৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

১০ জনের চেকিয়াকে অনায়াসে হারাল ইংল্যান্ড

হারে নেশন্স লিগ শুরুর পর জয়ের পথে ফিরল টমাস টুখেলের দল।

১০ জনের চেকিয়াকে অনায়াসে হারাল ইংল্যান্ড

টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন হ্যারি কেইন। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 30 Sep 2026, 02:38 AM

Updated : 30 Sep 2026, 03:00 AM

আধা ঘণ্টার মধ্যে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়ার পরও, প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পারল চেকিয়া। কিন্তু বিরতির পর আর পারল না তারা। আক্রমণাত্মক ফুটবলে আধিপত্য করে সহজেই জিতল ইংল্যান্ড।

প্রতিপক্ষের মাঠে মঙ্গলবার উয়েফা নেশন্স লিগে ২-০ গোলে জিতেছে টমাস টুখেলের দল। অ্যান্থনি গর্ডন দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর, ব্যবধান বাবধান বাড়ান হ্যারি কেইন।

৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২২ শট নিয়ে সাতটি লক্ষ্যে রাখতে পারে ইংল্যান্ড। স্বাগতিকদের ছয় শটের দুটি লক্ষ্যে ছিল।

‘এ’ লিগের তিন নম্বর গ্রুপে দুই ম্যাচে এক জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে ইংল্যান্ড।

একই সময়ে শুরু আরেক ম্যাচে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-১ গোলে হারানো স্পেন শতভাগ সাফল্যে ৬ পয়েন্ট নিয়ে চূড়ায়। ইংলিশদের সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে ক্রোয়াটরা।

চেকিয়ার পয়েন্ট শূন্য। প্রথম ম্যাচে তারা হেরেছিল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে।

ছোট্ট এক ভুলে শুরুতেই বিপদে পড়তে বসে ইংল্যান্ড। নিজেদের সীমানায় এলিয়ট অ্যান্ডারসন বল নিয়ন্ত্রণে নিতে ব্যর্থ হন, তবে ঠিক সময়ে দ্রুত এগিয়ে গ্লাভসে নেন জেমস ট্র্যাফোর্ড।

দুর্ভাগ্য বাঁধা হয়ে না দাঁড়ালে ১৫তম মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো টুখেলের দল। ডি-বক্সে একজনকে কাটিয়ে মর্গ্যান রজার্সের নেওয়া শট দূরের পোস্টে বাধা পায়। তারপরও সুযোগ ছিল; কিন্তু হ্যারি কেইন পারেননি শট নিতে আর অ্যান্ডারসনের প্রচেষ্টা রক্ষণে প্রতিহত হয়।

কিছুক্ষণ পর বড় ধাক্কাটা খায় চেকিয়া। প্রতিপক্ষের একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে অ্যান্ডারসনকে বিপজ্জনক ফাউল করে বসেন পাভেল শুল্চ। প্রথমে তাকে হলুদ কার্ড দেখালেও, পরে ভিএআর মনিটরে দেখে সরাসরি লাল কার্ড দেখান রেফারি।

প্রতিপক্ষে একজন কমে যাওয়ার সুবিধা কাজে লাগিয়ে একটু একটু করে চাপ বাড়াতে থাকে ইংল্যান্ড। বিরতির মিনিটখানেক আগে ডি-বক্সের বাইরে থেকে কেইনের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন গোলরক্ষক।

দ্বিতীয়ার্ধের দ্বিতীয় মিনিটেই কাঙ্ক্ষিত গোল পেয়ে যায় ইংলিশরা। ডি-বক্সের বাইরে নিজেদের মধ্যে বল দেওয়া-নেওয়া করতে গিয়ে পজেশন হারায় চেকিয়া। আর ডান দিক থেকে ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের ক্রস বক্সে ফাঁকায় পেয়ে হেডে দলকে এগিয়ে নেন গর্ডন।

গত সপ্তাহে স্পেনের বিপক্ষে ৩-২ ব্যবধানে হারের ম্যাচেও একটি গোল করেন গর্ডন।

তিন মিনিট পর এই বার্সেলোনা উইঙ্গার বাঁ দিক দিয়ে আক্রমণে উঠে ডি-বক্সে দারুণ এক পাস বাড়ান। কিন্তু অরক্ষিত লেফট-ব্যাক লুইস হলের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়।

৬২তম মিনিটে ভাগ্যের ছোঁয়ায় দ্বিতীয় গোল হজম করা থেকে বেঁচে যায় চেকিয়া। লুইস হলের গোলমুখে বাড়ানো ক্রস রজার্সের কাছে পৌঁছানোর আগে আটকানোর চেষ্টা করেন লাদিস্লাভ ক্রেইচি। বল পোস্টে লাগলে হাফ ছাড়েন এই ডিফেন্ডার ও তার দল।

যদিও তাদের সেই স্বস্তি স্থায়ী হয়নি। সাত মিনিট পরই কোনাকুনি শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কেইন। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন তিনি।

ইংল্যান্ডের রেকর্ড গোলদাতার মোট গোল হলো ৮৭টি, ১২৩ ম্যাচে।

৭৭তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণে প্রতিপক্ষ শিবিরে ভীতি ছড়ায় চেকিয়া। তবে অ্যাডামের দূরপাল্লার শট দারুণ নৈপুণ্যে রুখে দেন ট্র্যাফোর্ড। একটু পর এবেরেচি এজের জোরাল শট গোলরক্ষক এক হাত দিয়ে আটকে দেন।

কেইনের বদলি নেমে জুড বেলিংহ্যামও ম্যাচ শেষের কয়েক সেকেন্ড আগে গোল পেতে পারতেন। তবে রেয়াল মাদ্রিদ মিডফিল্ডারের ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া শট আটকে ব্যবধান বাড়তে দেননি গোলরক্ষক।