Published : 03 Jul 2026, 08:25 AM
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে এলোমেলো শুরুর পর, শেষদিকে হ্যারি কেইনের কাঁধে চড়ে যেভাবে খাদের কিনারা থেকে ঘুরে দাঁড়ায় ইংল্যান্ড, তাতে দলটির সামনের পথচলা নিয়ে শঙ্কার যথেষ্ট কারণ দেখছেন থিয়েরি অঁরি। এই ফরাসি গ্রেটের মতে, কেইনের ওপর এত বেশি নির্ভরশীলতা পরের ম্যাচেই দলটিকে ভোগাতে পারে।
আটলান্টায় বুধবার শেষ বত্রিশের ম্যাচে শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর, শেষ সময়ে কেইনের ১১ মিনিটের জোড়া গোলে, অনেক কষ্টে ২-১ ব্যবধানে জয় পায় ইংল্যান্ড।
কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে, বাংলাদেশ সময় আগামী সোমবার সকালে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। একেতো লড়াইটা দারুণ ছন্দে এগিয়ে চলা স্বাগতিক দলের বিপক্ষে, তারওপর ম্যাচটা হবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাত হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায়, মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আসতেকা স্টেডিয়ামে।
অঁরির মতে, এই ম্যাচে টমাস টুখেলের দল, আসতেকায় যে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে, আসরে এখন পর্যন্ত তেমন কিছুর সামনে একবারও পড়েনি তারা। তাই ফক্স স্পোর্টসে আলাপকালে ইংল্যান্ড দলকে সিংহের ডেরায় গিয়ে ম্যাচের শুরুটা ঠিকঠাকভাবে করার তাগিদ দিলেন।
“আপনি হয়তো এত আগে সেখানে যেতে চান না, তবে এখন উচিত হবে, পরিস্থিতি অনুধাবন করে, সেই অনুযায়ী কাজ করা।
“তারা যদি (ডিআর কঙ্গোর) বিপক্ষে যেভাবে শুরু করেছে, মেক্সিকোর বিপক্ষেও সেভাবে করে, তাহলে (সমুদ্রপৃষ্ট থেকে) উচ্চতার বিষয়টি বিবেচনায় নিলে, আমরা জানি না, আবহাওয়া কেমন হবে। তবে, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত মাঠে খেলা একরকম বিষয়, আর এমন উচ্চতায় খেলা পুরোপুরি অন্যরকম ব্যাপার।”
চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে ইংল্যান্ডের করা আট গোলের পাঁচটিই করেছেন কেইন। যা একইসঙ্গে তার দুর্দান্ত ফর্মের প্রমাণ দেয়, আবার তার ওপর ইংলিশদের অধিক নির্ভরতাও ফুটে উঠছে- যা অঁরির চোখে খুব ভালো কিছু নয়।
বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে গোল উৎসবের অবিশ্বাস্য এক মৌসুম কাটিয়ে আসা কেইন সবসময় ইংল্যান্ড দলকে টেনে তুলতে পারবে না বলেও মনে করেন ফ্রান্সের বিশ্বকাপ জয়ী তারকা।
“এই মানুষটা সম্পর্কে আমরা সবাই জানি। স্যার হ্যারি কেইন, যেকোনো পরিস্থিতিতে যেকোনো দলের রক্ষণ ভেঙে দিতে পারে, কিন্তু আপনি এভাবে (ডিআর কঙ্গো ম্যাচের মতো) ম্যাচের শুরু করতে পারেন না এবং এমন অবস্থায় সবসময় কুলিং ব্রেকও পাবেন না, যা আপনাকে গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেবে। কারণ (মেক্সিকোর বিপক্ষে) কুলিং ব্রেকের পর উল্টো সমস্যায় পড়েছিল একুয়েডর।
“আমি আসলে বোঝাতে চাচ্ছি, হ্যারি কেইন…সবসময় দলকে বাঁচাতে তার এগিয়ে আসাটা।”
ইংলিশদের বিপক্ষে প্রথম ২৫ মিনিটে শুধু ওই গোল করাই নয়, এই সময়ে একচেটিয়া আক্রমণে আধিপত্য করে আফ্রিকার দলটি। প্রথম হাইড্রেশন ব্রেকের পরই তারা টুখেলের দল পাল্টা চাপ দিতে শুরু করে।
অঁরি বললেন, মেক্সিকোর বিপক্ষেও এমন কিছু হলে, হয়তো ঘুরে দাঁড়ানোর আর সুযোগ পাবে না ইংল্যান্ড। কারণ হিসেবে আসরে এ পর্যন্ত মেক্সিকানদের শতভাগ সফল যাত্রা আর পারফরম্যান্সে দাপটের চিত্র তুলে ধরলেন তিনি।
গ্রুপ পর্বে দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া ও চেকিয়াদের বিপক্ষে টানা তিন জয়ের পথে ছয় গোল দিয়ে একটিও হজম করেনি মেক্সিকো। পরে শেষ বত্রিশের ম্যাচে একুয়েডরকে তারা হারায় ২-০ গোলে।
কেবল তাই নয়, এই আসতেকায় বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে হারেনি মেক্সিকো। অন্যদিকে, ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে প্রতিযোগিতাটির ইতিহসে কেবল দ্বিতীয়বারের মতো শুরুতে পিছিয়ে পড়েও জিততে পারে ইংল্যান্ড।
তাই প্রথমে পিছিয়ে পড়লে, মেক্সিকো ভীষণ শক্তিশালী রক্ষণের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ঘুরে দাঁড়ানোর খুব একটা সম্ভাবনা দেখছেন না অঁরি।
“মেক্সিকোকে আমরা গতকাল (বুধবার) যেমন দেখেছি, একুয়েডরের বিপক্ষে যেভাবে তারা খেলেছে, তারা এখনও কোনো গোল হজম করেনি- এমন এক দলের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়ার পর, আপনারা ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন কি-না, আমি জানি না।”