১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

অভিযুক্ত মরিনিয়ো এবার করলেন পাল্টা মামলা

বর্ণবাদের অভিযোগে গালাতাসারাইয়ের মামলার হুমকির পর তাদের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করেছেন ফেনারবাচের কোচ জোসে মরিনিয়ো।

অভিযুক্ত মরিনিয়ো এবার করলেন পাল্টা মামলা
সহজে ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন জোসে মরিনিয়ো। ছবি: রয়টার্স।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Mar 2025, 01:15 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:55 AM

তুরস্কের ফুটবল ফেডারেশনের নিষেধাজ্ঞা ও জরিমানা তো পেতে হয়েছেই। গালাতাসারাই ক্লাবের মামলার খড়গও ঝুলছে সামনে। তবে জোসে মরিনিয়ো তো আর দমে যাওয়ার পাত্র নন। উল্টো গালাতাসারাই ক্লাবের বিরুদ্ধেই মানহানির মামলা করেছেন ফেনারবাচের কোচ।

চলমান এই বর্ণবাদ বিতর্কে কোচের পাশে থাকার ঘোষণা আগেই দিয়েছিল ফেনারবাচে। ক্লাবটি শুক্রবার বিবৃতিতে জানায়, ‘ব্যক্তিগত অধিকারের ওপর আঘাত’ করায় গালাতাসারাই ক্লাবের বিরুদ্ধে ১৯ লাখ ৭ হাজার লিরা “নৈতিক ক্ষতিপূরণের’ মামলা করা হয়েছে।

অর্থের অঙ্কটা অনেকটা কৌতূহল জাগানিয়া হতে পারে অনেকের জন্য। এখানেও আসলে আছে মরিনিয়োর চিরায়ত ছাপ। ফেনারবাচে ক্লাবটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ১৯০৭ সালে এবং তাদের প্রতীকে এটা আছে। টাকার অঙ্কটাও সেটির সঙ্গে মিল রেখেই নির্ধারণ করা হয়েছে। 

বিস্তারিত আর কিছু জানায়নি ফেনারবাচে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে গালাতাসারাই ক্লাব জানায়, তারা এর মধ্যেই মামলা করেছে মরিনিয়োর বিরুদ্ধে। এর বেশি কিছু আর জানায়নি তারাও। 

গত সোমবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী এই দুই ক্লাবের ম্যাচের পর থেকেই মরিনিয়োকে নিয়ে তোলপাড় চলছে তুরস্কের ফুটবলে। লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি ড্র হয় ০-০ গোলে। 

দুই ক্লাবের অনুরোধে এই ম্যাচে বিদেশি রেফারি আনা হয়। ম্যাচটি পরিচালনা করেন স্লোভেনিয়ার রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।

ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে মরিনিয়ো বলেন, রেফারিদের কক্ষে গিয়ে তিনি তাদের সঙ্গে দেখা করে এসেছেন। 

“ম্যাচ শেষে রেফারিদের ড্রেসিং রুমে গিয়েছিলাম আমি। চতুর্থ রেফারিও সেখানে ছিল, যিনি তুরস্কের রেফারি। মূল রেফারিকে (ভিনচিচ) আমি বলেছি, ‘এখানে আসার জন্য ধন্যবাদ। কারণ বড় একটি ম্যাচে আপনি এসেছেন এবং দায়িত্ব পালন করেছেন।’ এরপর চতুর্থ রেফারির দিকে ঘুরে বলেছি, ‘এই ম্যাচে আপনি রেফারি থাকলে বিপর্যয় হয়ে যেত।’ তাকে যখন এটা বলেছি, আমি আসলে (তুরস্কের) সবাইকেই বুঝিয়েছি, তাদের সহজাত প্রবণতা।”

ম্যাচের শুরুর দিকে ফেনারবাচের ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডার ইউসুফ আকচিচেকের একটি চ্যালেঞ্জ নিয়ে বেশ উত্তেজনা ছড়িয়েছিল। গালাতাসারাইয়ের ডাগ আউটের ফুটবলাররা বেশ উত্তেজিত দেখা গিয়েছিল তখন। সেই ঘটনায় আকচিচেককে হলুদ কার্ড না দেখানোয় রেফারি ভিনচিচের প্রশংসা করেন মরিনিয়ো।

“এই ঘটনায় রেফারিকে ধন্যবাদ জানিয়েছি আমি। কারণ, এখানে যদি তুরস্কের কোনো রেফারি থাকত, প্রথম মিনিটেই ওদের এক ফুটবলার যেভাবে ডাইভ দিয়েছে, ওদের বেঞ্চের ফুটবলাররা বাচ্চা ছেলেটির (আকচিচেক) ওপর যেভাবে বানরের মতো লাফালাফি করছি… তুর্কি রেফারি থাকলে এসব দেখেই হলুদ কার্ড দিয়ে দিত এক মিনিটেই এবং পাঁচ মিনিট পর তার বদলি কাউকে নামাতে হতো আমাকে।”

মরিনিয়োর এসব মন্তব্যের পর সামাজিক মাধ্যমে কড়া প্রতিক্রিয়া জানায় গালাতাসারাই। বর্ণবাদী মন্তব্যের দায়ে ৬২ বছর বয়সী পর্তুগিজ এই কোচের বিরুদ্ধে ফৌজদারি কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেয় ক্লাবটি। 

ফেনারবাচে তখন কোচের পাশেই দাঁড়ায়। তারা বিবৃতিতে বলেছিল, মরিনিয়োর মন্তব্যকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে এবং বিকৃত করা হয়েছে। তারাও পাল্টা ঘোষণায় জানায়, ভিত্তিহীন অভিযোগেরর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই পথই শেষ পর্যন্ত বেছে নেওয়া হলো। 

তুরস্কের ফুটবল ফেডারেশন বৃহস্পতিবার, মরিনিয়োকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করে। পাশাপাশি জরিমানা করা হয় ১৬ লাখ ১৭ হাজার লিরা (প্রায় ৪৪ হাজার ডলার)। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ফেডারেশন উল্লেখ করে, তুর্কি রেফারির প্রতি ‘অপমানজনক ও আক্রমণাত্মক’ মন্তব্যের জন্য এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মরিনিয়োর মন্তব্য খেলাধুলার নৈতিকতা ভঙ্গ করেছে, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা উসকে দিয়েছে এবং সমর্থকদের উত্তেজিত করে তুলতে পারে বলে মনে করে ফেডারেশন। 

তুরস্কের রেফারিদের নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্যের দায়ে আগেও এক দফায় জরিমানা করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল মরিনিয়োকে।