ফেনীতে ৩ এইচএসসি পরীক্ষার্থীকে উত্ত্যক্ত ও মারধর, ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার
এ সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ হলে স্থানীয় এক সাংবাদিককে হত্যা করে লাশ গুমের হুমকি দেন রবিউল, তার বাবা ও কয়েক সহযোগী।
ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় এইচএসসি পরীক্ষার্থী তিন ছাত্রীর শ্লীলতাহানি ও মারধরের মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার মধ্যরাতে ফেনী শহরের ট্রাংক রোডের একটি রেস্তোরাঁর সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছেন সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মো. হাসান ইমাম।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম রবিউল হাসান (২১)। তিনি সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক। তার বাড়ি ওই ইউনিয়নের বগাদানা গ্রামে।
গ্রেপ্তারের পর সোমবার দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার এজহারের বরাত দিয়ে ওসি বলেন, “চলমান এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন গত বৃহস্পতিবার উপজেলার একটি পরীক্ষাকেন্দ্র থেকে বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষা শেষ করে বের হন তিন ছাত্রী। এ সময় তাদের পিছু নেন ছাত্রলীগ নেতা রবিউল হাসান ও তার সহযোগীরা।
“একপর্যায়ে তারা নানাভাবে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করেন। প্রতিবাদ করলে চড়থাপ্পড় ও লাথি মারেন তারা। পরে ছাত্রীরা দ্রুত অটোরিকশায় চেপে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। কিন্তু এসময় রবিউল ও তার সহযোগীরা অটোরিকশার পিছু নেন। এক পর্যায়ে অটোরিকশার গতিরোধ করে ছাত্রীদের সেখান থেকে নামিয়ে আবারও মারধর করেন তারা।”
ছাত্রীদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে ছাত্রলীগ নেতা রবিউল ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যান বলে জানান ওসি।
ঘটনার তৃতীয় দিন শনিবার রাতে ভুক্তভোগী এক পরীক্ষার্থী সোনাগাজী মডেল থানায় রবিউলসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। অন্য আসামিরা হলেন, তার সহযোগী মো. তুষার, মো. মুরাদ ও মো. ফারুক।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আসামিরা পলাতক ছিলেন।
ওসি বলেন, রোববার রাতে রবিউল ও তার সহযোগীরা এলাকা ছেড়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফেনী শহরে যান। খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে শহরের ট্রাংক রোডের একটি রেস্তোরাঁর সামনে থেকে রবিউলকে গ্রেপ্তার করে।
এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যরা পালিয়ে যান।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন জানিয়ে ওসি বলেন, পুলিশ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে ছাত্রীদের মারধরের ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গত শুক্রবার রাতে গিয়াস উদ্দিন নামে এক স্থানীয় সংবাদকর্মী মোবাইল টেলিফোন রবিউলের বক্তব্য জানতে চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গিয়াস উদ্দিনকে গালাগাল করেন রবিউল। এ সংক্রান্ত কোনো সংবাদ প্রকাশ হলে ওই সাংবাদিককে হত্যা করে লাশ গুমেরও হুমকি দেন রবিউল, তার বাবা ও কয়েক সহযোগী।
এ ঘটনায় গিয়াস উদ্দিন সোনাগাজী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করছেন।
রবিউলের সম্পৃক্ততা প্রকাশের পর শনিবার রাতে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মাহমুদুর রহমান।
তিনি বলেন, বিষয়টি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে জানানো হয়েছে। রবিউল নোটিসের জবাব দিলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এস এম অনীক চৌধুরী বলেন, “ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওই তিন পরীক্ষার্থী নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেবেন। ছাত্রীদের কেউ বাধা দিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
