২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

এএফসি কংগ্রেসকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের’ অভিযোগ ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে

এএফসির বিশেষ কংগ্রেসের শেষ দিনটি ছিল ফিফা সভাপতির নির্দেশে পরিচালিত রাজনীতি, দাবি করেছেন জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান।

এএফসি কংগ্রেসকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের’ অভিযোগ ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 25 Oct 2026, 08:57 PM

Updated : 25 Oct 2026, 08:57 PM

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো পুনর্নির্বাচনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) কংগ্রেসকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান প্রিন্স আলি বিন হুসেইন।

টোকিওতে গত শুক্রবার এএফসির বিশেষ কংগ্রেসে সংস্থাটির সভাপতি শেখ সালমান বিন ইব্রাহিম আল-খালিফা চতুর্থ মেয়াদে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন জানান। অথচ দুই মাস আগে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি করার ইনফান্তিনোর পরিকল্পনাকে ‘বিশ্বাসভঙ্গ’ বলে অভিহিত করেছিলেন শেখ সালমান। তিনি এখন দাবি করলেন যে, ইনফান্তিনোর সমর্থনে এশিয়া ঐক্যবদ্ধ।

তবে টোকিওতে ঘটে যাওয়া ঘটনাপ্রবাহের সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চিত্র তুলে ধরেছেন ফিফা নেতৃত্বের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত প্রিন্স আলি।

সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ তিনি লিখেছেন, “টোকিওতে অনুষ্ঠিত এএফসি কংগ্রেস থেকে ফিরলাম। প্রথম দুই দিন আলোচনা হয়েছে ফুটবল নিয়ে, যেটির সেবায় আমরা সবাই নিয়োজিত। কিন্তু শেষ দিনটি ছিল জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নির্দেশে পরিচালিত সম্পূর্ণরূপে রাজনীতি।

“এমন খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, পরবর্তী ফিফা সভাপতি নির্বাচনের বিষয়ে এশিয়া ঐক্যবদ্ধ অবস্থানে রয়েছে। অথচ বাস্তবে কাউকে কথা বলতে, প্রশ্ন তুলতে, বিতর্ক করতে বা গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগই দেওয়া হয়নি। স্বচ্ছতার অভাব জবাবদিহিতার অভাব তৈরি করে। কোনো ধরনের জোরজবরদস্তি, হুমকি বা ঘুষের সুযোগ থাকা উচিত নয়।”

প্রিন্স আলি তার এই বক্তব্যের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য ফিফা ও এএফসির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এএফসি কংগ্রেসে ইনফান্তিনোও বক্তব্য রাখেন এবং শেখ সালমানকে পরবর্তী মেয়াদের জন্য সমর্থন জানান।

গত অগাস্টে প্রিন্স আলি প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর সমালোচনা করেন। ফিফা সভাপতির বিরুদ্ধে ‘ব্ল্যাকমেইলের’ অভিযোগ এনে তিনি দাবি করেন যে, ইনফান্তিনোকে সমর্থন দেওয়ার বিনিময়ে জর্ডানের সমস্যা সমাধানে সাহায্যের প্রস্তাব দিয়েছিল ফিফা। ২০২৫ সালের আরব কাপে অংশগ্রহণের অর্থ না পাওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।

এর দুদিন পরই প্রিন্স আলি জানান, আরব কাপে অংশগ্রহণের জন্য জর্ডানের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা তাদের বকেয়া অর্থ পেয়েছেন।

কাতারে অনুষ্ঠিত আরব কাপের ফাইনালে ওঠার পর থেকেই জর্ডান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এই পুরস্কারের অর্থের অপেক্ষায় ছিল।

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ার পর নিজের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন শনিবার হেসে উড়িয়ে দেন ইনফান্তিনো। বরং বিশ্বজুড়ে সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর ব্যাপক সমর্থন পাওয়ার কথা বলেন তিনি।

এএফসির সমর্থনের ফলে সুইস-ইতালিয়ান এই কর্মকর্তার ফিফা সভাপতি পদে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে জোরাল হয়েছে। এর ফলে উয়েফা আরও বেশি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে এবং ইনফান্তিনোর বিপরীতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার বিষয়টিও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।