Published : 18 Jan 2026, 02:09 AM
মাইকেল ক্যারিকের ছোঁয়ায় যেন বদলে গেল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। জাতীয় দলের মিশন শেষে ক্লাবে ফিরেই দলকে পথ দেখালেন ব্রায়ান এমবুমো। সাদামাটা ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়ে লিগ টেবিলে এগিয়ে গেল প্রতিযোগিতার রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা।
ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে শনিবারের ম্যানচেস্টার ডার্বিতে অধিকাংশ সময় পজেশন রেখেও জয়ের কোনো সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি সিটি। দ্বিতীয়ার্ধে দুইবার জালে বল পাঠিয়ে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে ইউনাইটেড।
স্বাগতিকদের দুটি প্রচেষ্টা পোস্ট আর ক্রসবারে লাগায় ব্যবধান আরও বড় হয়নি। এছাড়া আরও তিনবার জালে বল জড়িয়েছিল তারা, এর প্রতিটিতেই অফসাইডে কাটা পড়ে গোল।
দীর্ঘদিন ধরেই মাঠে ভীষণ কঠিন সময় কাটছে ইউনাইটেডের। একের পর এক ব্যর্থতায় এই বছরের শুরুতে চাকরি হারান ওইসময়ের কোচ হুবেন অ্যামুরি। দুই ম্যাচের জন্য দায়িত্ব পান ক্লাবের অনূর্ধ্ব-১৮ দলের কোচ ড্যারেন ফ্লেচার। কিন্তু দল বের হতে পারেনি ব্যর্থতার বৃত্ত ভেঙে; সবশেষ ম্যাচে তারা ব্রাইটনের বিপক্ষে হেরে ছিটকে যায় এফএ কাপে যাত্রার শুরুতেই।
অবশেষে ক্যারিকের হাত ধরে লিগে টানা তিন ড্র ও সব মিলিয়ে চার ম্যাচ পর জয়ের দেখা পেল ইউনাইটেড।
২২ ম্যাচে ৯ জয় ও ৮ ড্রয়ে ইউনাইটেডের পয়েন্ট হলো ৩৫, আপাত অবস্থান চতুর্থ।
অন্যদিকে, লিগে সিটির অপরাজেয় যাত্রা চললেও, আগের তিন ম্যাচে তাদের অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। তিন ম্যাচেই পয়েন্ট হারায় তারা, তাতে শিরোপা লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়ে। এবারের হারে আরও বড় ধাক্কা খেল দলটি।
২২ ম্যাচে ১৩ জয় ও ৪ ড্রয়ে ৪৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে আছে সিটি। এক ম্যাচ কম খেলা অ্যাস্টন ভিলার পয়েন্টও তাদের সমান।
ভাগ্য সহায় হলে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যেতে পারতো ইউনাইটেড। তৃতীয় মিনিটে ব্রুনো ফের্নান্দেসের কর্নারে বল দূরের পোস্টে পেয়ে হেড করেন হ্যারি ম্যাগুইয়ার, যা ক্রসবারে বাধা পায়।
আট মিনিট পর প্রতিপক্ষের জেরেমি ডোকুকে বিপজ্জনক ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন ইউনাইটেড ডিফেন্ডার দিয়োগো দালোত। দাবি ওঠে লাল কার্ডের; তবে ভিএআরে যাচাইয়ের পর মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তই বহাল থাকে, বেঁচে যান পর্তুগিজ ফুলব্যাক।
