১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘বিশ্বকাপ জিততে চাও, বাকি দুনিয়াকে ভুলে যাও’, পরামর্শ দুঙ্গার

স্মৃতি হাতড়ে নিজেদের বিশ্বকাপ জয়ের গল্প শোনাতে গিয়ে অনেক কথাই বলেছেন ব্রাজিলের এই সাবেক ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।

‘বিশ্বকাপ জিততে চাও, বাকি দুনিয়াকে ভুলে যাও’, পরামর্শ দুঙ্গার
১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে কার্লোস দুঙ্গা। ছবি: ফিফা।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 Jan 2026, 03:43 PM

Updated : 26 Aug 2026, 02:50 PM

অধিকাংশ দল নিশ্চিত হয়ে গেছে, সূচিও ঘোষণা হয়ে গেছে, এখন অপেক্ষা মাঠের লড়াই শুরুর। রোমাঞ্চ নিয়ে ভক্ত-সমর্থকরা ক্ষণ গুণছে। তবে যে সব দল বা খেলোয়াড়রা সোনালী ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার স্বপ্নে বিভোর, তাদের জন্য আসলে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক কার্লোস দুঙ্গার মনে হচ্ছে এমনটা।

আসলেও তাই। আগামী জুন-জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় বসবে এবারের বিশ্বকাপ। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী দলগুলোর বাছাই পেরুনোর লড়াই, প্রতিপক্ষকে বিশ্লেষণের কাজগুলো শুরু হয়েছে অনেক আগেই। 

অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে, এবারই প্রথম ৪৮ দল নিয়ে হতে যাচ্ছে বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর। স্বাগতিক তিন দল এবং বাছাইপর্ব বাধা পেরিয়ে মোট ৪২টি দল চূড়ান্ত হয়ে গেছে। বাকি ছয়টি নিশ্চিত হবে আগামী মার্চের প্লে-অফে। 

এতো গেল টুর্নামেন্ট মাঠে গড়ানোর হিসেব-নিকেশ। কিন্তু টুর্নামেন্ট শেষে যে দলটি ১৯ জুলাই মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মঞ্চে চ্যাম্পিয়ন রূপে আবির্ভূত হবে, ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে, তাদের পরিকল্পনা সাজানো, প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের ছক কষা অনেক আগেই শুরু হয়েছে বলে মনে করেন দুঙ্গা।

“যখন একটা দেশ বিশ্বকাপ জিতে, অন্যরা যা করেনি, সেসব কাজ তারা করে বলেই জিততে পারে। অনুশীলনের আগেই আপনাকে ম্যাচে জিততে হবে, আপনার প্রস্তুতিতে, আপনার পরিকল্পনায়।”

টুর্নামেন্টের সূচি চূড়ান্ত হওয়ার পর দলগুলো আরও কোমরবেঁধে প্রতিপক্ষ নিয়ে পর্যালোচনা শুরু করে দেয়। শুরু করে বিশেষ প্রস্তুতি। সেলেসাওদের ১৯৯৪ বিশ্বকাপ জয়ের অধিনায়ক স্মৃতি হাতড়ে শোনালেন, ৩২ বছর আগে তারা কিভাবে প্রতিপক্ষদের নিয়ে পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন, কষ্টেসৃষ্টে পাওয়া তথ্যগুলো কাজে লাগিয়েছিলেন।

“এখন অনেকেই বলে যে, সেই সময় আমরা (আমাদের প্রতিপক্ষদের) নিয়ে পর্যালোচনা করিনি; কিন্তু আমরা করেছিলাম। পার্থক্য শুধু, তখন বেশি সময় লেগেছিল।” 

“প্রথমে টিভির সম্প্রচারের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হতো, এরপর কোচিং টিম-(প্রধান কোচ) কার্লোস আলবের্তো পারেইরা, (সহকারী কোচ) মারিও জাগালো ও (টিম ম্যানেজার) আমেরিকো ফারিয়া-প্রতিটি দলের (শক্তি-দুর্বলতা নিয়ে) তথ্য সংগ্রহ করতেন।”

