১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘খুবই বাজে রেফারিং’ নিয়ে ক্রোয়েশিয়া কোচের অসন্তোষ

তবে এটাকে পর্তুগালের বিপক্ষে নিজেদের হারের কারণ হিসেবে দেখছেন না জ্‌লাতকো দালিচ।

‘খুবই বাজে রেফারিং’ নিয়ে ক্রোয়েশিয়া কোচের অসন্তোষ
ক্রোয়েশিয়া কোচ জ্‌লাতকো দালিচ। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 03 Jul 2026, 01:15 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:34 PM

রেফারিং নিয়ে ভিন্ন মত দিয়েছেন প্রতিপক্ষ দুই দলের কোচ। পর্তুগালের কোচ রবের্তো মার্তিনেস রেফারির সিদ্ধান্তগুলোকে সঠিক বললেও, জ্‌লাতকো দালিচ বলেছেন খুবই বাজে রেফারিং। তবে হারের জন্য এটাকে অজুহাত হিসেবে দেখতে নারাজ ক্রোয়েশিয়ার কোচ।

বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে শুরুতে এগিয়ে গিয়েও ২-১ গোলে হেরে যায় ক্রোয়েশিয়া। নাটকীয় লড়াইয়ে তাদের তিনটি ‘গোল’ বাতিল হয় অফসাইডের কারণে।

ইভান পেরিসিচে গোলে ক্রোয়াটরা এগিয়ে যাওয়ার পর সফল স্পট কিকে পর্তুগিজদের সমতায় ফেরান ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। পরে যোগ করা সময়ে ব্যবধান গড়ে দেন গসালো রামোস।

রামোসের গোলের কিছুক্ষণ পরই পর্তুগালের জালে বল পাঠান ইয়োশকো ভার্দিওল। কিন্তু অনেকটা সময় ভিএআর পর্যালোচনার পর মনিটরে দেখে গোল বাতিল করে দেন রেফারি। তার মতে, অফসাইডে ছিলেন ভার্দিওলকে পাস দেওয়া মারিও পাশালিচ।

রেফারির এই সিদ্ধান্ত যেন বিশ্বাসই করতে পারছিল না ক্রোয়াটরা। তাদের সমর্থকরা মাঠে বোতল ছুড়তে থাকে গ্যালারি থেকে। সবমিলিয়ে ১০ মিনিট যোগ করা সময় শেষ হয় ১৯ মিনিটে গিয়ে!

ভিএআর পর্যালোচনা করে, মনিটর দেখেই ৬৮তম মিনিটে পর্তুগালকে পেনাল্টি দেন রেফারি। কর্নার কিকের পর বক্সে পর্তুগালের খেনাতো ভাইগাকে টেনে ফেলে দেন ক্রোয়েশিয়ার নিকোলা ভ্লাসিচ।

ম্যাচ শেষে রেফারিং নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ৫৯ বছর বয়সী দালিচ।

“খুবই বাজে রেফারিং ছিল। তবে ক্রোয়েশিয়া হেরেছে। আমি কোনো অজুহাত খুঁজব না। আমরা আরও আগেই ম্যাচটি নিজেদের করে নিতে পারতাম।”

দালিচের মতে, প্রথমার্ধে যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তার দল। দ্বিতীয়ার্ধে তারা অনেক ভালো খেললেও ভাগ্য এবার আর তাদের সহায় হয়নি। যদিও বিশ্বকাপে তাদের ভাগ্যটাই এমন। ২০১৮ বিশ্বকাপে অল্পের জন্য শিরোপা ছোঁয়া হয়নি ক্রোয়াটদের, হয় রানার্সআপ। আর গত আসরে তৃতীয় সেরা হওয়া দলটি এবার আগেভাগেই বিদায় নিল।

বছরের পর বছর ধরে ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলের প্রাণভোমরা হয়ে থাকা ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচের জন্য সম্ভবত এটাই ছিল বিশ্বকাপ জেতার শেষ সুযোগ। কিন্তু সেটা রাঙাতে না পারায় খারাপ লাগছে দালিচেরও।

“হ্যাঁ, সম্ভবত এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ। আমি খুবই দুঃখিত, এটা এভাবে শেষ হয়েছে।”

ক্রোয়েশিয়ান ফুটবলের একটি সোনালী অধ্যায় শেষ হওয়ার দ্বারপ্রান্তে থাকলেও, দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী দালিচ।

“ক্রোয়েশিয়া দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন নই। আমাদের অনেক তরুণ খেলোয়াড় উঠে আসছে এবং তাদের কয়েকজন আজ তাদের সামর্থ্য ও মান দেখিয়েছে। চমৎকার একটি যুগের শেষে এসে পৌঁছেছি আমরা। সামনে নতুন শুরুর অপেক্ষা।”

২০১৭ সাল থেকে ক্রোয়াটদের দায়িত্বে থাকা দালিচ নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও নিশ্চিত নন।

“পরের বিশ্বকাপে কী হবে সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তবে ক্রোয়েশিয়ায় ফিরে আমরা এনিয়ে কথা বলব।”