Published : 10 Nov 2025, 04:45 AM
প্রথমার্ধে লড়াই হলো জমজমাট, ম্যাচের রঙ বদলাল বারবার। দুই দফায় পিছিয়ে পড়ে দুবারই ম্যাচে ফিরল সেল্তা ভিগো। তৃতীয় দফায় গোল হজমের পর আর পেরে উঠল না তারা। রবের্ত লেভানদোভস্কির হ্যাটট্রিকে দারুণ জয়ে রেয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে ব্যবধান কমাল বার্সেলোনা।
প্রতিপক্ষের মাঠে রোববার রাতে লা লিগার ম্যাচটি ৪-২ গোলে জিতেছে হান্সি ফ্লিকের দল।
লেভানদোভস্কি শিরোপাধারীদের এগিয়ে নেওয়ার পরের মিনিটেই সমতা ফেরান সের্হিও কারেইরা। পোলিশ তারকার দ্বিতীয় গোলের পর সেল্তা আরেকবার সমতায় ফেরে বোর্হা ইগলেসিয়াসের লক্ষ্যভেদে।
প্রথমার্ধেই লামিনে ইয়ামালের গোলে বার্সেলোনা আরেকবার এগিয়ে যাওয়ার পর, দ্বিতীয়ার্ধে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন লেভানদোভস্কি।
কোনো গোল না পেলেও, তিনটি গোলে অবদান রাখেন মার্কাশ র্যাশফোর্ড।
জয়ের আনন্দের মাঝে কিছুটা অস্বস্তির কাঁটাও আছে বার্সেলোনার জন্য। শেষ দিকে লাল কার্ড দেখেন ম্যাচজুড়ে দারুণ খেলা ফ্রেংকি ডি ইয়ং। পরের ম্যাচে আথলেতিক বিলবাওয়ের বিপক্ষে খেলতে পারবেন না এই ডাচ মিডফিল্ডার।
১২ ম্যাচে ৯ জয় ও এক ড্রয়ে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে উঠেছে বার্সেলোনা। তাদের চেয়ে ৩ পয়েন্ট বেশি নিয়ে চূড়ায় রেয়াল মাদ্রিদ, যারা দিনের শুরুতে গোলশূন্য ড্র করে রায়ো ভাইয়েকানোর বিপক্ষে।
ম্যাচে প্রায় ৬২ শতাংশ পজেশন রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নিয়ে ৯টি লক্ষ্যে রাখতে পারে বার্সেলোনা। সেল্তার ৫ শটের ৩টি লক্ষ্যে ছিল।
চতুর্থ মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় বার্সেলোনা। বক্সের বাইরে বুক দিয়ে বল নামিয়ে লেভানদোভস্কির নেওয়া শট অনায়াসে ঠেকান গোলরক্ষক। দশম মিনিটে সফল স্পট কিকে দলকে এগিয়ে নেন পোলিশ স্ট্রাইকার। গোলরক্ষক বলে হাত ছোঁয়ালেও আটকাতে পারেননি।
বক্সে সেল্তার মার্কোস আলোন্সোর হাতে বল লাগলে ভিএআর মনিটরে দেখে পেনাল্টি দিয়েছিলেন রেফারি।
পরের মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হতে পারত, কিন্তু ওয়ান-অন-ওয়ানে ব্যর্থ হন র্যাশফোর্ড। ইংলিশ স্ট্রাইকারের প্রচেষ্টা এগিয়ে এসে রুখে দেন গোলরক্ষক।
এর ২০ সেকেন্ডের মধ্যেই পাল্টা-আক্রমণে বার্সেলোনার জালে বল পাঠিয়ে সমতায় ফেরে সেল্তা। অফসাইডের ফাঁদ এড়িয়ে সতীর্থের থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে কোনাকুনি শটে গোলরক্ষক ভয়চেখ স্ট্যান্সনিকে পরাস্ত করেন সের্হিও কারেইরা।
২৫তম মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেতে পারত বার্সেলোনা। র্যাশফোর্ডের শট লাগে পোস্টে। ফিরতি বলে ইয়ামালের কোনাকুনি শট ঠেকান গোলরক্ষক।
৩৭তম মিনিটে চমৎকার ফিনিশিংয়ে দলকে আবার এগিয়ে নেন লেভানদোভস্কি। বাঁ দিক থেকে র্যাশফোর্ডের ক্রসে ছয় গজ বক্সে ভলিতে বল জালে পাঠান ৩৭ বছর বয়সী স্ট্রাইকার।
তবে এবারও বেশিক্ষণ লিড ধরে রাখতে পারেনি সফরকারীরা। দর্শনীয় গোলে ২-২ সমতা ফেরান ইগলেসিয়াস। ডান দিক থেকে সতীর্থের পাসে বক্সের বাইরে থেকে জোরাল শটে গোলটি করেন এই স্প্যানিশ স্ট্রাইকার।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে তৃতীয় দফায় এগিয়ে যায় বার্সেলোনা। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে র্যাশফোর্ডের কাট-ব্যাক প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে পেয়ে যান ইয়ামাল, নিচু শটে কাছের পোস্ট দিয়ে জালে পাঠান ১৮ বছর বয়সী ফুটবলার।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় বার্সেলোনা। পরিষ্কার কোনো সুযোগ যদিও তারা পাচ্ছিল না। ৭৩তম মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন লেভানদোভস্কি। র্যাশফোর্ডের কর্নারে তার হেড পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।
শেষ দিকে ইয়ামালের শট পোস্টে লাগায় ব্যবধান আর বাড়েনি।
সামনের আন্তর্জাতিক ফুটবলের বিরতির পর আগামী ২২ নভেম্বর ঘরের মাঠে বিলবাওয়ের মুখোমুখি হবে বার্সেলোনা।