২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

৩২ বছরের খরা কাটানো জয়ে ‘খুবই খুশি’ জিদান

সেই ১৯৯৪ সালে এভাবে শুরু করতে পেরেছিলেন কোচ এমে জ্যাকে, এরপর ফ্রান্সের আর কোনো কোচের শুরুটা এমন হয়নি।

৩২ বছরের খরা কাটানো জয়ে ‘খুবই খুশি’ জিদান

জয় দিয়ে শুরু হলো জিদানের নতুন অধ্যায়। ছবি: রয়টার্স। 

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 26 Sep 2026, 12:23 PM

Updated : 26 Sep 2026, 12:34 PM

তুরস্কের বিপক্ষে ফ্রান্সের জয়টা প্রত্যাশিতই ছিল। যদিও পারফরম্যান্সে প্রত্যাশা কতটা পূরণ হয়েছে, সেই প্রশ্ন থাকবে। তবে শেষ জিততে পেরেই দারুণ খুশি কোচ জিনেদিন জিদান। মাত্র তিন-চারটি অনুশীলন সেশনের পরই মাঠে নেমে দল জিততে পেরেছে। আরও স্বস্তির কথা, দীর্ঘ ৩২ বছরের হতাশার এক ধারাও কেটে গেছে।

জাতীয় দলের কোচ হিসেবে জিনেদিন জিদানের অভিষেক ম্যাচে তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স। নেশন্স লিগের ম্যাচটিতে দলকে জেতানো গোলটি করেন ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপে।

ফ্রান্সের কোচিংয়ে প্রথম ম্যাচে এমবাপেকে বাম প্রান্তে, মাইকেল ওলিসেকে ডান প্রান্তে এবং উসমান দেম্বেলেকে মাঝামাঝি রেখে শক্তিশালী আক্রমণভাগ সাজান জিদান। যদিও আক্রমণের ঝড় ততটা দেখা যায়নি। বরং খেলার শুরুতে দুই দলেরই ভুল পাস দেখা যায়। তুরস্কের মাঠের এবড়োখেবড়ো অবস্থাও অবশ্য এসবের একটি কারণ। ম্যাচের ৫৫তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়া গোলটি করেন এমবাপে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, গত ৩২ বছরে এই প্রথম ফ্রান্সের কোনো কোচ জয় দিয়ে শুরু করতে পারলেন তার পথচলা। সবশেষ সেই ১৯৯৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম ম্যাচে জয় পেয়েছিলেন কোচ এমে জ্যাকে। সেই ম্যাচেও ফ্রান্স জিতেছিল ১-০ গোলে, প্রতিপক্ষ ছিল ইতালি।

মজার ব্যাপার হলো, ১৯৯৪ সালের অগাস্টে জিদানকে ফ্রান্স দলে সুযোগ দিয়েছিলেন সেই জ্যাকেই। তার কোচিংয়েই ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স। বিশ্বকাপ জিতেই তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দেন।

এরপর আরও পাঁচজন কোচ ফ্রান্সের দায়িত্ব পেলেও প্রথম ম্যাচে জিততে পারেননি কেউ। সেই খরা শেষ হলো জিদানের জয়ে।

১-০ গোলের জয় হলেও জিদান উচ্ছ্বসিত। সামনের পথচলায় ইতিবাচক উপকরণও তিনি পেয়েছেন ম্যাচ থেকে।

“মাত্র তিন-চারটি অনুশীলন সেশনের পর ম্যাচ খেলতে নেমে এই জয়ে আমরা সত্যিই খুব খুশি। আমাদের জন্য একটি ভালো আভাস।

(দলের প্রতি) বার্তাটি ছিল কেবল নিজেদের উপভোগ করা, একসঙ্গে থাকা এবং দল হিসেবে প্রচেষ্টা চালানো, আর আমরা ঠিক তা-ই করেছি। এই ম্যাচ থেকে যদি একটি নির্দিষ্ট জিনিস আমি নিতে চাই, তা হলো বলের দখল হারানোর প্রতিটি মুহূর্তে আমরা যে ভারসাম্য বজায় রেখেছিলাম। এটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল।”

জয়ের আনন্দ থাকলেও অবশ্য এই ম্যাচে বড় ধাক্কা এসেছে ফ্রান্সের জন্য। গোল করার পরপরই হাঁটুর চোটের মাঠ ছেড়ে যান এমবাপে। এই চোটে তাকে জাতীয় দল থেকে চলে যেতে হবে বলেও নিশ্চিত করেছেন জিদান।

চলতি আন্তর্জাতিক বিরতিতে নেশন্স লিগে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ আছে ফ্রান্সের। এর দুটি বেলজিয়ামের বিপক্ষে, একটি ইতালির বিপক্ষে। কোনোটিতেই খেলতে পারবেন না এমবাপে।