সেই সময়ের দুনিয়া এত আধুনিক না থাকায় তথ্যপ্রবাহ ছিল না। দুঙ্গা জানালেন, তাদের জন্য সেসময় প্রতিপক্ষ দল নিয়ে গবেষণার মূল ভিত্তিই ছিল নিজেদের মধ্যে কথাবার্তার মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য। ব্রাজিল স্কোয়াডের অধিকাংশ খেলোয়াড় ইউরোপের বিভিন্ন ক্লাবে খেলার সুবিধাটুকু তাদের অবশ্য ছিল। খেলোয়াড়দের থেকে যেসব তথ্য মিলত, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পুরো স্কোয়াডের রাতের খাবারের সময়ের আলোচনা দলের প্রস্তুতিতে খুব মূল্যবান হয়ে উঠেছিল, বললেন দুঙ্গা।

“যারা বিভিন্ন দেশে খেলত, ডিনারের সময় আমি তাদের সঙ্গে বসতাম এবং আমাদের প্রতিপক্ষ দলগুলো নিয়ে কথা বলতাম। তবে প্রতিপক্ষের শক্তি নিয়ে বিশ্লেষণ করা এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা করা এক বিষয়, আর সেই কৌশল মাঠে বাস্তবায়ন করা সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। প্রতিপক্ষ সম্পর্কে জানা কেবলই প্রথম ধাপ; এরপর যা করনীয়, সেটাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।”

বিশ্বকাপে প্রতিটা ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল গড়ে দিতে পারে বড় ব্যবধান; এক দল উঠে যেতে পারে পরের রাউন্ডে এবং আরেক দলকে ফিরতে হতে পারে বাড়ি। দুঙ্গার মতে, তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ, পর্যালোচনা, পরিকল্পনা সাজানো, সঠিক বাস্তবায়নের কাজগুলো এক সুঁতোয় গাঁথতে পারাটাই গড়ে দেয় সাফল্যের ভিত।

“প্রতিপক্ষকে মূল্যায়ন করে যা শিখবেন, তা যদি মাঠে কাজে লাগানো না যায়, তাহলে এত বিশ্লেষণ করে কোনো লাভ হবে না। প্রতিদিনই উন্নতি করতে হবে।”

“সবার জন্যই লড়াই কঠিন হবে। তবে যদি বিশ্বকাপ জিততে চান, তাহলে আপনার প্রতিটা দলকেই হারানোর সামর্থ্য থাকতে হবে।”

বিশ্বকাপ ট্রফি ছুঁয়ে দেখার অনির্বচনীয় স্বাদ নেওয়ার পথটা মসৃণ নয়, সে কথাও মনে করিয়ে দিলেন দুঙ্গা। ফুটবলীয় ব্যাপার-স্যাপারের বাইরে ব্যক্তিগত কত চাওয়া, পাওয়া দূরে ঠেলে দিতে হয়, নিরবিচ্ছিন্ন মনোযোগ, মানসিক শক্তি, শৃঙ্খলা এবং ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা থাকার ওপরও গুরুত্ব দিলেন সাবেক এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার।  

“মূল কথা হলো, একটা বিশ্বকাপ জিততে হলে দলের সবাইকে এর জন্য অনেক মূল্য দেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে। আর ট্রফিটি উঁচিয়ে ধরার যে মূল্য চুকাতে হয়, তা অনেক; তবে এর যোগ্য।”

“এই ৩০ দিনের জন্য আপনাকে বাকি দুনিয়াকে ভুলে যেতে হবে। অনেকের এই কথা পছন্দ হবে না, কিন্তু আপনাকে আপনার পরিবারকে ভুলে যেতে হবে, সবকিছু ভুলে যেতে হবে এবং সব ভুলে কাজে মনোযোগী হতে হবে।”