Published : 13 Nov 2025, 05:51 PM
কয়েক বছরে পারফরম্যান্সের উত্থান-পতনের পর, ক্লাব ফুটবলে আকাশছোঁয়া সাফল্য পাওয়া কোচ কার্লো আনচেলত্তির হাত ধরে নতুন স্বপ্নে পথচলা শুরু করেছে ব্রাজিল। দীর্ঘ দুই যুগের বিশ্বকাপ খরা কাটাতে ৪৮ দলের আসর দিয়ে বাজিমাত করার লক্ষ্য তাদের। সেই অভিযানে ক্রমেই দল আরও ভালো হয়ে উঠছে, বিশ্বাস ভিনিসিউস জুনিয়রের।
সেই ২০০২ সালে নিজেদের পাঁচ বিশ্বকাপ ট্রফির সবশেষটি জিতেছে ব্রাজিল। তারপর থেকে বিশ্ব মঞ্চে তাদের সর্বোচ্চ সাফল্য ঘরের মাঠে ২০১৪ আসরের সেমি-ফাইনাল খেলা। বাকি চার বিশ্বকাপেই তাদের যাত্রা থেমে যায় কোয়ার্টার-ফাইনালে।
গত কয়েক বছরে তো তাদের পারফরম্যান্সের আরও অবনতি হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে যেমন ১৮ ম্যাচের মাত্র আটটিতে জিততে পেরেছে দলটি। বাছাইয়ের সেরা আর্জেন্টিনার চেয়ে ১০ পয়েন্ট কম নিয়ে, পঞ্চম হয় তারা।
তবে এর মাঝেই আনচেলত্তির কোচিংয়ে নতুন দিনের সূচনা হয়েছে সেলেসাও শিবিরে, অন্তত ব্রাজিলিয়ানদের সেটাই বিশ্বাস। গত মে মাসে দায়িত্ব নেওয়া এই ইতালিয়ানের কোচিংয়ে এখন পর্যন্ত ছয় ম্যাচ খেলে তিনটিতে জিততে পেরেছে তারা, দুটি হারের সবশেষটি গত মাসেই জাপানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে।
তবে দলটির পারফরম্যান্সে উন্নতির আভাস মিলতে শুরু করেছে। সেনেগালের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের দুদিন আগে সিবিএফ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই কথাই বললেন ভিনিসিউস।
“আমার বিশ্বাস, এই কোচের (আনচেলত্তি) সঙ্গে আমরা দিনে দিনে আরও পরিণত হচ্ছি এবং একটা খেলার ধরনে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করছি। বিশ্বকাপের আগে ছন্দ খুঁজে পাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ; তার আগ পর্যন্ত আমাদের কিছু ম্যাচ আছে, তাই সবাইকে বিশ্বকাপের উদ্দীপনায় নিজেদের শাণিত করতে হবে এবং অনুধাবন করতে হবে যে, আমাদের (লক্ষ্য অর্জনের) সুযোগ সামনেই।”
কোচিং ক্যারিয়ারে পাঁচটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগসহ অসংখ্য শিরোপাজয়ী আনচেলত্তির কোচিংয়ে রেয়াল মাদ্রিদে চার বছর খেলেছেন ভিনিসিউস। বলা যায়, তার কোচিংয়ে সেরাদের কাতারে উঠে এসেছেন ব্রাজিলিয়ান তারকা। তাই আনচেলত্তির কোচিংয়ে ধরনের সঙ্গে খুব ভালোভাবেই পরিচিত তিনি।
ভিনিসিউসের মতে, খুব সাধারণ কিছু কৌশল, নির্দেশ আর খেলোয়াড়দের সুসম্পর্কের মাঝেই আনচেলত্তির শক্তি নিহীত।
“অন্যান্য ক্লাবে তিনি যা করেছিলেন, যেভাবে করেছিলেন, এখানেও তাই করেছেন। তার দায়িত্ব খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী করা এবং সবাইকে দলে স্বচ্ছন্দ করে তোলা যেন তারা সবাই একে অপরের শক্তির সর্বোচ্চটা কাজে লাগাতে পারে।”
“তিনি সবসময় আমাদের বলেন, তিনি ব্রাজিলের মানুষদের খুশি করতে চান, আমরা অতীতে সবসময় যেমন ফুটবল খেলেছি সেই জায়গায় আমাদের ফেরাতে চান এবং বিশ্বকাপ জয়ের চেষ্টা করতে চান এবং এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।”
লন্ডনের এমিরেটস স্টেডিয়ামে আগামী শনিবার সেনেগালের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। এর চার দিন পর বছরের শেষ ম্যাচে তারা খেলবে আফ্রিকার আরেক দল তিউনিসিয়ার বিপক্ষে।