Published : 20 Sep 2024, 03:03 PM
পেনাল্টি বাঁচানোই যথেষ্ট ছিল নায়ক হওয়ার জন্য। কিন্তু পরমুহূর্তে যেটি করলেন দাভিদ রায়া, তাতে অনেকের চোখ কপালে উঠে গেল, অনেকের চোয়াল ঝুলে গেল। সেই মুগ্ধতার রেশ রয়ে গেল ম্যাচের অনেক পরেও। আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতা তো বলেই দিলেন, এমন সেভ ক্যারিয়ারে দেখেননি তিনি। প্রতিপক্ষ কোচও স্তুতির জোয়ারে ভাসালেন রায়াকে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের নতুন মৌসুমের প্রথম ম্যাচে বৃহস্পতিবার আতালান্তার মাঠে গোলশূন্য ড্র করে আর্সেনাল।
চোট পাওয়া অধিনায়ক মার্টিন ওডেগোরকে ছাড়া খেলতে নেমে খুব একটা সুবিধা করতে পারেনি আর্সেনাল। প্রথম আধ ঘণ্টায় যদিও বলের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদেরই বেশি, তবে কেমন কার্যকর কোনো আক্রমণ তারা করতে পারেনি। পরে গুছিয়ে নিয়ে আর্সেনালকে চাপে রাখে আতালান্তা। সেই পরিক্রমায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে পেনাল্টি পায় ইতালিয়ান ক্লাবটি।
মাতেও রেতেগির পেনাল্টি ডান দিকে ঝাঁপিয়ে দারুণভাবে রক্ষা করেন রায়া। তবে বিপদমুক্ত করতে পারেননি দলকে। বল ফিরে যায় রেতেগির দিকেই। এবার হেড করেন তিনি। কিন্তু রায়া ততক্ষণে আবার বাধা হতে প্রস্তুত হয়ে গেছেন! ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পেনাল্টি ঠেকানোর পর আবার প্রচণ্ড ক্ষিপ্রতায় উঠে বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে রেতেগির হেডের বল গোল লাইন থেকে ফেরান তিনি।
বল নিরাপদে বাইরে যাওয়ার পর আর্সেনালের ফুটবলাররা জড়িয়ে ধরেন রায়াকে। সবাই মিলে উদযাপন করেন গোল করার মতো করেই। ধারাভাষ্যকক্ষে তখন একজন বলছেন, ‘চোখধাঁধানো সেভ’, আরেক ধারাভাষ্যকারের উচ্চারণ, ‘অবিশ্বাস্য এক সেভ এটা।’
‘অবিশ্বাস্য’ শব্দটিই বেশি শোনা গেল রায়ার বীরোচিত পারফরম্যান্সের প্রতিক্রিয়ায়। আর্সেনাল কোচ আর্তেতা তো বিশ্বাস করতে পারছিলেন না ম্যাচ শেষেও। পয়েন্ট পাওয়ার কৃতিত্ব রায়াকেই দিলেন তিনি।
“আমার ক্যারিয়ারে দেখা সেরা দুটি সেভ দাভিদ রায়ার কাছ থেকে ওই মুহূর্তে দেখলাম।”
“জয় যদি ধরা না দেয়, অন্তত একটি পয়েন্ট আদায় করতে হবে। আমরা শুরুটা ভালো করেছিলাম। পরে নিয়ন্ত্রণ হারাই এবং অধারাবাহিক হয়ে পড়ি। রক্ষণে অবশ্য ততটা সমস্যা হয়নি, ওই পেনাল্টি ছাড়া। আর দাভিদ (রায়া) তো ছিলই।”
আতালান্তার কোচ জান পিয়েরো গাসপেরিনি অকপটেই বললেন, রায়ার জন্যই তারা পুরো পয়েন্ট পাননি।
“প্রথম সেভটি তো ভালো ছিলই, তবে ফিরতি বলে সেভটি ছিল অবিশ্বাস্য। ওদের গোলকিপারই ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।”
প্রশংসার জোয়ারে ভেসেও রায়া যথেষ্টই বিনয়ী প্রতিক্রিয়া জানালেন। বড় কৃতিত্ব দিলেন তিনি গোলকিপিং কোচকে।
“পেনাল্টি ছিল কি না, এটা ঠিক করতে অনেকটা সময় লেগে যায় (ভিএআর দেখতে)। ওই সময়টায় মাঠের এক প্রান্তে গিয়ে গোলকিপিং কোচের সঙ্গে কথা বলেছি, কোন দিকে ঝাঁপাব, কোন দিকে নয়। প্রতিটি পদক্ষেপেই তিনি আমাকে অনেক সহায়তা করেছে, কাজেই তাকে কৃতিত্ব দিতে হবে।”
“ভাগ্যকে পাশে পেয়েছিলাম যে, সঠিক দিকেই ঝাঁপিয়েছি। পরমুহূর্তেই অবশ্য দুর্ভাগ্যবশত ফিরতি বল তার কাছেই চলে যায়। তবে যথেষ্ট দ্রুততায় উঠে সেটি বাঁচাতে পেরেছি। ম্যাচে গোল হজম না করাটা ছিল দারুণ।”
ম্যাচ থেকে একটি পয়েন্ট আদায় করতে পেরেও খুশি রায়া।
“খুব কঠিন ম্যাচ ছিল। তবে আমার মনে হয়, আমরা ওদের জন্যও কাজটা কঠিন করে তুলেছিলাম। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষের মাঠে একটি পয়েন্ট খারাপ নয়। আরেকটু ভালো আমরা খেলতে পারতাম। তবে ম্যাচ জিততে না পারলে অন্তত নিশ্চিত করতে হবে যেন হেরে না যাই।”