১৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১ কার্তিক ১৪৩৩

রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালির প্রতিবাদে কক্সবাজারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’

প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করে জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 16 Oct 2026, 07:28 PM

Updated : 16 Oct 2026, 07:28 PM

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে কালি লেপনের প্রতিবাদে কক্সবাজারে গান ও কবিতায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা।

শুক্রবার বিকালে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ‘শতকণ্ঠে রবীন্দ্র-নজরুল’ শিরোনামে এ প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশের আয়োজন করে জেলার সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ।

জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া আয়োজনে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘সংকোচের বিহ্বলতা নিজেরই অপমান, সংকটের কল্পনাতে হইয়ো না ম্রিয়মাণ’ এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘দাও শৌর্য, দাও ধৈর্য, হে উদার নাথ, দাও প্রাণ’ গান দুটি পরিবেশন করেন শিল্পীরা। এ সময় কবিতা পাঠেরও আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠান আয়োজকরা বলেন, রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপে তার সৃষ্টিকে মুছে ফেলা যায় না। বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অজ্ঞতা ও সংকীর্ণতাই প্রকাশ পায়। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এসবের প্রতিবাদ জানানো প্রয়োজন।

ঝিনুকমালা খেলাঘর আসরের সভাপতি আশরাফুল হুদা সিদ্দিকী জামশেদ বলেন, “বিশ্বকবির ছবিতে কালি দেওয়াটা আসলে কবির কিছু যায় আসে না, বরং যে বা যারা দিয়েছে, সেটা তাদের নিজেদের অপমান। এতে রবীন্দ্রনাথের কিছু হয় না।”

তিনি বলেন, “এসব করার মধ্য দিয়ে তারা সমাজ ও দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। কিন্তু যারা রবীন্দ্রনাথকে ভালোবাসে, তারা সুরের মধ্য দিয়ে এর অসুরতাকে প্রতিহত করে।”

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী কক্সবাজার জেলা সাধারণ সম্পাদক সৌরভ দেব বলেন, “রবীন্দ্রনাথের ছবিতে কালি লেপনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কারাভোগ তিনি চান না। বরং তাদের রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য পড়ার সুযোগ দেওয়া উচিত।

“তারা রবীন্দ্রনাথ না পড়েই এসব করেছে। সুর, কবিতা, কবিত্ব- এ ধরনের সৃষ্টিশীল বিষয়গুলোকে তো সীমান্তের কাঁটাতার দিয়ে বিচার করা যায় না। এসব তো পাখির মতো, দুনিয়াজুড়ে উড়ে বেড়ায়।”

সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর জেলা সাধারণ সম্পাদক মনির মোবারক বলেন, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিগুলো বিভিন্ন সময়ে নানা কৌশলে হাজির হয়। অনেক সময় নিজেদের অজ্ঞতার প্রকাশ ঘটায় এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে।

“তাই আমাদের প্রতিবাদ সুরের মাঝে। আমরা রবীন্দ্রনাথের সুর আর নজরুলের সুরে আমাদের প্রতিবাদ জানিয়েছি।”

জেলা খেলাঘরের সভাপতি সুবিমল পাল পান্না বলেন, কালি লেপে কোনো সৃষ্টিকে ধ্বংস করা যায় না। মননে সাম্প্রদায়িকতা বাসা বাঁধলে মানুষ এ ধরনের কাজ করে।

সংস্কৃতিকর্মী কানন বড়ুয়া বিশাল বলেন, “আপনি যত বেশি ধারণ করবেন, তত বেশি সমৃদ্ধ হবেন। বিশ্বকবিকে ধারণ করতে না পারা কারও ব্যর্থতা হতে পারে, কিন্তু সামগ্রিক অর্থে এটি গৌণ।”

আয়োজকেরা বলেন, রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের গান-কবিতার মধ্য দিয়ে অসহিষ্ণুতা ও এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ জানানোই ছিল এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।