১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ম্যাচ হেরে নাচছে জার্মানির মেয়েরা!

নারী কাবাডি বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশে আসা জার্মানি দল খেলতে নেমে পয়েন্ট হারালেও হাসছে, ম্যাচ হারলেও নাচছে!

ম্যাচ হেরে নাচছে জার্মানির মেয়েরা!
এই নৃত্য দেখলে যে কারো মনে হবে জার্মানি জিতেছে, কিন্তু আসলে তারা হেরেছে! ছবি: বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশন

মোহাম্মদ জুবায়ের মোহাম্মদ জুবায়ের

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Nov 2025, 06:53 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:09 PM

ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার একটু পর মাঠের এক কোণে নাচ শুরু করে দিলেন এমা-এলিনারা। তাল-লয় ঠিক আছে কিনা, সেদিকে কারো বিন্দুমাত্র খেয়াল নেই। ইচ্ছেমতো হাত-পা নাড়িয়ে, কোমর দুলিয়ে, লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে নাচতে লাগলেন জার্মানি দলের বাকি মেয়েরাও। সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। এই দৃশ্য দেখে যে কারো মনে হতে পারে দলটি জয়ের আনন্দ উৎসবে মেতেছে, কিন্তু আদতে তা নয়। 

ম্যাচের ফল শুনলে যে কারো চোখ বরং বিস্ময়ে ছানাবড়া হয়ে যেতে বাধ্য। থাইল্যান্ডের কাছে ৫১-২৬ পয়েন্টে হেরেছে জার্মানি!

মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে ১১ দল নিয়ে চলছে নারী কাবাডি বিশ্বকাপের দ্বিতীয় আসরে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে এসেছে জার্মানি। কিন্তু দলটির সবকিছুতেই ম্যাচের ফল গৌণ! ঢাকায় প্রতিটি মুহূর্তই তারা উপভোগ করছেন চুটিয়ে!

বাংলাদেশের কাছে ৫৭-২৭ পয়েন্টে হেরে যাত্রা শুরু করে সব মিলিয়ে খেলা চার ম্যাচের সবগুলোতেই হেরেছে জার্মানি। তবুও প্রতিটি ম্যাচ তাদের উপভোগ করতেই দেখা গেছে! বিরতির ফাঁকে দলীয় আলোচনায় অংশ না নিয়ে কেউ ছবি তোলায় ব্যস্ত ছিলেন, কেউ সময়টুকু কাটিয়েছেন গ্যালারির দর্শকের অভিবাদনের উত্তর দিয়ে।

ম্যাটের লড়াইয়েও তারা বিনোদন ছড়িয়েছেন যথেষ্ট। রেইড দিতে গিয়ে পাকড়াও হয়ে অন্যদের যখন মুখ গোমড়া, এমারা তখন খিলখিল করে হাসছেন। প্রতিপক্ষরা যখন তাদের আউট করে দিচ্ছেন, তখনও তারা ম্যাট ছাড়ছেন হাসিমুখে! বিশ্বকাপের মতো আসরে কোন দল কেবল উপভোগের মন্ত্র নিয়ে অংশ নিতে পারে, তা অবিশ্বাস্যই। জার্মানি দলের এমন আবহ নিয়ে সবার কৌতুহল মেটালেন দলটির অধিনায়ক এমা লুসি এটলি।

“আমরা এই প্রথম বিশ্বকাপে খেলতে এসেছি। শুধু তাই নয়, প্রতিযোগিতামূলক খেলাতেও প্রথম আসলাম। এর আগে শুধু আমাদের প্রতিবেশী নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে খেলেছি। ওরা আমাদের চেয়ে ভালো দল। সেই ম্যাচগুলোর ভিডিও ইউটিউবে রয়েছে।”

“এক বছরও হয়নি আমরা কাবাডি শিখছি। এখনও সেই পর্যায়ে শিখে উঠতে পারিনি। তাই এখানে এসে অনেক কিছু শিখছি। বলতে পারেন খেলার নিয়ম কানুনও শিখছি। আর একটি কথা বলে রাখি, বলতে পারেন, বাংলাদেশে এসেছি কাবাডি উপভোগ করতে।”

এমাই জানালেন, ১৪ জনের দলও দাঁড় করাতে পারেননি তারা। বাংলাদেশে এসেছেন মাত্র ৯ জন নিয়ে। দলটির কেউই পেশাদার কাবাডি খেলোয়াড় নন। কেউ ডাক্তার, কেউ ছাত্রী, কেউবা চাকুরীজীবি। এক বছরও হয়নি জার্মানি নারী কাবাডি দলের বয়স। তাই খেলাটি এখনও তাদের কাছে সৌখিনতার পর্যায়ে আছে। এমা জানালেন, স্টুটগার্ট ও নুরেমবার্গে কেবল কাবাডির চর্চা হয়। সব মিলিয়ে তাদের নারী খেলোয়াড় আছেন ৩০ থেকে ৪০ জন।

স্টুটগার্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে স্পোর্টস ম্যানেজমেন্টের শিক্ষার্থী এমা। তার মতোই পড়াশোনার মধ্যে আছেন ইয়ানা। হারের পরও তোমাদের নাচতে দেখলাম…কথাটা শেষ করতে দিলেন না ইয়ানা। একরাশ হাসি ছড়িয়ে বললেন, বাংলাদেশে তারা এসেছেন মজা করতে। গ্যালারি থেকে তাদের নাম ধরে বাংলাদেশি সমর্থকদের ডাক দেওয়াটা বিশেষ করে ছুঁয়ে যাচ্ছে ইয়ানাকে।

“এখানে আমাদের কাছে জয় মুখ্য নয়। আমরা বাংলাদেশে এসেছি মজা করতে। এ কারণে ম্যাচ শেষে আমরা নাচছি, গাইছি, হাসছি। গ্যালারি থেকে এখানকার সমর্থকরা আমাদের খুব উৎসাহ দিচ্ছে, আমাদের নাম ধরে ডাকছে, ভীষণ ভালো লাগছে আমাদের।”