২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গুয়ার্দিওলার প্রস্তাব পেয়েই ‘সম্মানিত’ গন্সালেস

দুঃসময় থেকে মুক্তি পেতে জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে একের পর এক ফুটবলারকে দলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি, দলবদলের শেষ সময়ে তারা নিয়েছে বার্সেলোনার একাডেমি হয়ে একসময় মূল দলে খেলা মিডফিল্ডার নিকো গন্সালেসকে।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Feb 2025, 03:05 PM

Updated : 26 Aug 2026, 11:44 AM

পোর্তোর সঙ্গে পাঁচ বছরের চুক্তির দেড় বছর সবে পেরিয়েছে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ অংশও হয়ে উঠেছিলেন নিকো গন্সালেস। কিন্তু ম্যানচেস্টার সিটি থেকে যখন ডাক আসে, তখন তো উপেক্ষা করা কঠিন! সেই রোমাঞ্চ নিয়েই স্বপ্নের ক্লাবে পাড়ি জমালেন স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। পেপ গুয়ার্দিওলার মতো কোচ তাকে দলে চেয়েছেন, এতেই এই তরুণের উচ্ছ্বাস ছুঁতে চাইছে আকাশ। 

সাম্প্রতিক দুঃসময় থেকে মুক্তি পেতে দলবদলের বাজারে দারুণ সক্রিয় ম্যানচেস্টার সিটি শেষ সময়ে যোগ করেছে গন্সালেসকে। পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তোর ২৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডারকে সাড়ে চার বছরের চুক্তিতে দলে নিয়েছে ইংলিশ ক্লাবটি। 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, দারুণ ফর্মে থাকা প্রতিভাবান ফুটবলারকে পেতে ৬ কোটি ইউরো খরচ হয়েছে সিটির।

সাত বছর বয়সে লা করুনিয়ার ক্লাব মন্তানিয়েরোতে পা রেখে ফুটবলার হওয়ার পথে ছুটতে শুরু করেন গন্সালেস। তবে তার সত্যিকারের গাঁথুনি গড়ে ওঠে ১১ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত একাডেমিতে যোগ দেওয়ার পর।

বার্সেলোনার ‘বি’ দলের হয়ে তার অভিষেক ২০১৯ সালে। পরে ২০২১ সালে মূল দলের জার্সি গায়েও মাঠে নামেন। তবে ক্লাবে নিজের জায়গা করে নিতে পারেননি তিনি। ২০২২ সালে ধারে খেলে আসেন ভালেন্সিয়ায়। পরে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে পাঁচ বছরের চুক্তিতে পাড়ি জমান পোর্তোয়। এই ক্লাবের হয়ে ৬৮ ম্যাচে গোল করেছেন তিনি ৯টি, সহায়তা করেছেন ৯ গোলে। এই মৌসুমে দারুণ ফর্মে ছিলেন তিনি। 

গন্সালেসকে দলে পেতে বেশ কয়েকদিন ধরেই পোর্তোর সঙ্গে সিটির আলোচনা চলছে বলে খবর প্রকাশ করেছিল ইএসপিএন। তবে বনিবনা হচ্ছিল না আর্থিক বিষয়ে। পোর্তো কোনো ছাড় দিতে রাজি ছিল না, কারণ অর্থের একটি অংশ পাবে গন্সালেসের সাবেক ক্লাব বার্সেলোনাও। শেষ পর্যন্ত পোর্তোর চাওয়া সিটি পূরণ করেছে বলেই খবর ইএসপিএনের।

গন্সালেসের নিজের আগ্রহও একটা বড় ব্যাপার। তার প্রতিক্রিয়াতেই ফুটে উঠছে, কতটা মরিয়া ছিলেন তিনি সিটিতে আসতে। 

ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে আমার জন্য এটা সবচেয়ে উপযুক্ত সুযোগ। আমার বয়স ২৩ এবং ইংল্যান্ডে নিজেকে পরখ করে দেখতে চাই আমি। সেটির জন্য ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে ভালো ক্লাব আর হয় না।”

“তাদের স্কোয়াডের দিকে তাকান, অবিশ্বাস্য এটা। বিশ্বমানের ফুটবলারে পরিপূর্ণ। বিশ্বের এমন কোনো ফুটবলার নেই যে, এটির অংশ হতে চাইবে না।”

গন্সালেসের সিটিতে খেলতে চাওয়ার আরেকটি বড় কারণ, গুয়ার্দিওলার সংস্পর্শে এসে নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করা। 

“পেপ গুয়ার্দিওলার ভাবমূর্তি আমি জানি এবং তার সঙ্গে কাজ করতে তর সইছে না আমার। সত্যি বলতে, তিনি আমাকে তার ক্লাবে খেলাতে চান, এতেই আমি সম্মানিত।”

“আমি সত্যিই দারুণ রোমাঞ্চিত। এখন আমি স্রেফ আমার নতুন সতীর্থ ও স্টাফদের সঙ্গে দেখা করতে চাই এবং সিটির সমর্থকদের সামনে খেলতে চাই।”

বেশ কিছুদিন ধরেই দুঃসহ সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়া সিটি জানুয়ারির ট্রান্সফার উইন্ডোতে এই নিয়ে দলে যোগ করল চার ফুটবলারকে। এই উইন্ডোতে তারা ২১ কোটি ইউরোর বেশি খরচ করেছে দলবদলের বাজারে। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের বাকি ১৯ ক্লাব মিলেও এতটা খরচ করেনি।