সিটির শিরোপা কেড়ে নেওয়া হলে ইউনাইটেডের ‘পাওয়া উচিত নয়’
ম্যানচেস্টার সিটির কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নেওয়ার পক্ষে না হলেও, দোষী সাব্যস্ত হলে ক্লাবটির কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত বলে মনে করেন ওয়েইন রুনি।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের দায়ে ‘দোষী সাব্যস্ত হওয়া’ ম্যানচেস্টার সিটি কী ধরনের শাস্তি পেতে পারে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা। ওয়েইন রুনি বলেছেন, ক্লাবটির লিগ শিরোপা কেড়ে নেওয়া হলেও সেটি তার সাবেক ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে দেওয়া উচিত হবে না।
প্রিমিয়ার লিগের আনা ১১৫টি অভিযোগের বেশিরভাগেই সিটি দোষী সাব্যস্ত হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর আসে গত শুক্রবার।
আর্থিক সংক্রান্ত অভিযোগগুলো ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুমের সময়কালের; পাশাপাশি ২০১৮ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগও রয়েছে সিটির বিরুদ্ধে।
এখনও কোনো শাস্তির ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং সিটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা করছে বলে গণমাধ্যমের খবর।
সম্ভাব্য শাস্তির একটি হতে পারে সিটির লিগ শিরোপাগুলো কেড়ে নেওয়া। ২০০৯ সালে শেখ মানসুর ক্লাবটির মালিকানা গ্রহণের পর থেকে তারা আটবার প্রিমিয়ার লিগ জিতেছে; এর মধ্যে তিনটি শিরোপা জিতেছে তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগের সময়কালে।
২০১১-১২ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে সিটির পেছনে থেকে দ্বিতীয় হওয়া ইউনাইটেড দলের সদস্য ছিলেন রুনি, কিন্তু তিনি চান না আগের কোনো শিরোপা তাদের দেওয়া হোক। ‘স্টিক টু ইউনাইটেড’ পডকাস্ট-এ নিজের এই ভাবনার ব্যাখ্যাও দেন সাবেক ইংলিশ স্ট্রাইকার।
“সত্যি বলতে, অন্য কোনো প্রিমিয়ার লিগ পদক গ্রহণ করতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব না, কারণ আমার মনে হয় না এটা আমাদের প্রাপ্য। ওই মৌসুমে লিগ জেতার জন্য আমরা যথেষ্ট ভালো কিছু করিনি। আমি তাদের (সিটির) খেলোয়াড়দের কথা ভাবছি-তারা প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা জেতার জন্য সাধ্যমতো সবকিছু করেছে এবং তারা সেটা জিতেছেও।
“আর যদি ওপরের মহলে কী ঘটছে, সে সম্পর্কে ওই খেলোয়াড়দের কোনো ধারণাই না থাকে, তাহলে আমার ক্ষেত্রে যদি এমনটা ঘটত-হঠাৎ যদি দেখা যেত যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডও একই কাজ করেছে এবং আমার কাছ থেকে প্রিমিয়ার লিগ পদক কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, তাহলে আমি ভীষণভাবে ভেঙে পড়তাম। তারা হয়তো পদকগুলো কেড়ে নিতে পারে, কিন্তু আমি তা চাইব না; কারণ দল হিসেবে ওই বছর আমরা এর যোগ্য ছিলাম বলে মনে করি না, যেহেতু আমরা প্রথম হতে পারিনি।”
সিটির দোষী সাব্যস্ত হওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসার পর ইউনাইটেডে রুনির সাবেক সতীর্থ রিও ফার্ডিনান্ড ও দাভিদ দে হেয়া সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করেন যে, তাদের (ইউনাইটেডকে) আগের কোনো শিরোপা দিয়ে দেওয়া উচিত।
তবে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের দলটির সফলতম গোলস্কোরার রুনির ভাবনা ভিন্ন।
“সাবেক সতীর্থ ও অন্যদের বলতে শুনেছি যে, ‘আমরা আরও একটা পদক জিতেছি’, তবে আমি যে পাঁচটি পদক জিতেছি, তাতেই আমি খুশি। আমি চাই না যে, সিটি প্রতারণা করেছে বলে ১৫ বছর বা তারও বেশি সময় পর আমাকে একটা পদক ধরিয়ে দেওয়া হোক। এতে আমি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করব না।
“প্রশ্ন হলো, দ্বিতীয় হওয়ার জন্য আমি কি সেই পদকটি নিতে চাইব? উত্তর হলো, না। অন্য কোনো খেলোয়াড় হয়তো চাইতে পারে। কিন্তু দ্বিতীয় হওয়ার জন্য প্রিমিয়ার লিগের পদক গ্রহণ করতে আমার ভালো লাগবে না।”
সিটির কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নেওয়ার বিপক্ষে হলেও, ক্লাবটির অবনমন হওয়া উচিত বলে মনে করেন রুনি।
“আমার মনে হয় আমরা সিটির অবনমন হতে দেখব। কীভাবে সেটা হবে জানি না, তবে আমার ধারণা তাদের অবনমন হবে। আমি হলে তাদের সম্ভাব্য সর্বনিম্ন লিগে পাঠিয়ে দিতাম এবং পরবর্তী তিন বা চার মৌসুমের জন্য তারা কত অর্থ ব্যয় করতে পারবে, তার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করতাম।
কেন সিটির কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত, সেটার ব্যাখ্যাও দিলেন ৪০ বছর বয়সি রুনি।
“যদি তাদের শুধু চ্যাম্পিয়নশিপে (দ্বিতীয় বিভাগ) পাঠানো হয়-যদিও সেটাও বড় শাস্তি-তবুও তারা আবার ফিরে আসবে। কিন্তু যদি তাদের ওপর বিধিনিষেধ থাকে... যেমন ‘লিগ টু’-তে পাঠানো বা অন্য কিছু... তাহলে সেটা তাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।
“উদাহরণস্বরূপ, যদি পরবর্তী তিন বছরে তাদের ২০ পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়, তাহলে খেলোয়াড়রা সেখানে থাকতে চাইবে না। আর যদি মাত্র এক মৌসুমের জন্য চ্যাম্পিয়নশিপে থাকতে হয়, তাহলে খেলোয়াড়দের বুঝিয়ে-সুজিয়ে রাখা সম্ভব। আমি আসলে যতটা সম্ভব কঠোর পদক্ষেপই নিতাম।”
