১৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২ কার্তিক ১৪৩৩

হঠাৎ পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে প্রস্তুত ফর্টিস এফসি

প্রথমবারের মতো এশিয়ান পর্যায়ে কোনো প্রতিযোগিতায় খেলার রোমাঞ্চ নিয়ে তারা মুখোমুখি হচ্ছে শক্তিশালী মুরাস ইউনাইটেডের।

হঠাৎ পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে প্রস্তুত ফর্টিস এফসি
অনুশীলনে ব্যস্ত ফর্টিস এফসির খেলোয়াড়রা। ছবি: ফর্টিস এফসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 10 Aug 2026, 07:53 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:27 PM

সুযোগটা ফর্টিস এফসি পায় আচমকাই। ফুটবল লিগের গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংস ও রানার্সআপ আবাহনীর লাইসেন্স জটিলতা ও ফিফার নিষেধাজ্ঞায় দুয়ার খুলে যায় তৃতীয় হওয়া ফর্টিসের সামনে। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে মুখিয়ে তারা। প্রথমবারের মতো এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে খেলার রোমাঞ্চ নিয়ে দলটিকে শুরুতেই লড়তে হবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ মুরাস ইউনাইটেডের বিপক্ষে।

২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত মুরাস ইউনাইটেড কিরগিজস্তানের দল। দেশের লিগে গতবার তারা হয় রানার্সআপ। গত মৌসুমের এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে দারুণ খেলে তারা উঠেছিল সেমি-ফাইনালে। সেবার প্রিলিমিনারি রাউন্ডে পল্টনের জাতীয় স্টেডিয়ামে আবাহনীকে তারা হারিয়েছিল ২-০ গোলে। এবার অবশ্য ভেন্যু ও প্রতিপক্ষ দুটিই ভিন্ন তাদের জন্য।

বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় মঙ্গলবার ৩টায় মুখোমুখি হবে দুই দল। প্রতিপক্ষ ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় খেলতে অভ্যস্ত বলে দুপুরের গরমে ম্যাচ আয়োজনের ‘সুযোগটা’ নিয়েছে ফর্টিস। সংবাদ সম্মেলনে দলটির কোচ মাসুদ পারভেজ কায়সার কোনো রাখঢাক না রেখেই বললেন তা।

“হ্যাঁ, অবশ্যই। অবশ্যই, যেহেতু ওরা শীতপ্রধান দেশ, আমরা প্রত্যেকটা ম্যাচের আগে জয়ের জন্য প্রধান কোচ চেষ্টা করে কোনো না কোনো ফাঁক-ফোঁকর বের করতে। এটা (দুপুরে ম্যাচ খেলা) তারই একটা অংশ।”

মুরাস কোচ এদমার দে লাসেরদা অবশ্য ঢাকার গরম নিয়ে ভাবছেন না একদমই। ৪৬ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত তার দল।

“এখানে আসতে পেরে আমরা খুব আনন্দিত। আমরা বুঝি যে, ম্যাচটি আমাদের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি, একটি ভালো দলের বিপক্ষে খেলব এবং আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। আমার মনে হয় না (গরমের কোনো প্রভাব থাকবে)…কারণ আমরা এই আবহাওয়া সম্পর্কে জানি। এটাও জানি, এই গরম আমাদের জন্য যেমন কঠিন, ফর্টিসের জন্যও তেমন।”

ফর্টিসের বড় দুর্ভাবনার জায়গা অবশ্য অন্যখানে। গত জুনের মাঝামাঝি ফুটবল লিগ শেষের পর প্রতিযোগিতামূলক খেলার মধ্যে নেই তারা। মাঝে দলটি প্রস্তুতি সেরেছে চ্যালেঞ্জ লিগে খেলা বাংলাদেশের আরেক দল পুলিশ এফসির সাথে দুটি ম্যাচ খেলে। 

আট বিদেশি দলে থাকায় কিছুটা স্বস্তিও অবশ্য আছে ফর্টিসের। জাপানের শিয়ান কাওয়াসাকি ও ইউসেই শিমোমুরা, গাম্বিয়ার পা ওমর জোবে ও ইসা জালো, নেপালের অনন্ত তামাং ও এরিক বিস্তা, শ্রীলঙ্কার সুজন পেরেইরা এবং নাইজেরিয়ার স্টেফান চুকউদকে দলে ভিড়িয়েছে তারা। ফর্টিস কোচ কায়সার তাই আত্মবিশ্বাসী।

“গত দুই মাস ধরে বাংলাদেশে কোনো প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল নাই। এমনকি জাতীয় দলও (দলের খেলাও) নেই। অন্যদিকে, মুরাস তাদের লিগে নিয়মিত অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে এবং চার দিন আগে সবশেষ লিগ ম্যাচটা খেলেছে। আমরা যে সময় পেয়েছি, তার মধ্যে চেষ্টা করেছি পুলিশের সাথে দুইটা ম্যাচ খেলে নিয়ে প্রস্তুতি নেওয়ার। যদিও এটা যথেষ্ট নয়, কিন্তু কিছুটা হলেও সাহায্য করেছে।

“তবে, আমি এখানে আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলতে পারছি দলে আটজন বিদেশি খেলোয়াড় থাকার কারণে। কিন্তু এরাও আবার একেকজন এক-এক দল থেকে এসেছে। সবকিছু গুছিয়ে নিতে প্রায় তিন সপ্তাহ পেয়েছি। এর মধ্যেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি দলকে পুরোপুরি প্রস্তুত করতে।”

ফর্টিসের মতো প্রথমবারের মতো চ্যালেঞ্জ লিগের ডাগআউট দাঁড়াবেন পারভেজ। দলের মতো হঠাৎ পাওয়া সুযোগটা তিনিও লুফে নিতে উন্মুখ। মুরাসের বিপক্ষে ম্যাচটিকে তিনি স্রেফ ক্লাবের নয়, বাংলাদেশের ম্যাচ হিসেবেই দেখছেন। দলকেও অনুপ্রাণিত করছেন সেভাবে।

“আমি রোমাঞ্চিত নই। কেননা, এটা অনেক বড় দায়িত্ব। এই ম্যাচটি কেবল ফর্টিসের নয়, বাংলাদেশেরও। ফর্টিস বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছে এএফসি পর্যায়ে এবং আমার জন্য এটা প্রধান কোচ হিসেবে প্রথমবারের মতো ডাগআউটে দাঁড়ানো। সত্যি বলতে, লিগে তৃতীয় হওয়ায় এই টুর্নামেন্টে খেলার জন্য প্রস্তুত ছিলাম না। হঠাৎ করে, যেকোনো কারণেই হোক সুযোগটা আমাদের কাছে এসেছে।

“এএফসি কাপে অতীতে বাংলাদেশের হয়ে যারা চেষ্টা করছিল, অবশ্যই ঢাকা আবাহনী, বসুন্ধরা কিংসের কথা অবশ্যই আসে। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুইটা ক্লাবই সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলেছে। তাদের প্রতি সম্মান রেখেই বলছি, ফর্টিসও প্রথমবারের মতো যখন সুযোগ পেয়েছে, আমরা চাই এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে।”