Published : 05 Aug 2026, 02:16 PM
বড় একটি ক্লাবে খেলার স্বপ্ন নিয়ে শুরু হয়েছিল পেশাদার ক্যারিয়ার। মেঘে মেঘে বেলা হয়েছে অনেক। ক্যারিয়ার গড়িয়েছে সায়াহ্নে। বুকে পুষে রাখা সেই স্বপ্ন বাস্তবের রূপ পায়নি। তবু বিশ্বাস হারাননি ভজিনিয়া। অবশেষে বয়স ৪০ পেরিয়ে বিশ্বকাপ রাঙিয়ে সেই স্বপ্ন পূরণ হলো তার। কেইপ ভার্ডের গোলকিপার বলছেন, বিশ্বাসটা তার বরাবরই ছিল।
বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের পর ভজিনিয়াকে দলে নিয়েছে চিলির ক্লাব কোলো-কোলো। বিশ্ব ফুটবলে তারা খুব পরিচিত নাম নয়। তবে চিলির ফুটবলে তাদের চেয়ে বড় ক্লাব আর নেই। ১০১ বছর পুরোনো ক্লাবটি রেকর্ড ৩৪ বার জিতেছে লিগ শিরোপা, লিগ কাপ জিতেছে রেকর্ড ১৪ বার। ক্লাবের ইতিহাসে রেলিগেশনে পড়ার নজির নেই। মহাদেশীয় শিরোপাজয়ী চিলির প্রথম ক্লাবও এটিই।
১৯ বছরের পেশাদার ক্যারিয়ারে ভজিনিয়া আগে খেলেছেন অ্যাঙ্গোলা, সাইপ্রাস, মলদোভা, স্লোভাকিয়ার বিভিন্ন ক্লাবে। সবশেষ ছিলেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বিভাগের দল শাভেসে। সেই ক্লাবের সঙ্গে তার চুক্তি শেষ হয় বিশ্বকাপের আগে। বিশ্বকাপ খেলেছেন ক্লাববিহীন থেকে। হয়তো ক্যারিয়ারও শেষ হয়ে যেতে পারত এবারই। কিন্তু বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সে গোটা ফুটবল বিশ্বেই তিনি এখন সেনসেশন।
চিলির ক্লাবটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে পথচলা শুরুর পর ভজিনিয়া বললেন, অন্য অনেক ক্লাবের ডাক উপক্ষো করে তিনি বেছে নিয়েছেন এই ক্লাবকে।
“সবসময়ই ছোট লিগে খেলেছি, এমন সব ক্লাব, যারা খুব বড় নয়। তার পরও মনে মনে সবসময় নিজেকে বলতাম যে, ‘আমি একজন বড় ক্লাবের ফুটবলার।’ বিশ্বাস ছিল যে বড় ক্লাবে খেলব।
তাই যখন কোলো-কোলো থেকে ডাক এলো, তখন কোনো দ্বিধা ছিল না। প্রথম দিন থেকেই জানতাম, আমি কোথায় খেলতে চাই। অনেক প্রস্তাব পেয়েছিলাম, কিন্তু কোলো-কোলোই সবসময় আমার অগ্রাধিকার ছিল।”
এবারের বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে ভজিনিয়ার অসাধারণ পারফরম্যান্সে কেইপ ভার্ড ড্র করে স্পেনের সঙ্গে। রাতারাতি তিনি হয়ে ওঠেন বিখ্যাত।
তার ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার ছিল ৫০ হাজারের মতো। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের পর তা হয়ে যায় ১ কোটি ৭৪ লাখ! এখন তার ফলোয়ার প্রায় তিন কোটি।
স্পেনের পর উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের বিপক্ষেও ড্র করে গ্রুপ পর্ব পার করে ফেলে বিশ্বকাপে অভিষিক্ত ছোট্ট দেশটি। নকআউট পর্বেও আর্জেন্টিনাকে কাঁপিয়ে দিয়ে শেষ পর্যন্ত হেরে যায় তারা ৩-২ গোলে। প্রতিটি ম্যাচেই অসাধারণ পারফর্ম করেন ভজিনিয়া এবং চার ম্যাচ খেলেই জায়গা করে নেন বিশ্বকাপের সেরা একাদশে।
বিশ্বকাপ যে তার জীবন বদলে গিয়েছে, অনেকবারই বলেছেন ভজিনিয়া। এখন তিনি কোলো-কোলোর জার্সিতে রাঙানোর অপেক্ষায়।
“ফুটবলে আমার জীবনে ঘটা সেরা ঘটনা ছিল বিশ্বকাপ, কিন্তু সেটা এখন অতীত।
কোলো-কোলোর মতো সমৃদ্ধ ইতিহাসসম্পন্ন এমন একটি বড় ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করতে পারাটা আমার ক্লাব ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত।”
চিলির ক্লাবটির সঙ্গে তার প্রাথমিক চুক্তি ছয় মাসের। পরে তা এক বছর বাড়ানোর সুযোগ আছে।
নতুন ক্লাবে নাম জটিলতা তৈরি হয়েছিল তাকে নিয়ে। তার জজিমার জোজে এভোদা দিয়াস। তবে পরিচিত তিনি ডাক নাম ‘ভজিনিয়া’ দিয়ে। পর্তুগিজ ভাষায় নামের অর্থ ‘ছোট্ট দাদি।’ ছেলেবেলায় তিনি যখন রাস্তায় ফুটবল খেলতেন, অনেক সময় হেরে গিয়ে কাঁদতেন এবং রাগে বাড়িতে ফিরে যেতেন দাদা-দাদির। তাদের সঙ্গেই তিনি থাকতেন। মজা করে তখন ফুটবল খেলার সঙ্গীরা তাকে এই নাম দিয়েছিলেন, যেটি তার সঙ্গে রয়ে যায় এবং এখন তাকে এই নামেই গোটা ফুটবল বিশ্ব চেনে।
তবে চিলির নিয়ম অনুযায়ী, জার্সির পেছনে ডাক নাম রাখা যায় না। তবে কোলো-কোলো বিশেষভাবে অনুরোধ জানায় এই নামটি রাখতে এবং অন্য সব ক্লাব এতে রাজি হওয়ায় জটিলতা কেটে যায়।