১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

কোনো ম্যাচ না জিতেও অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় কোয়ার্টার-ফাইনালে মালি

বিদায়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে শেষ আটের টিকেট পেয়েছে মালি।

কোনো ম্যাচ না জিতেও অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় কোয়ার্টার-ফাইনালে মালি
টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার-ফাইনালে ওঠার পর মালির খেলোয়াড়দের উল্লাস। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jan 2026, 08:12 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:30 PM

চার ম্যাচ, চার ড্র, তিন গোল, ৩৯০ মিনিটের মধ্যে কেবল ২৯ মিনিট এগিয়ে থাকতে পারা- আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে মালির পথচলা ঠিক এমন। এখনও কোনো ম্যাচ জিততে না পারা সেই দলটিই পৌঁছে গেছে কোয়ার্টার-ফাইনালের মঞ্চে! বিশেষ করে শেষ ষোলোর বৈতরণী পেরিয়ে যেভাবে তারা শেষ আটের টিকেট পেয়েছে, সেটা আরও চমক জাগানিয়া।

মরক্কোয় চলমান মহাদেশীয় প্রতিযোগিতাটির শেষ ষোলোয় শনিবার তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হয় মালি। এই ম্যাচে পরিষ্কার ফেভারিট ছিল তিউনিসিয়া।  

ম্যাচের ২৬ মিনিটেই বড় ধাক্কা খায় মালি। কুলিবালির লাল কার্ডে ১০ জনের দলে পরিণত হয় তারা। তারপরও দারুণভাবে রক্ষণ সামলে রাখে দলটি। যদিও ম্যাচের ৭৯ মিনিটের আগ পর্যন্ত গোলের জন্য লক্ষ্যে শটই নিতে পারেনি কোনো দল।

৮৮তম মিনিটে ফিরাস শাওয়াতের গোলে এগিয়ে যায় তিউনিসিয়া। মালির বিদায় তখন মনে হচ্ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার। কিন্তু যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের হ্যান্ডবলে পেনাল্টি পায় তারা। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে সফল স্পট-কিকে দলকে সমতায় ফেরান লাসিনে সিনায়োকো।

পরে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে আর কোনো গোলের দেখা মেলেনি। ৯০ মিনিটের বেশি সময় ১০ জন নিয় খেলেও ম্যাচ টাইব্রেকারে টেনে নেয় মালি। 

পেনাল্টি শুটআউটের শুরুটাও মালির পক্ষে ছিল না। তাদের প্রথম শটে ব্যর্থ হন আলি আবদি। তবে দলটির গোলরক্ষক ডিগুই দিয়ারা ঠেকিয়ে দেন তিউনিসিয়ার দুটি শট। টাইব্রেকারে ৩-২ গোলে জিতে শেষ আটের টিকেট পায় মালি।

আসরে এর আগে ‘এ’ গ্রুপে নিজেদের তিন ম্যাচের সবকটি ড্র করে, গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউট পর্বে ওঠে মালি। 

টানা দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শেষ আটে উঠল মালি। ছবি: রয়টার্স 

টানা দ্বিতীয়বারের মতো আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের শেষ আটে উঠল মালি

প্রথম ম্যাচে জাম্বিয়ার বিপক্ষে ৬১তম মিনিটে সিনায়োকোর গোলে এগিয়ে যায় তারা। যোগ করা সময়ে সমতা টানে জাম্বিয়া। আসরে কোনো ম্যাচে ওই সময়টুকুই শুধু এগিয়ে থাকতে পারে মালি। ম্যাচটি শেষ হয় ১-১ সমতায়।

পরের ম্যাচে তারা ১-১ গোলে রুখে দেয় স্বাগতিক মরক্কোকে। সেদিন প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ব্রাহিম দিয়াসের গোলে এগিয়ে যায় মরক্কো। ৬৪তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা টানেন সিনায়োকো।

গ্রুপের শেষ ম্যাচে মালি গোলশূন্য ড্র করে কমোরোসের বিপক্ষে। এরপর তো শেষ ষোলোয় পরাজয়ের দুয়ার থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে এখন শেষ আটে তারা।

আসরে এখন পর্যন্ত মালির তিন গোলের সবকটিই করেছেন সিনায়োকো এবং এর মধ্যে দুটি পেনাল্টি থেকে।

আফ্রিকান নেশন্স কাপে মালির সেরা সাফল্য ১৯৭২ সালে রানার্সআপ হওয়া। এই নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠল তারা। গত আসরে এখান থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। 

এবার সেমি-ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে আগামী শুক্রবার তারা খেলবে ২০২১ সালের চ্যাম্পিয়ন সেনেগালের বিপক্ষে।