২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮ কার্তিক ১৪৩৩

পাটের ভাল দাম পেয়ে গোপালগঞ্জে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

প্রকার ভেদে গোপালগঞ্জে প্রতিমণ পাট ৪ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 23 Oct 2026, 02:50 PM

Updated : 23 Oct 2026, 02:50 PM

গোপালগঞ্জে পাটের বাম্পার ফলনের পর বাজারে ভাল দাম পেয়ে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক দেখা দিয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রতিমণ পাট ১ থেকে দেড় হাজার টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

চাষিরা বলছেন, এ বছর মজুদদাররা প্রতিযোগিতা করে পাট কিনে মজুদ করছেন। এছাড়া পাটকলগুলোও পাট কিনছে। ফলে বাজারে পাটের আমদানি ও বেচা-কেনা বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে দাম বেড়ে প্রকার ভেদে প্রতিমণ পাট ৪ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ৫ হাজার ৩০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন, প্রতি মণ পাট উৎপাদনে কৃষকের ৩ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকা খরচ হয়েছে। ফলে পাট বিক্রি করে কৃষক মণপ্রতি বারোশ থেকে পনেরোশ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।

পাটের সুদিন ফিরছে- এমন আশা জানিয়ে তিনি বলেন, লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে এ বছর জেলায় ১ হাজার ৬৯৬ টন পাট বেশি উৎপাদিত হয়েছে। পাটের দাম এভাবে অব্যাহত থাকলে আগামী বছর এ জেলায় পাটের আবাদ আরও বৃদ্ধি পাবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর গোপালগঞ্জে জেলার পাঁচ উপজেলায় ২৪ হাজার ৮৫৯ হেক্টর জমিতে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় ৫০ হাজার ৯৬০ টন।

তবে কৃষক লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৮২৭ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের আবাদ বৃদ্ধি করে। এতে জেলায় মোট পাটের আবাদ হয় ২৫ হাজার ৬৮৬ হাজার হেক্টর জমিতে। উৎপাদিত হয় ৫২ হাজার ৬৫৬ টন পাট। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে জেলায় ১ হাজার ৬৯৬ টন পাট বেশি উৎপাদিত হয়েছে।

কাশিয়ানী উপজেলার বরাশুর গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান শেখ বলেন, “এ বছর ১৮০ শতাংশ জমিতে পাটের আবাদ করেছিলাম। আমি নিজেই মাঠে কাজ করেছি। তাই ৫২ মণ পাট উৎপাদনে মাত্র ৫০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

এ বছর প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে, তাই পাট জাগ দিতে সমস্যা হয়নি। তারপর ভাল দামও পাচ্ছি। গত বছরের তুলনায় প্রতিমণ পাটে হাজার থেকে দেড় হাজার লাভ পাচ্ছি। এমন দাম থাকলে আগামীতে লাভজনক পাটের আবাদ বাড়াব।

গোপালগঞ্জ আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু সুফিয়ান জানিয়েছেন গত জুন মাসে ১৯৪ মিমি, জুলাই মাসে ৬৩৬ মিলি, আগস্ট মাসে ৩৯০ মিমি ও সেপ্টেম্বর মাসে ১৩১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। গত ৪ মাসে মোট ১ হাজার ৩৫১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি পাট চাষীদের পাট জাগ দিতে সহায়তা করেছে।

শুক্রবার কাশিয়ানী উপজেলার সবচেয়ে বড় পাটের হাট ভাটয়াপাড়া বাজারে গিয়ে কথা হয় আড়তদার শামীম শেখের সঙ্গে।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, মৌসুমের শুরুতে মিলগুলো পাট কেনা ও টাকা পেমেন্ট বন্ধ করে দেয়। এছাড়া মজুদদাররাও পাট থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এ কারণে ৩ দফা পাটের দাম পড়ে যায়। তখন প্রতিমণ পাট ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল।

“তবে এখন পাটকল ও মজুদদাররা ৪ হাজার ৭০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫ হাজার ৩০০ টাকা দরে পাট কিনছেন। এ কারণে বাজারে পাটের আমদানি বেড়েছে। ক্রয়-বিক্রয়ও হচ্ছে প্রচুর।”

ওই বাজারের আড়তদার আলীয়ার রহমান বলেন, ভাটিয়াপাড়া বাজারের অবস্থান গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও নড়াইল জেলা সীমান্তে। এখানে নৌ, রেল ও সড়ক পথে যোগাযোগ নেটওয়ার্ক রয়েছে। তাই ৩ জেলার পাট এ বাজারে আমাদানি হয়।

হাটে পাট বিক্রি করতে আসা নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলার চাঁচইড় গ্রামের কৃষক মো. পান্নু শেখ বলেন, “এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তারপর ভাল দামও পাচ্ছি। এতে আমি সন্তুষ্ট।”

ভাটিয়াপাড়া বাজারের পাট ও ভূষি মাল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি নিয়ামূল হক শরীফ বলেন, এ বাজারে ১২০টি পাটের আড়ত ও অন্তত একশ গুদাম রয়েছে। শুক্র ও সোমবার হাট বসে। ভোর থেকে পাটের কেনা বেচা শুরু হয়ে বেলা ১০টার মধ্যে শেষ হয়ে যায়।

বাজার ভালো থাকায় প্রতিহাটে এখন ১ হাজার থেকে ২ হাজার মণ পাট বেচা-কেনা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।