শুরু থেকে বল দখলে আধিপত্য করলেও, আক্রমণে সুবিধা করতে পারছিল না সিটি। প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে ঢুকতেই পারছিল না তারা। বিপরীতে পাল্টা আক্রমণে ভীতি ছড়াচ্ছিল ইউনাইটেড।
৩৩তম মিনিটে পাল্টা আক্রমণেই গোলরক্ষককে কাটিয়ে জালে বল পাঠান আমাদ দিয়ালো; কিন্তু অফসাইডে ছিলেন তিনি। ৪১তম মিনিটে ফের্নান্দেসও গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে জড়ান; কিন্তু তিনিও অফসাইডে ছিলেন।
ইউনাইটেডের ওই দুই হতাশার মাঝে ৩৬তম মিনিটে কর্নার পায় সিটি, এবং ওই কর্নারে লক্ষ্যে প্রথম প্রচেষ্টা রাখতে পারে দলটি। তরুণ ডিফেন্ডার মাক্স আলিনের হেড ঝাঁপিয়ে আটকান গোলরক্ষক।
দ্বিতীয়ার্ধের দ্বাদশ মিনিটে দারুণ এক সেভ করেন সিটি গোলরক্ষক এবং পরমুহূর্তে অবিশ্বাস্য একটি মিস করেন কাসেমিরো। দিয়ালোর জোরাল শট দোন্নারুম্মা ঝাঁপিয়ে ঠেকানোর পর, বল ধরে খুব কাছ থেকে গোলরক্ষকের পায়ে মারেন কাসেমিরো। এরপরও সুযোগ ছিল তার সামনে; কিন্তু কিছুই করতে পারেননি ব্রাজিলিয়ান তারকা।
এমন সুযোগ হাতছাড়া করেছেন, যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার।
৬৩তম মিনিটে আবারও দোন্নারুম্মার পরীক্ষা নেয় ইউনাইটেড। এবার ব্রায়ান এমবুমোর শট দারুণ ক্ষীপ্রতায় ঝাঁপিয়ে রুখে দেন ইতালিয়ান গোলরক্ষক।
দুই মিনিট পর আর জাল অক্ষত রাখতে পারেননি দোন্নারুম্ম। প্রতিপক্ষের আরেকটি ব্যর্থ আক্রমণ রুখে দিয়ে, পাল্টা আক্রমণে ওঠে ইউনাইটেড নিজেদের সীমানা থেকে বল পায়ে দ্রুত এগিয়ে থ্রু পাস বাড়ান ফের্নান্দেস, আর প্রথম ছোঁয়ায় কোনাকুনি শটে গোলটি করেন ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ড।
আফ্রিকান নেশন্স কাপে পাঁচ ম্যাচ খেলেও কোনো গোল করতে পারেননি এমবুমো। ক্লাবে ফিরেই সেই খরা কাটালেন তিনি। এবারের প্রিমিয়ার লিগে ১৭ ম্যাচে তার গোল হলো সাতটি।
৭৬তম মিনিটে আরেক গোল খেয়ে আরও ব্যকফুটে চলে যায় সিটি। গতিময় আক্রমণে ডানদিক থেকে মাথেউস কুইয়া বল বাড়ান ছয় গজ বক্সের বাইরে, আর ছুটে গিয়ে ডান পায়ের ছোঁয়ায় কেবল বলের দিক পাল্টে দেন ডেনিশ ডিফেন্ডার ডগু। জায়গা থেকে নড়ার সুযোগ পাননি দোন্নারুম্মা।
পুরো ম্যাচে ৬৫ শতাংশের বেশি সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য কেবল সাতটি শটই নিতে পারে সিটি, যার মধ্যে কেবল একটিই ছিল লক্ষ্যে! ম্যাচের বাকি সময়েও প্রতিপক্ষকে ভাবনায় ফেলার মতো কিছুই করতে পারেনি তারা।
যোগ করা সময়ে তো আরেক গোল হজম করতে বসেছিল গুয়ার্দিওলার দল। বদলি নেমে প্রথম ছোঁয়াতেই জালে বল পাঠান ম্যাসন মাউন্ট, তবে ভিএআরের সাহায্যে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি।
আরও বড় ব্যবধানে হারের তিক্ততা থেকে রেহাই পায় সিটি। তবে পারফরম্যান্সের বর্ণহীনতা দলটির জন্য হতে পারে বাড়তি দুর্ভাবনার।