্য পাওয়া যায়, সেটা আপনারা দারুণভাবে তুলে ধরেছেন।”

ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে টটেনহ্যাম হটস্পারে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে বেশ লড়াই করতে হয় কেইনকে। তরুণ বয়সে একাধিক ক্লাবে ধারে খেলতে হয় তাকে। তবে ধীরে ধীরে নিজের প্রজন্মের অন্যতম পরিপূর্ণ স্ট্রাইকার হয়ে ওঠেন তিনি। সব ধরনের গোল করার পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে গোল করানোর দক্ষতাও গড়ে তোলেন।

বায়ার্ন মিউনিখে গিয়ে যেন নতুন উচ্চতায় ওঠেন কেইন। জার্মান ক্লাবটিতে গত মৌসুমটা স্বপ্নের মতো কাটে তার। বুন্ডেসলিগা ও জার্মান কাপ জয়ে তিনি রাখেন বড় অবদান। ক্লাবের হয়ে গোল করেন ৬১টি।

ইংল্যান্ডের জার্সিতেও সময়টা দারুণ কাটে কেইনের। আর গত মৌসুমে জাতীয় দলের হয়ে ১২টি গোল করেন তিনি। যার মধ্যে গত বিশ্বকাপে গোল করেন ছয়টি, যেখানে সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নেয় তার দল।

তরুণ ও উদীয়মান ফুটবলারদের উদ্দেশ্যে কেইনের বার্তা, কঠোর পরিশ্রম করলে সবকিছু অর্জন করা সম্ভব।

“এটা আসলে পথচলার গল্প। সবকিছুই সম্ভব, শুধু কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যখন কেউ দেখছে না, তখনও।

“যে ছেলে বা মেয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে চায়, তাদের সবার জন্য বলছি-সবকিছুই সম্ভব। আমি এমন কোনো শিশু ছিলাম না, যে সোজা শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছে। আমাকে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে। আজকের এই অবস্থানে এসে সেরাদের সেরা হতে নিজের পথ খুঁজে নিতে হয়েছে।”