১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘স্বপ্নের ক্লাব’ ম্যান ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বসিত এমবুমো

মোটা অঙ্কের ট্রান্সফার ফিতে ব্রেন্টফোর্ড থেকে ক্যামেরুনের ফরোয়ার্ডকে পাঁচ বছরের চুক্তিতে দলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড।

‘স্বপ্নের ক্লাব’ ম্যান ইউনাইটেডে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বসিত এমবুমো
যে জার্সি গায়ে ছেলেবেলায় খেলেছেন, সেটিই এখন এমবুমোর গায়ে। ছবি: ম্যান ইউনাইটেড ফেইসবুক।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 22 Jul 2025, 03:13 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:25 PM

ছেলেবেলায় ফুটবল খেলার দিনগুলিতে ব্রায়ান এমবুমো গায়ে চাপাতেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সি। ঠিকভাবে বুঝতে শেখার আগে থেকেই এই ক্লাবকে তিনি ধারণ করেছেন হৃদয়ে। ক্যারিয়ার ও জীবনের নাটকীয় পথচলায় এখন তিনি সেই ক্লাবেরই ফুটবলার। স্বপ্নের ক্লাবে নাম লেখানোর পর ২৫ বছর বয়সী উইঙ্গারের উচ্ছ্বাসও তাই আকাশছোঁয়া।

গত কিছুদিনে সংবাদমাধ্যমের নানা খবরে ব্যাপারটি নিশ্চিত হয়েই গিয়েছিল। আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও চলে এলো সোমবার। ব্রেন্টফোর্ড ছেড়ে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে পাড়ি জমালেন এমবুমো।

ব্রেন্টফোর্ডে ছয় বছর ছিলেন তিনি। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেও থাকতে পারেন অন্তত ছয় বছর। চুক্তি যদিও মূলত পাঁচ বছরের, তবে সুযোগ থাকছে এক বছর বাড়ানোর।

ট্রান্সফার ফির অঙ্ক নিয়ে সংবাদমাধ্যমে এতদিন যে আলোচনা ছিল, সেটিই সত্যি হয়েছে। তাকে পেতে সাড়ে ছয় কোটি পাউন্ড (৮ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার) মূল অঙ্কের পাশাপাশি বিভিন্ন সংযুক্তি মিলিয়ে আরও ৬০ লাখ পাউন্ডের মতো খরচ করতে হবে ইউনাইটেডকে। 

ক্যামেরুনের বাবা ও ফরাসি মায়ের সন্তান এমবুমোর জন্ম ফ্রান্সে। বয়সভিত্তিক ফুটবলে অনূর্ধ্ব-২১ পর্যন্ত খেলেছেন ফ্রান্সের হয়ে। পরে জাতীয় দল হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি বাবার দেশকে। 

ছেলেবেলায় ফ্রান্সের কয়েক একাডেমি হয়ে ১৪ বছর বয়সে ফরাসি ক্লাব তোয়াহর একাডেমিতে পা রাখেন তিনি। সেখানেই গড়ে তোলেন নিজেকে। সেই ক্লাবের হয়েই পেশাদার ফুটবলের জগতে তার আবির্ভাব। 

সেখান থেকে ব্রেন্টফোর্ডে আসেন তিনি ২০১৯ সালে ক্লাবটির ট্রান্সফার ফির রেকর্ড গড়ে। গত মৌসুমে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ব্রেন্টফোর্ডের চমকপ্রদ পথচলায় এমবুমো ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল। লিগের চতুর্থ সর্বোচ্চ ২০ গোল করেছিলেন তিনি। 

স্বপ্নপূরণের স্বাক্ষর। ছবি: ম্যান ইউনাইটেড ফেইসবুক।

স্বপ্নপূরণের স্বাক্ষর

এরপর থেকেই তার ওপর নজর ছিল বিভিন্ন ক্লাবের। ইউনাইটেড তাকে পেতে উঠেপড়ে লেগেছিল বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরেই। চড়া দামের কারণে এক পর্যায়ে আলোচনা ভেস্তে যেতেও বসেছিল। নিউক্যাসল ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম হটস্পার, আর্সেনাল ও চেলসি তাকে পেতে আগ্রহী বলেও খবর এসেছিল সংবাদমাধ্যমে। 

শেষ পর্যন্ত লড়াইয়ে জিতে গেল ইউনাইটেড। উচ্চ পারিশ্রমিক দিয়ে ইউনাইটেড তাকে নিজেদের করে নিয়েছে বলে ইংলিশ কিছু সংবাদমাধ্যমের দাবি।

এমবুমো অবশ্য চুক্তির আনুষ্ঠানিকতা সেরে বললেন, তার হৃদয়ে কেবল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডই ছিল।

“যখনই জানতে পেরেছি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার হাতছানি আছে, স্বপ্নের ক্লাবে যোগ দেওয়ার সুযোগ আমাকে নিতেই হতো। এই ক্লাবের জার্সি গায়েই আমি বেড়ে উঠেছি।”

“আমার মানসিকতা সবসময়ই হলো গতকালকের চেয়ে আরও ভালো হয়ে ওঠা। আমি জানি, নতুন উচ্চতা স্পর্শ করার তাড়না, হুবেন আমুরির (কোচ) কাছ থেকে শেখা এবং বিশ্বমানের ফুটবলারদের সঙ্গে খেলার মানসিকতা আমার আছে।”

মূলত রাইট উইঙ্গার হলেও সেন্টার ফরোয়ার্ড হিসেবেও দারুণ খেলতে পারেন এমবুমো। সামনেই যুক্তরাষ্ট্রে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ম্যাচগুলোয় ক্লাবের জার্সি গয়ে উঠতে পারে তার।