Published : 24 Jun 2024, 10:07 AM
ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন গ্যারি লিনেকার। ব্যক্তিগত নানা অর্জনে সমৃদ্ধ ক্যারিয়ার। কিন্তু দলীয় অর্জনের ঝুলি তার তো প্রায় শূন্য! ইংলিশ গ্রেটকে সেটিই মনে করিয়ে দিলেন হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ড অধিনায়কের চাওয়া, টুর্নামেন্ট চলার সময় সমালোচনা নয়, বরং সহায়তা করা হয় যেন। দর্শক-সমর্থকদের কাছেও এই ফরোয়ার্ডের অনুরোধ, তাদের পারফরম্যান্সের মূল্যায়ন করা হয় যেন টুর্নামেন্ট শেষে।
এবারের ইউরোর শুরুটায় প্রত্যাশিত ছন্দে নেই ইংল্যান্ড। তারকায় ঠাসা দল নিয়েও তাদের খেলায় নেই তেমন ধার। প্রথম ম্যাচে সার্বিয়াকে কোনোরকমে হারানোর পর (১-০) দ্বিতীয় ম্যাচে ইংলিশরা ১-১ গোলে ড্র করে ডেনমার্কের সঙ্গে। দুই ম্যাচেই তাদের খেলায় আশার উপকরণ খুব একটা মেলেনি।
এখনও পর্যন্ত অবশ্য খুব বিপজ্জনক বা বাদ পড়ার অবস্থায় নেই ইংল্যান্ড। বরং গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানিও আছে ভালোমতোই। কিন্তু তাদের খেলার ধরন জন্ম দিয়েছে অনেক প্রশ্নের। ডেনমার্কের বিপক্ষে ম্যাচের পর বিবিসি এক পডকাস্ট-এ যেমন কেইনদের ধুয়ে দিয়েছেন লিনেকার।
সেই প্রসঙ্গেই রোববার সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হয় কেইনকে। ইংল্যান্ডের সফলতম গোল স্কোররার যেন পাল্টা আঘাত তৈরি করেই রেখেছিলেন।
“সমালোচনা করার চেয়ে ছেলেদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়তা করাই বরং আরও ভালো পথ। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যাপার তো, দল হিসেবে আমরা অনেক অনেক বছর ধরে কোনো টুর্নামেন্ট জিততে পারি না এবং এই সাবেক ফুটবলারদের সবাই এই সময়টায় খেলেছেন।”
“কাজেই তাদের জানা থাকার কথা, কাজটা কতটা কঠিন। কখনোই কোনো সাবেক ফুটবলারকে অসম্মান করব না আমি। তবে স্রেফ এটুকু মনে করিয়ে দিতে চাই, এই জার্সি পরার ব্যাপারটি কেমন এবং তাদের কথাগুলো সবার কানে আসে। আমরা সবাই একটি বড় টুর্নামেন্ট জিততে চাই। আমি নিশ্চিত, তারাও চায়। যতটা সম্ভব পাশে যদি তারা থাকতে পারেন, লক্ষ্য পূরণে সহায়তা করার সবচেয়ে ভালো পথ সেটিই।”
১৯৮৪ থেক ১৯৯২ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেছেন লিনেকার। ১৯৮৪ বিশ্বকাপে ছয় গোল করে গোল্ডেন বুট জিতেছিলেন তিনি, তবে ইংল্যান্ড হেরে যায় কোয়ার্টার ফাইনালে। ১৯৯০ বিশ্বকাপে চার গোল করেন তিনি, ইংল্যান্ড এবার হয় চতুর্থ। তার ১০ গোল এখনও বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের রেকর্ড।
এছাড়া ১৯৮৮ ও ১৯৯২ ইউরোতেও ইংল্যান্ডের হয়ে খেলেন তিনি। দুবারই গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ে ইংল্যান্ড। ক্লাব ফুটবলে তিনি লেস্টার সিটি, এভারটন, বার্সেলোনা ও টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে গোল করেছেন প্রচুর। কিন্তু কখনোই লিগ জয়ের স্বাদ পাননি। খেলা ছাড়ার পর বিশ্লেষক হিসেবেও আলাদা জায়গা তিনি করে নিয়েছেন।
লিনেকারদের সমালোচনার সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তু কেইনদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ, যেখানে আছেন ফিল ফোডেন, জুড বেলিংহ্যাম, বুকায়ো সাকার মতো তারকারা। প্রথম ম্যাচে গোল করেছেন বেলিংহ্যাম, পরের ম্যাচে কেইন। তবে তাদের মধ্যে সমন্বয় এখনও সেভাবে জমে ওঠেনি। কিছুটা ছন্নছাড়াই মনে হয়েছে তাদের।
তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বোঝাপড়া ও বন্ধন খুব দৃঢ় নয় বলেই আঙুল তুলছেন অনেকে। কেইন অবশ্য সেসব গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন।
“ওদের সবার সঙ্গেই আমার সম্পর্ক ভালো। স্রেফ সেটা তুলে ধরার মতো যথেষ্ট ভালো আমরা এই ম্যাচে খেলতে পারিনি।”
সমর্থক ও ফুটবল অনুসারীদের কাছেও কেইনের অনুরোধ, টুর্নামেন্ট চলার সময় যেন তাদের শূলে না চড়িয়ে আস্থা রাখা হয়।
“টুর্নামেন্ট চলার সময় স্রেফ আমাদেরকে সমর্থন জানান। টুর্নামেন্টের পরে পারফরম্যান্সের বিচার করতে পারেন। টুর্নামেন্ট চলার সময় সবকিছু ঠিকঠাক করার দায়িত্ব আমাদের, ফুটবলারদের। অবশ্যই লোকের মতামত থাকবেই। তবে দিনশেষে সিদ্ধান্ত আমরাই নেই এবং সমাধান বের করার চেষ্টা করি।”
“আমরা কী কী ঠিক করিনি, এসব নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন। তবে আমরা রক্ষণে তো ভালো করেছি, অনেক ধীরস্থির আছি, যেমনটা আমরা আগেও ছিলাম।”