২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

‘স্রেফ সমালোচনা নয়, সাবেকদেরও দায়িত্ব নতুন ফুটবল প্রজন্ম তৈরির’

সমালোচনার ক্ষেত্রে সাবেক ফুটবলারদের নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের মানসিক দিকটিও বিবেচনায় রাখা উচিত বলে মনে করেন ভার্জিল ফন ডাইক।

‘স্রেফ সমালোচনা নয়, সাবেকদেরও দায়িত্ব নতুন ফুটবল প্রজন্ম তৈরির’
লিভারপুল অধিনায়ক ভার্জিল ফন ডাইক। ছবি: রয়টার্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 06 Feb 2026, 09:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:53 PM

প্রশংসার মতো সমালোচনাও ফুটবলেরই অংশ; মানেন ভার্জিল ফন ডাইক। তবে সমালোচনার ক্ষেত্রে সাবেক ফুটবলারদের আরেকটু সতর্ক ও যত্নশীল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন এই ডাচ ডিফেন্ডার।

এই প্রয়োজনীয়তা ফন ডাইক দেখছেন নানা কারণে। বিশেষ করে, নতুন প্রজন্মের ফুটবলারদের মানসিক স্বাস্থ্যের দিকটি তার কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে বেশি।

সম্প্রতি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা গ্যারি নেভিলের সাথে বসেন ফন ডাইক। সেখানে সাবেক ফুটবলার থেকে ফুটবল পন্ডিত, ধারাভাষ্যকার হয়ে যাওয়াদের নানা মন্তব্য, তীর্যক সমালোচনার বিষয়গুলো উঠে আসে আলোচনায়।

এই মৌসুমে সাবেকদের তোপের মুখে পড়েছেন অনেকে। অফফর্মে ভোগা ফন ডাইকের কড়া সমালোচনা করেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সাবেক তারকা ওয়েইন রুনি। সম্প্রতি লিসান্দ্রো মার্তিনেসকে ধুয়ে দেন দুই সাবেক পল স্কোলস ও নিকি বাট। 

এই বিষয়গুলো ভাবিয়ে তুলেছে ফন ডাইককে। ৩৪ বছর বয়সী ডিফেন্ডার মনে করেন, অতিরিক্ত সমালোচনার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে নতুন প্রজন্মের উপর।

“ব্যক্তিগতভাবে, আমি এটার (সমালোচনার) সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি, কিন্তু আমি একটু চিন্তিত পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। সবাই যেমনটা ভাবে, এটা অতটা সহজ নয়। আমি মনে করি, শীর্ষ পর্যায়ের সাবেক খেলোয়াড়দের দায়িত্ব আছে নতুন প্রজন্ম তৈরি করার ক্ষেত্রে।”

“সমালোচনা স্বাভাবিক বিষয়, এটা খেলার অংশ এবং আমি মনে করি, এটা এখানেই থাকা উচিত। কিন্তু কখনও কখনও সমালোচনা ক্লিকবেইটের মতো হয়ে ওঠে, খেলোয়াড়দের প্রতিক্রিয়া এবং মানসিক দিকগুলো বিবেচনা না করে তাদেরকে প্ররোচিত করে।”

এই প্রজন্মের খেলোয়াড়েরা চোখ রাখে সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে হওয়া প্রশংসা, সমালোচনা-কোনোটাই তাদের দৃষ্টি এড়ায় না। ফন ডাইকের মনে হচ্ছে, বাজে সমালোচনায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে নতুনদের বিকাশের পথ।

“বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম, যারা নিয়মিতই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে থাকে। আপনি বলতে পারেন-তোমার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে থাকা উচিত নয়।’ এই কথাটি আমিও অনেকবার বলেছি।”

“আপনি তরুণ খেলোয়াড়েরা ভালো একটি ম্যাচ খেলে,তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ঢু মারে ইতিবাচক প্রশংসাসূচক বার্তা দেখার জন্য। যখন তুলনামূলক কম ভালো খেলে, তখন তারা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বুলিংয়ের বা বাজে সমালোচনার শিকার হয়, এটা আসলেই তাদের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এটা আমি অতীতে কিছু খেলোয়াড়ের উপর হতে দেখেছি।”

নেভিলদের মতো সাবেকদের অনেকে এখন বিভিন্ন মাধ্যমে ফুটবল নিয়ে মতামত, পরামর্শ দিচ্ছেন। চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের। তা করতে গিয়ে প্রশ্নও তুলছেন স্বাভাবিকভাবে। ফন ডাইক মনে করেন, অতীত অভিজ্ঞতার কারণেই এসব ক্ষেত্রে সাবেকদের দায়িত্ব আরও বেশি।

“বিশেষ করে এ ক্ষেত্রে সাবেক পেশাদার ফুটবলার, যারা শীর্ষ পর্যায়ে এই সব বিষয়ের মধ্য দিয়ে গেছেন, আমি মনে করি, এমনকি তারা বড় প্রতিষ্ঠান বা একটা বিপুল সংখ্যাক দর্শকের অংশ হলেও তাদের দায়িত্ব আছে।”

“সমালোচনা খেলার অংশ এবং এটা থাকা উচিত। এটা স্বাভাবিক। বিশেষ করে সাবেক পেশাদার যারা এই নির্দিষ্ট পরিস্থিতির মধ্যে ছিলেন এবং হয়ত তারা এটা মোকাবেলা করেছেন। আমি মনে করি, এটি এমন কিছু, সম্ভবত, এদিকে দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।”

প্রিমিয়ার লিগের শিরোপাধারী লিভারপুলের চলতি মৌসুম অবশ্য ভালো যাচ্ছে না মোটেও। ২৪ ম্যাচে ৩৯ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে আছে তারা। দলের এমন বিবর্ণতায় প্রশ্নের মুখে আছেন ফন ডাইকের মতো মোহামেদ সালাহও। ঘুরে দাঁড়ানোর আশা নিয়ে রোববার তারা মুখোমুখি হবে ম্যানচেস্টার সিটির।